English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

গৃহকর্মী নির্যাতন

সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই কর্মী বরখাস্ত

মেয়েটি এখনো কারাগারে

  • কূটনৈতিক প্রতিবেদক   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

সৌদিফেরত গৃহকর্মী তরুণীর ওপর নির্যাতনের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। বাংলাদেশ দূতাবাস গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এ খবর জানায়। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কালের কণ্ঠে কী কষ্টে বিমানবন্দরে আত্মহত্যার চেষ্টা সৌদিফেরত নারীর! সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদিকে আত্মহত্যার চেষ্টা ও সহায়তার মামলায় গতকাল পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার মেয়েটি জেলহাজতে আছেন। অথচ প্রধান দুই আসামি লোকমান ও গোলাম বাংলাদেশে থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় সৌদিতে গৃহকর্মী নির্যাতনে দূতাবাস কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা বিষয়ের খবরকে দূতাবাস অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে চূড়ান্ত অপসারণসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাংলাদেশ দূতাবাস তার যেকোনো কর্মচারীর অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স (ছাড় না দেওয়ার) নীতি অনুসরণ করবে।

বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের জন্য দূতাবাসের সেফ হাউস ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যাক লার্নিং সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার মেয়েটি এখনো কাশিমপুর কারাগারে আছেন। আজ সোমবার তাঁর জামিনের আবেদন করা হতে পারে।

গত মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় তলার টয়লেটে ঢুকে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান মেয়েটি। সেখানে তিনি একটি চিরকুট লিখে রাখেন। এরপর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মী, ব্যাক লার্নিং সেন্টার ও পুলিশের কাছে নিজের করুণ কাহিনি বর্ণনা করেছেন ওই নারী কর্মী।

জবানবন্দিতে মেয়েটি দূতাবাসের প্রতিনিধি লোকমান, গাড়িচালক গোলাম, প্রতিনিধি ফাহাত ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

মেয়েটির বর্ণনায় জানা গেছে, অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ নেন। তবে সেখানে গিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনির পরও মেলেনি খাবার। বেতন চাইতেই শুরু হয় নির্যাতন। দুই মাস পর আরেক বাসায় কাজে নিলেও ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। সেখানে নির্যাতন না করা হলেও মাস শেষে বেতন জোটেনি ভাগ্যে। চার মাস পর মেয়েটি পালিয়ে সৌদিতে নারী কর্মীদের আশ্রয়কেন্দ্রে (মক্তব) চলে যান। সেখানে ৯ মাস নারী কর্মীদের সেবা করলেও দেশে কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি তিনি। দেশে থাকা স্বজনদের পরামর্শে যান সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় লোকমানের সঙ্গে। সে মেয়েটিকে আশ্রয়ের নামে অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে লোকমান। এ কাজে সহায়তা করে দূতাবাসেরই কয়েক কর্মী। আট মাস পর মেয়েটি বিয়ের চাপ দিলে তাঁকে বুঝিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয় লোকমান। আশ্বাস দেয়, দেশে ফিরে মেয়েটিকে বিয়ে করবে সে। গত ২৮ জুলাই মেয়েটি দেশে ফিরে আসে। তবে তাঁর শেষ সম্বল লাগেজটিও ঢাকার বিমানবন্দরে হারিয়ে যায়। এরপর চরম হতাশায় আত্মহননের চেষ্টা চালান তিনি।

এদিকে আত্মহনের চেষ্টার ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে, যেখানে মেয়েটিকেও আসামি করা হয়। আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগের ভুক্তভোগী নিজেই এখন কারাগারের প্রকোষ্ঠে। অথচ গত ১৮ আগস্ট দেশে ফিরে নিরাপদেই আছে লোকমান ও গোলাম। তাদের দেশে আশার খবর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সবুজ রহমান বলেন, আমরা খোঁজখবর নিব। তাদের অবস্থান এখনো জানি না।

শেষের পাতা- এর আরো খবর