English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে কূটনীতিকদের জানাল বিএনপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে ক্ষমতাসীনদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং এই মামলার চলমান বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কূটনীতিকদের জানিয়েছে বিএনপি। হামলার পর চারদলীয় জোট সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও কূটনীতিকদের জানায় দলটি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কূটনীতিকদের এসব বিষয়ে জানান দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা। কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সরকার কারাগারে আদালত স্থাপন করা অসাংবিধানিক বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের বলা হয়েছে। দলটি বলেছে, সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে আদালত নিচ্ছে। এটা একটি ক্যামেরা ট্রায়াল। এ পদক্ষেপ সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী। তবে কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে কেউ কোনো কথা বলেননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।

কূটনীতিকদের এই ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, স্পেন, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, নরওয়ে, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, ইইউসহ ২৪টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জানা গেছে, লিখিত আকারে বিএনপির বক্তব্য কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৭ সালে ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের জড়িয়ে তিনি এখন বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গোটা বিষয়টাকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে দমন ও দুর্বল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুধু তারেক রহমানকে জড়িত করার জন্য মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অবর্ণনীয় অত্যাচার করা হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় একজন নেতাকে (আবদুল কাহার আখন্দ) তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মামলার অন্যতম আসামিকে (মুফতি হান্নান) দিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। এই স্বীকারোক্তিও হান্নান পরে প্রত্যাহার করে সরকারের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছিল। এখন তারা (সরকার) বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পূরণের অপচেষ্টায় রত হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট মহানগর আওয়ামী লীগের নির্ধারিত সমাবেশ মুক্তাঙ্গন থেকে পরিবর্তন করে পুলিশকে না জানিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকারের সময়ে ইন্টারপোল, এফবিআই ও অন্যান্য তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনাকে বহনকারী গুলিবিদ্ধ গাড়িটি আলামত হিসেবে পরীক্ষা করতে চাইলে শেখ হাসিনা তাতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তাঁকে বহনকারী গাড়িতে কয়েকটি বুলেট ছোড়া হয়েছে এবং তা গাড়ির কাচ ও চাকায় আঘাত করেছে। অথচ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেনেড হামলা ছাড়া গুলি ছোঁড়ার কোনো কথারই উল্লেখ নেই। এই মামলায় শেখ হাসিনা ২ নম্বর উইটনেস সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু তিনি কোর্টে আসেননি। প্রথম সাক্ষী ছিলেন বাদী এসআই শরীফ আহমেদ। তারপর শেখ হাসিনা। মূল সাক্ষী তো তিনিই। সেই সাক্ষী কিন্তু আদালতে আসেন নাই।

ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বিএনপির কূটনীতিক উইংয়ের সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, রুমিন ফারহানা, তাবিথ আউয়াল, মীর হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

শেষের পাতা- এর আরো খবর