English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

শ্রীনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওষুধ তৈরি

ইউকে হেলথ কেয়ার ল্যাবরেটরিজকে সাজা

  • মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

শ্রীনগরে ইউকে হেলথ কেয়ার ল্যাবরেটরিজে ওষুধ বানানো হয় এই পরিবেশে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ অবৈধ প্রক্রিয়ায় ওষুধ উৎপাদন করায় ইউকে হেলথ কেয়ার ল্যাবরেটরিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও জাহিদুল ইসলাম। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশও দেওয়া হয়েছে। শ্রীনগর-নওপাড়া সড়কের উত্তর পাশে ছোট তারাটিয়ায় সাইনবোর্ডবিহীন একটি দ্বিতল আবাসিক ভবনে চলছিল ওই ওষুধ তৈরির কাজ। প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইউএনও সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এই জরিমানা করেন। এ ছাড়া ওষুধ কম্পানিটির লাইসেন্স বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলার স্যাঁতসেঁতে কয়েকটি কক্ষে বসানো হয়েছে ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট তৈরির মেশিন। অপরিচ্ছন্ন রুমের পাশাপাশি মেশিনগুলো ছিল ধুলা-ময়লায় ভরা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাকির হোসেন বলেন, কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে। তাই এ অবস্থা। কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। দোতলায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন মহিলা ময়লা কাপড় পরে ওষুধের কৌটায় আঠা দিয়ে লেবেল লাগাচ্ছে আর সেগুলো পুরনো ময়লা বস্তার ভেতর ভরছে। এ ছাড়া বাথরুমে রাখা হয়েছে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল। ওষুধ উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানটির লিকুইড সেকশন, ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল তৈরির সেকশন, কিউসি ইকুইপমেন্ট সেকশনসহ পুরো ভবনের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।

পরিবেশ সার্টিফিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে মালিক জাকির হোসেন বলেন, ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান, তাই পরিবেশ ছাড়পত্র প্রয়োজন হয় না। এভাবে নানা অনিয়মের মধ্যে ২০১০ সাল থেকে ব্যবসা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সার্টিফিকেটের দ্বিতীয় লাইনে ইউনানি লেখা ফ্লুইড দিয়ে মুছে আয়ুর্বেদিক লেখা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ সার্টিফিকেটে উৎপাদন কর্মকর্তা হিসেবে কবিরাজ মো. হায়দার আলী, রেজিঃ নং-এ-৬০৬ এবং মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা হিসেবে মো. গোলাম মোস্তফা বি ফার্ম-এর নাম রয়েছে। বাস্তবে সেখানে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। আর মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা স্বয়ং মালিকের ছোট ভাই।

ইউকে হেলথ কেয়ার ল্যাবরেটরিজের তৈরি করা ওষুধের মধ্যে রয়েছে ইউকে সেনেগ্রা-৫০০, ইটো সেক্স-২৫০ মিলিগ্রাম, অ্যারাকটিন, নরকট, বেবি-২, বিজি গোল্ড, বিজি ভিট, স্যানবোন-ডি, স্যাকল-এম, কনভিট প্লাস, সঞ্জীবনী, ডোসা-১০, ইটোরেক্স গোল্ড, অমৃত রস, হিমোনিক, ব্রুনবেটসহ ৭০ প্রকারের ওষুধ। এসব ওষুধ ঢাকার মিটফোর্ডসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

ওষুধগুলো মানসম্মত কি না জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন বলেন, বিষয়টি ড্রাগ সুপারের অধীনে। তবে কোনোভাবেই প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওষুধ উৎপাদন অবৈধ।

অতিরিক্ত ড্রাগস সুপার ইকবাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কম্পানিটির লাইসেন্স হালনাগাদ আছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ওষুধ উৎপাদন হলে তা দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। অন্য কোনো বিষয়ে অনিয়ম হলে আমরা তা দেখব।

জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, শ্রীনগরে এ ধরনের কোনো ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও জাহিদুল ইসলাম বলেন, কারখানায় নানা অনিয়মের মধ্যে ওষুধ তৈরি হচ্ছিল। মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা ও জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন ওষুধ। সে ওষুধ তৈরিতে যদি অনিয়ম থাকে, তাহলে মানুষের কী হবে! ওই কারখানা থেকে কিছু ওষুধের স্যাম্পল নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো ভেজাল কি না, পরীক্ষার জন্য জেলা ড্রাগ সুপারের মাধ্যমে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর