English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সংবাদ সম্মেলন করে এমপি শম্ভুর প্রতি অনাস্থা

বরগুনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা

  • বরগুনা প্রতিনিধি   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দল, এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের বেশির ভাগ নেতা। শম্ভুর বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক কারবার ও অপরাজনীতির মতো গুরুতর অভিযোগ এনে তাঁর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁকে এলাকায় অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগ বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি সাবেক এই উপমন্ত্রীর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথের অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক বাণিজ্য ও অপরাজনীতির খতিয়ান তুলে ধরেন দলের নেতারা।

অবশ্য এই সংবাদ সম্মেলনকে দলের গঠনতন্ত্র ও আদর্শ পরিপন্থী আখ্যায়িত করেছেন সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবীর। তাঁর পক্ষে বক্তব্যটি পড়ে শোনান সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সুদীর্ঘ বছর ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে দলকে পারিবারিকীকরণ, সীমাহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দলের ত্যাগী ও প্রকৃত নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে এক ভোগবাদী অপরাজনীতির সূচনা করেছেন এমপি শম্ভু। এতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন প্রকট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সংসদ সদস্য শম্ভু দক্ষ, অভিজ্ঞ, যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদদের দূরে সরিয়ে রেখে অযোগ্য, অশিক্ষিত, ভুঁইফোড় ও অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষমতায়ন করেছেন। এর বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার উেকাচ বাণিজ্য করে আসছেন তিনি। গত ২৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি থেকে নজিরবিহীন অনিয়ম-দুর্নীতি আর অপরাজনীতির মাধ্যমে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

বিগত পৌরসভা নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও করা হয় শম্ভুর বিরুদ্ধে।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন উল্লেখ করা হয় লিখিত বক্তব্যে। এ ছাড়া ১৯৭৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দলবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড, সংস্কারপন্থী হিসেবে আবির্ভূত হওয়াসহ বিতর্কিত ভূমিকায় থাকা এমনকি দল ত্যাগ করে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলে (পিডিবি) যোগদান করার অভিযোগ আনা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এতে আরো বলা হয়, সংসদ সদস্য শম্ভু, তাঁর পরিবার ও তাঁর সহযোগী কিছু দুর্নীতিবাজ নেতার অপকর্মের দায় কিছুতেই নেবে না দল।

শম্ভুর বিরুদ্ধে দলের প্রতি চরম বৈরিতা, ক্ষমতার প্রতি সীমাহীন মোহ, দলকে ব্যবহার করে দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও ঘৃণ্য অপরাজনীতির অভিযোগ তুলে তাঁর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে অনাস্থা জানান জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য শম্ভু ও তাঁর ছেলে সুনাম দেবনাথের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২৪ দফা লিখিত অভিযোগ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় বেশির ভাগ নেতা দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন, বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাহজাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব মৃধা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান মহারাজ, দলের অন্যতম নেতা গোলাম সরোয়ার ফোরকান, দলের পৌর শাখার সভাপতি মো. আলমগীর কবীর, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ালি উল্লাহ অলি, দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির কৃষিবিষয়ক সহসম্পাদক এস এম মশিউর রহমান শিহাব, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কৃষক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

উল্লেখ্য, এর আগে শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ এনে গত ২৮ এপ্রিল বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ।

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য শম্ভুর অনিয়ম দুর্নীতি ও অপরাজনীতি নিয়ে চলতি বছর ১১ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠে পারিবারিক লীগে ফুলেফেঁপে শম্ভু, গত ৮ মে শম্ভুর বিপুল বিত্ত আ. লীগ ঘরহীন এবং ২৯ এপ্রিল তাঁর ছেলেকে নিয়ে সুনামের দুর্নাম শিরোনামে তিনটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ কারণে গত ৭ মে বরগুনার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে কালের কণ্ঠ সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন তাঁরা। ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের সদস্য নয় এমন অনেক মানুষ জাহাঙ্গীর কবীরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। সেখানে যারা এসেছে, তাদের বাইরেও দলের একাধিক সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছেন, যাঁরা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেননি। তাঁরা আমার সঙ্গে আছে। অন্যদের সঙ্গে তাঁরা নেই।

শেষের পাতা- এর আরো খবর