English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান

ছাত্র বিক্ষোভে হামলার বিচার হতেই হবে

মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য

  • কূটনৈতিক প্রতিবেদক   
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাশেলেট

লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মতো মহানুভবতা ও দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্যের বিপরীতে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাশেলেট। গতকাল সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার সময় তিনি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এমন হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ২২০ জনেরও বেশি ব্যক্তির মৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়েও উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের আরো কাজ করা উচিত।

মিশেল ব্ল্যাশেলেট বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয়দান ও দারিদ্র্য বিমোচনে যে বাংলাদেশের প্রশংসা করতে হয় সেই দেশেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ছাত্র বিক্ষোভে হামলা, গণমাধ্যমকর্মীরা আক্রান্ত, গ্রেপ্তার, মানহানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এই সহিংসতার হোতাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, যন্ত্রণাদায়ক প্রতিবেদনগুলো থেকে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০টিরও বেশি হত্যা, কয়েক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মাদকসংক্রান্ত বিষয় মৃত্যুদণ্ড বা ডেথ স্কোয়াডের মাধ্যমে নয় বরং বিশ্বের সর্বত্র স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুযোগের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে সবচেয়ে ভালোভাবে মোকাবেলা করা হয়।

মিশেল ব্ল্যাশেলেট গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল সোমবার প্রথম বক্তব্যে তিনি ভেনিজুয়েলা, নিকারাগুয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমার, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ভারত, নিয়ন্ত্রণ রেখার দুই পাশে কাশ্মীর পরিস্থিতি, আফগানিস্তান, উত্তর কোরিয়া, চীন, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, ইয়েমেন, সৌদি আরব, ইরাক, বাহরাইন, ইরান, মিসর, ফিলিস্তিন, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, মালি, ক্যামেরুন, সুদান, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া, তুরস্ক, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার ইস্যুতে উদ্বেগ জানান।

মিশেল ব্ল্যাশেলেট বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিছু দেশে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু প্রতিটি রাষ্ট্রেরই উচিত মানবাধিকার সমুন্নত রাখা। জনগণ অধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও শান্তির মতো অভিন্ন এজেন্ডা চায়।

শেষের পাতা- এর আরো খবর