English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

রাজবাড়ী ও সিরাজগঞ্জে তিন জনের রহস্যজনক মৃত্যু

  • রাজবাড়ী ও শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

প্রতীকী ছবি

রাজবাড়ী জেলা শহরে বাসচালকের এক সহকারী এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনরা দাবি করেছে, তাদের পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে দুটি মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় পুলিশ ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামনগর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এক গৃহবধূ হতাশা থেকে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার দাবি করেছে।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলা সদরে নিহত বাস হেলপারের নাম শিপন সেখ (১৮)। তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের সামাদ সেখের ছেলে।

শিপনের মা সাবিয়া বেগম জানান, ১৫ দিন আগে ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ির পানির মোটর চুরি হয়। এ ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর ছেলে শিপনকে ডেকে নিয়ে চাপ দিলে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে চুরির ঘটনায় জড়িত একই গ্রামের শান্ত, রাকির, সোহান, আদর ও সোহানুরের নাম প্রকাশ করেন। এরপর মোটরটি ফেরত দেওয়ার শর্তে শিপনকে ছেড়ে দিলে তিনি নিজ বাড়িতে ফেরেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিপন তাঁর মোবাইল রিচার্জ করার জন্য বাড়ির বাইরে গিয়ে আর ফেরেননি। গতকাল বুধবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি কড়ই গাছের ডালে শিপনের মৃতদেহ ঝুলতে দেখা যায়। সাবিয়া বেগম অভিযোগ করেন, অন্য চোরদের নাম প্রকাশ করে দেওয়ায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর ছেলেকে হত্যা করে লাশ ওই গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

গৃহবধূর আত্মহত্যা : রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গৃহবধূ ফরিদা বেগম (৪০) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করে পরিবার। তাঁর স্বামীর নাম রশিদ খাঁ। তাঁর চার ছেলে-মেয়ে রয়েছে। ফরিদার ভাই ফৈজদ্দিন খাঁ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে ফরিদা অসুস্থ। তিনি মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন। তাই হতাশা থেকে তিনি কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার দারিয়াপুর নতুনপাড়া মহল্লায় গৃহবধূ কমেলা বেগমের (৫০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি মহল্লার আবু তাহের প্রামানিকের স্ত্রী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, একই মহল্লার আব্দুর রউম মোল্লা নামের এক গুড় ব্যবসায়ী কমেলার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। এ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। টাকা আদায় করতে কমেলা গত মঙ্গলবার সকালে রউমের বাড়িতে যান। সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন তাঁকে খুঁজতে গিয়ে দেখে তাঁর মরদেহ রউমের বাড়ির একটি গাছের সঙ্গে ঝুলছে। এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ, রউম মোল্লা কমেলাকে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান। শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই জানান, সুরতহাল রিপোর্টে মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা বোঝা যাবে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর