English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন খসড়া মন্ত্রিসভায়

গৃহীত হয়নি ৬ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ

  • আশরাফুল হক   
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

দেশে প্রকৌশল কাজের কোনো সমন্বয় নেই। গবেষণা করে যেসব ফল পাওয়া যায় তা বাণিজ্যিকীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আমদানীকৃত প্রযুক্তি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে একক কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান নেই। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য সরকার প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়গুলোকে একটি আইনি কাঠামো দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১৮-এর প্রাথমিক খসড়া করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিলের খসড়া আইন নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছিল। ৩০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের মতামত বা সুপারিশ পাঠালেও ছয়টি মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করেনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

এ অবস্থায় খসড়াটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে আজ সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা, ২০১৮-এর খসড়াও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এই কাউন্সিল কাদেরকে নিয়ে গঠন করা হবে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকৌশল পেশাগুলোর অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, এসংক্রান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গভর্নিং বডি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রবাসী খ্যাতনামা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদেরও এ কাউন্সিলে বিশেষজ্ঞ প্যানেলে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু পরিবর্তনসহিষ্ণু প্রযুক্তি কার্যকর করবে। এই কাউন্সিল প্রযুক্তি ও প্রকৌশল গবেষণার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে। গবেষণার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করবে। কাউন্সিল পরিচালনা করবেন চেয়ারম্যান। প্রকৌশল বিষয়ে যাঁর পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে এবং এই পেশায় ন্যূনতম ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তি এই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপসচিব অথবা সমপদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হবে।

একজন করে পুরকৌশলবিদ, যন্ত্রকৌশলবিদ, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশলবিদসহ কাউন্সিলের গভর্নিং বডিতে পাঁচজন সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া সরকার মনোনীত পাবলিক প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, বেসরকারি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ন্যূনতম যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধিকে গভর্নিং বডিতে রাখা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদ হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, পানিসম্পদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, শিল্পসহ ৩০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থা এই কাউন্সিলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকবে। এসব সংস্থাগুলোকে তিনটি তফসিলে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আইনের খসড়ায় প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদের যেকোনো মনোনীত সদস্যকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খসড়ার এ ধারাটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল; কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হচ্ছে, এটি সরকারের ক্ষমতা। এ কারণে বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, তিন মাসে গভর্নিং বডির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ছয় মাসে সভা অনুষ্ঠানের সুপারিশ করে; কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় তা আমল নেয়নি। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের অধিদপ্তর স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরকে আইনটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আবহাওয়া অধিদপ্তরকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাউন্সিলের সচিব নিয়োগের ধারাটি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাউন্সিলের গভর্নিং বডিতে একজন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং একজন কৃষিকৌশলবিদকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু এসব সুপারিশ গৃহীত হয়নি।

অল্প দামের পরিবহন সেবার বিস্তার ঘটাবে মোটরসাইকেল নীতিমালা

দেশে অল্প দামের পরিবহন সুবিধার বিস্তার ঘটাতে জাতীয় মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা, ২০১৮-এর খসড়া করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। খসড়ায় বাংলাদেশকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশ উৎপাদনের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে। নীতিমালায় ২০২১ সালের মধ্যে মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ লাখ এবং ২০২৭ সালে ১০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দামে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মোটরসাইকেল রপ্তানি করা হবে। জিডিপিতে মোটরসাইকেলশিল্পের অবদান ০.৫ শতাংশকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বর্তমানে মোটরসাইকেল খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান পাঁচ লাখ লোকের। এটা ২০২৭ সালের মধ্যে ১৫ লাখে উন্নীত করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১৪ লাখ। স্থানীয়ভাবে মানসম্মত যন্ত্রাংশ উৎপাদন সম্ভব হলে মোটরসাইকেলের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর