English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আ. লীগে মনোনয়ন কোন্দল মামলা জটিলতায় বিএনপি

  • পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও    
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নেতাকর্মীদের নতুন করে সংগঠিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। অবশ্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যথেষ্ট আগে থেকে নিজেদের দল গুছিয়ে রাখলেও নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্তঃকোন্দল তত প্রকাশ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত নিরসন করা না গেলে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে খুব একটা সুবিধাজনক অস্থায় নেই বিএনপিও। মামলা জটিলতায় বেশির ভাগ নেতাকর্মীকে মাঠপর্যায়ে দেখা যায় না। তবে সন্ধ্যার পর জেলার দলীয় কার্যালয়ে হাতে গোনা কয়েকজন নেতাকর্মী আসা-যাওয়া করে। একক আধিপত্য ও পারিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের কারণে অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতা বিএনপিতে সক্রিয় নন।

১৯৮৪ সালে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলাকে ভেঙে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও তিনটি জেলা করা হয়। ঠাকুরগাঁও জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এ জেলায় জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ মুসলমান, ২৪ শতাংশ হিন্দু ও খ্রিস্টান। আদিবাসী ও অন্যান্য ১ শতাংশ। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চলছে নানা সমীকরণ। প্রার্থিতা নিয়ে এই জেলার তিনটি আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই নিয়ে সংকট দেখা দিতে পারে। এমন অভিমত খোদ দলের নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক বিভেদ অনেকটা গোপন। ঠাকুরগাঁও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এখানে তাঁর একক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু পুরো জেলায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক দুর্বল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আর বিএনপি আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ ও ঠাকুরগাঁও-২-এ বর্তমানে আওয়ামী লীগের এমপি এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী এমপি।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। তবে মাঝখানে ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। পরে আবারও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে আসে। ক্ষমতায় আসার পর দলটির বেশির ভাগ নেতা নিজেদের আখের গোছাতে তৈরি করেছেন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডারবাজি, জমি দখল, বাজার দখল করে অনেকে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জন করতে পারায় দলটিতে বর্তমানে কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। এ কারণে সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রুপ। গ্রুপিংয়ের কারণে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠাঁই হয়নি নিবেদিতপ্রাণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকে মাঠে নেমেছেন। এ অবস্থায় যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা না গেলে আগামী নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

তবে এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগে থেকেই দল গুছিয়ে রেখেছে বিএনপি। এরই মধ্যে জেলা, উপজেলা, পৌর, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের কাজও প্রায় শেষ করা হয়েছে। ভেতরে ভেতরে কোন্দল থাকলেও তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। পুলিশ আতঙ্কে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও জেলা কার্যালয়ে সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নিজ আসন হিসেবে যেভাবে চাঙ্গা হওয়ার কথা, সেভাবে সাধারণ কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। আগামী নির্বাচনে মির্জা ফখরুল এ আসন থেকে নির্বাচন করার কথা। এ আসনে বিএনপির আর কোনো প্রার্থী না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।

এ আসনে মাঝেমধ্যে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় এরশাদের জাতীয় পার্টিকে। আগামী নির্বাচনে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিলে এই আসনে একক প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। ফলে দলটির তরুণ নেতারা গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের কাছে ছুটছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ছাড়াও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগে মাঠে নেমেছেন। তাঁরা হলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটো, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইন্দ্রনাথ রায়, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী ও যুব মহিলা লীগ সভাপতি তাহমিনা আক্তার মোল্লা। মনোনয়নপ্রত্যাশী এই প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মন্তব্য, বর্তমান সংসদ সদস্য ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাঁকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে জয়ী করাতে বেগ পেতে হবে।

এ ব্যাপারে রমেশ চন্দ্র সেন কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি তৃতীয়বারের মতো এই আসনে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জনগণ ও দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মন্দির, মসজিদ স্থাপনসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এসব কাজের সুফল এ জেলার মানুষ ভোগ করছে। প্রধান মন্ত্রীর ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে তিনি সফল হয়েছেন। সারা জীবন মানুষের সেবা করতে আগামীতেও তিনি নির্বাচিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঠাকুরগাঁও-২ আসন জেলার বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর উপজেলা ও রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ও কাশিপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনটি জেলার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলো সক্রিয় না থাকায় গত ৩০ বছর ধরে নিবাচিত হয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম। এই আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে পোস্টার, ব্যানার, মোবাইলে এসএমএস, শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণ করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে এ আসনে এবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার প্রার্থী হতে পারেন। এর বাইরে এ আসনে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এখনো মাঠে দেখা যায়নি।

এ আসনে আওয়ামী লীগের যেসব প্রার্থী গণসংযোগ করছেন তাঁরা হলেন বর্তমান এমপি আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীর কুমার রায় এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আলম টুলু।

