English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কলকাতায় ফ্লাইওভার ধসে নিহত ৫

অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ভারতের কলকাতার দক্ষিণাঞ্চলীয় নয়া আলীপুর শহরে ৪০ বছরের পুরনো মাঝেরহাট ফ্লাইওভারের মাঝের অংশ গতকাল বিকেলে হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ছবি : এএফপি

কলকাতায় একটি ফ্লাইওভার ধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। ফ্লাইওভারের ভাঙা অংশের নিচে একটি মিনি বাস, তিনটি প্রাইভেট কার, দুটি ট্যাক্সিক্যাব এবং দুটি মোটরসাইকেল চাপা পড়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব যানবাহনের ভেতরে আরো অনেকেই আটকা পড়ে আছে। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ করেই মাঝেরহাট ফ্লাইওভারের মাঝের অংশ ভেঙে পড়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর উদ্ধারকাজের গতি কিছুটা কমে আসে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কলকাতার দক্ষিণাঞ্চলীয় নয়া আলীপুর শহরের এ ফ্লাইওভারটি অনেক পুরনো। এটি কলকাতার সঙ্গে বুজবুজ শহরের সংযোগ ঘটিয়েছে। ৪০ বছরের পুরনো এ ফ্লাইওভারে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে বেশ কয়েকবার পূর্ত মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, গতকাল দিনের ব্যস্ত সময়ে ফ্লাইওভারের যে অংশ ধসে পড়ে, সেখানে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক জায়গায় বিম বেরিয়ে এসেছিল। বলা হচ্ছে, এসব কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ধসে পড়ার সময় ফ্লাইওভারের ওপর বেশ কয়েকটি যানবাহন ছিল।

স্থানীয় গণমাধ্যম আরো জানায়, প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। আহত অবস্থায় প্রায় ২৫ জনকে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ধংসস্তূপের নিচে অন্তত দুজনের আটকে পড়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

ঘটনার পর দেখা যায়, বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকজনের রক্তাক্ত দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, হঠাৎ বিকট শব্দে ব্রিজের মাঝের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে ছিটকে পড়ে ব্রিজের ওপরে থাকা গাড়িগুলো।

দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন শ্রমিক ফ্লাইওভারের ওপর কাজ করছিলেন এবং ফ্লাইওভারের নিচে শ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার জায়গা ছিল। সেখানকার কেউ চাপা পড়েছেন কি নাতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে রেলপথও আছে। ঘটনার সময় সেতু থেকে খানিকটা দূরেই একটি ট্রেনের অবস্থান ছিল। আরেকটু এদিক-সেদিক হলেই ওই ট্রেনও দুর্ঘটনার শিকার হতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আহত এবং আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইওভারের আশপাশে বেশ কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবন আছে। তবে হতাহতের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার আশঙ্কা নেই। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, এই সময়, দ্য হিন্দু।

শেষের পাতা- এর আরো খবর