English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

এমপি রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর

টাঙ্গাইল শহরে উত্তেজনা অস্ত্রসহ আটক ১১

  • টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

টাঙ্গাইলের এমপি রানার সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়নি। টাঙ্গাইল আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানম গতকাল বুধবার তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই মামলায় সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

এমপি রানার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জামিন আবেদন করায় গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষে গতকাল আদেশের দিন ধার্য করা হয়। এদিন জামিন আবেদনের শুনানি ঘিরে এমপির পক্ষের ও বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরের আশপাশে অবস্থান নেয়। আদালত চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শহরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আদালত চত্বরে প্রবেশপথে লোকজনকে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে এমপি রানার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় পুলিশ অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করে।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম, টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি সায়েদুর রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। এমপির নির্বাচনী এলাকা ঘাটাইল থেকে আসা এবং টাঙ্গাইল শহরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক এ সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিল। এমপি রানা তাদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। সকাল ১১টার দিকে এমপির সমর্থকরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার ও এমপি রানার মুক্তির দাবিতে শহরের শামসুল হক তোরণ এলাকায় অবস্থান নেয়। আদালতে বিচারিক কাজ শুরু হলে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আদালত চত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখানে ধাওয়াধাওয়ি হয়।

অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি এমপি রানা ও তাঁর তিন ভাইসহ আসামিদের ফাঁসির দাবিতে আদালত চত্বর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

দুপুরের দিকে শামসুল হক তোরণ ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় এমপির সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়াধাওয়ি হয়। এ সময় পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে। অস্ত্র-গুলিসহ দুজনকে আটক করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ একই এলাকা থেকে আরো ৯ জনকে আটক করে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে শহরে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এমপির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল গেট এলাকার এক দোকান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিনসহ দুজনকে আটক করা হয়।

ঘটনার পরপর একই এলাকা থেকে আরো ৯ জনকে আটক করা হয় বলে জানান টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি।

মুক্তিযোদ্ধা ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি কলেজ পাড়া এলাকায় নিজ বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এমপি রানা ও তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার নাম বেরিয়ে আসে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে এমপি রানা ও তাঁর তিন ভাইসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

শেষের পাতা- এর আরো খবর