English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পাকিস্তানের জঙ্গি দমনে ব্যর্থতা, অর্থ সহায়তা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পাকিস্তানকে দেওয়া ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থ সহায়তা বাতিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওই অঞ্চলে মার্কিন সমর্থনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার (জঙ্গি দমন) ব্যর্থতার কারণে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল কোনে ফকনার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের পাকিস্তান সফরের ঠিক আগে এই ঘোষণা এলো।

পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের ভেতরে জঙ্গি গ্রুপগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে চূড়ান্ত অভিযান চালানোর জন্য ইসলামাবাদকে চাপ দিয়ে আসছে। তাতে কাজ না হওয়ায় চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানকে দেওয়া অর্থ সহায়তার মোট ২০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল স্থগিত রাখা হয়েছিল।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল কোনে ফকনার বলেন, আমেরিকার দক্ষিণ এশীয় কৌশলের সমর্থনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যর্থতার কারণে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ৩০ কোটি ডলারের সহায়তা বাতিল করতে চায়। এই অর্থ এখন জরুরি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অন্যত্র খরচ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তানকে সব সন্ত্রাসী গ্রুপ লক্ষ্য করে নির্বিচারে অভিযান চালানের জন্য চাপ দেওয়া অব্যাহত রাখছি। তবে অর্থ সহায়তা বাতিলের সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে বলে তিনি জানান।

ওয়াশিংটন অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে জঙ্গিরা আফগানিস্তানে মার্কিন

সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান নিজেদের মাটিতে হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবানসহ জঙ্গি গ্রুপগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য দেশটির সমালোচনা করে আসছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান বলে আসছে, তারা নিজ দেশে গড়ে ওঠা জঙ্গি গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই করে আসছে এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে এই দীর্ঘ যুদ্ধে তাদেরও কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও কয়েক কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।

হোয়াইট হাউস মনে করে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস এজেন্সি ও অন্য সামরিক শাখাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আদর্শিক জায়গা থেকে তালেবানকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা করে আসছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় তালেবানকে সহায়তা করছে। হোয়াইট হাউস এটাও মনে করে যে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কার্যকর অভিযান আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসানে মৌলিক ভূমিকা রাখতে পারে।

জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের ব্যর্থতা নিয়ে আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, তারা পাকিস্তানে সব ধরনের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শত শত কোটি ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে টুইটারে লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতো গত ১৫ বছরে পাকিস্তানকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। বিনিময়ে তারা (পাকিস্তান) আমাদেরকে মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভাবছে। আমরা আফগানিস্তানে যাদের খুঁজি, তারা সেই সব সন্ত্রাসীকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়। আর কোনো সহায়তা নয়। এ নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা তখন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অর্থ সহায়তা বাতিল পরিকল্পনা ঘোষণার ব্যাপারে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হারাতে পারে। এ ছাড়া পাকিস্তানও অন্য মিত্রদের দিকে সহায়তার জন্য ঝুঁকে পড়তে পারে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে আফগান তালেবানকে ব্যবহার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত অনুপ্রবেশের পর থেকেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই আফগান জঙ্গিদের অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করা শুরু করে। ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তান যুদ্ধেও আন্তর্জাতিক বাহিনীকে নিজেদের ভূমি ব্যবহার করতে দেয় পাকিস্তান। এ ছাড়া আল-কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়েও পাকিস্তান পশ্চিমাদের সহায়তা করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, আফগান বিদ্রোহীদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। দেশটি চায়, আগফানিস্তানে তার প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতের প্রভাব সীমিত রাখা। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

শেষের পাতা- এর আরো খবর