এ আসনে ৩০ বছর ধরে দবিরুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। স্বাধীনতাযুদ্ধে আমার পরিবারের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বারবার নির্বাচিত হয়ে আমি এলাকার উন্নয়ন করে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি। গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা আছে বলেই এ এলাকার মানুষ আমাকে বারবার এমপি নির্বাচিত করেছে। আগামী নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী হয়ে নৌকা মার্কা নিয়ে আবারো বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

ঠাকুরগাঁও-৩ পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল আসনে আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ চাঙ্গা করতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও বর্তমানে এই আসনটি রয়েছে মহাজোটের ওয়ার্কার্স পার্টির দখলে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা জাহান লিটা (এমপি), জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক এবং রানীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যন অধ্যাপক সহিদুল হক।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সেলিনা জাহান লিটা জানান, তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দলের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদে রয়েছেন। তিনি নিজ এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছেন। আপদে-বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এ কারণে দলের নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষের সমর্থনে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। তাঁর বাবা মরহুম আলী আকবর এই আসনের সাবেক এমপি ছিলেন। সব দিক বিবেচনা করে এবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইবেন।

এদিকে ঠাকুরগাঁওকে আওয়ামী লীগের দুর্গ বলা হলেও ভোটের রাজনীতিতে এবার বিএনপিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করতে হচ্ছে। আগে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি। এবার তিনি বিএনপির মহাসচিব। অন্যবার তিনি একটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হলেও এবার ঠাকুরগাঁও-১ ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও ঠাকুরগাঁও সদর আসন ছাড়া অন্য দুই আসনে বিএনপির তেমন জনপ্রিয়তা নেই। তার পরও ধরে নেওয়া হচ্ছে, এবার তিনটি আসনেই লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর আসনে বিএনপি আগের তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে পৌরসভা নির্বাচন ও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। ওই দুটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয় লাভ করেছে। মূলত আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলে এমনটি হলেও নির্বাচনের আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও সফরকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হন বিএনপির প্রার্থীরা। এখন পর্যন্ত নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রাখায় এ আসনে বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত।

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান জানান, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। দলের নেতাকর্মীরা জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথার বাইরে যায় না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান। এ জেলার মানুষ তাঁকে সম্মান করে, ভালোবাসে। তাই এ আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হবে।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থী হতে পারেন। সম্প্রতি এ আসনের বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলায় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল। সে সময় নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুলকে এ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দাবি জানায়। তবে এ ব্যাপারে মির্জা ফখরুলের সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এ আসনে মির্জা ফখরুলের বাইরে আরো দুজন বিএনপি নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে। তাঁরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা ও বিএনপির নতুন মুখ চিকিৎসক ডা. আব্দুস সালাম। তবে বিএনপির এই দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর কেউ এলাকায় বসবাস করেন না। মাঝেমধ্যে এলাকায় এলে দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর নেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপি সক্রিয় নয়। এ আসনে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পোক্ত করতে পারেনি। তবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকটা কৌশলে নির্বাচনী মাঠ চাঙ্গা রাখায় তৎপর বিএনপি প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ। দলীয় কর্মীদের নিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডা থেকে শুরু করে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে তাঁকে। জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান, তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ চায় এবার যেন তিনি নির্বাচন করেন। বিএনপি থেকে তিনি মনোনয়ন পেলে এবার এই আসনে বিজয় নিশ্চিত। তাই তিনি এবার দলের মনোনয়ন চাইবেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এরশাদের জাতীয় পার্টির কার্যক্রম চোখে পড়লেও অন্য বাম দলগুলোর কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি। জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাজিউর রহমান স্বপন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে জেলায় জাতীয় পার্টির অবস্থান যথেষ্ট পোক্ত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে উঠান বৈঠক ও সভা করছেন তাঁরা। দলীয় কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ এখন জাতীয় পার্টিতে বিশ্বাসী। দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবার জাতীয় পার্টি এই জেলায় একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তিনি দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার হয়ে সবাই কাজ করবে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও-২ ও ৩ আসনেও জাতীয় পার্টি বর্তমানে যথেষ্ট সক্রিয়। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে এখনো কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি হাফিজউদ্দীন আহম্মদ এবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পীরগঞ্জ উপজেলা সরকারি কলেজ মাঠে এক জনসভায় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। হাফিজউদ্দীন আহম্মদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির একজন নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে আসছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ এবার জাতীয় পার্টির লাঙল মার্কাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

ঠাকুরগাঁও-১ ও ২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্ির্ট সক্রিয় না হলেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মহাজোটের হয়ে নির্বাচনে জয়ী হন দলটির প্রার্থী ইয়াসিন আলী। এ কারণে নিজের দলকে যথেষ্ট সুসংগঠিত করেছে তিনি। আগামী নির্বাচনে আবারও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান তিনি।

► ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ নৌকাকেই ক্ষমতায় আনবে ► মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে, আগামী নির্বাচনেই প্রমাণ

শেষের পাতা- এর আরো খবর