English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

দক্ষিণখানে বেপরোয়া আরাফাত ও সামসু গ্রুপ

সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে মেহেদী খুন, গ্রেপ্তার ২

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর দক্ষিণখানে খুন হয়েছে কিশোর মেহেদী হাসান (১৬)। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দক্ষিণখানে দীর্ঘদিন ধরে আরাফাত ও সামসু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তারা এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা চাঁদাবাজি, ইভ টিজিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানায়, মেহেদী একসময় দক্ষিণখানের একটি স্কুলে পড়ালেখা করত। বছরখানেক আগে সে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী চলে যায়। সমপ্রতি সে দক্ষিণখানের আনারবাগ এলাকায় তার বন্ধু নাজমুল ইসলামের বাসায় বেড়াতে আসে। নাজমুল ও তার বন্ধুদের সঙ্গে স্থানীয় কিশোর-তরুণদের আরেকটি গ্রুপের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে দক্ষিণখানের কেসি হাসপাতাল এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তখন নাজমুলের সঙ্গে ছিল মেহেদী। প্রতিপক্ষের কয়েকজন গ্যাসের চুলার একাংশ দিয়ে মেহেদীর মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আরাফাত ও সামসু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তাদের মধ্যে সামসু গ্রুপ সিনিয়র। তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এলাকায় তারা বখাটে হিসেবে পরিচিত। নিহত মেহেদী সামসু গ্রুপের সদস্য। কিছুদিন আগে এলাকার আধিপত্য নিয়ে আরাফাত গ্রুপের সদস্য তৌকিরের সঙ্গে মেহেদীর ঝগড়া হয়। বিষয়টি তৌকির আরাফাতকে জানায়। আরাফাত মেহেদীকে ঠিক হয়ে যেতে বলে। না হয় পরিণাম ভালো হবে না বলেও হুমকি দেয়। হুমকির বিষয়টি মেহেদী সামসুকে জানায়। পাশাপাশি তার মা শাহিনুর বেগমকেও অবহিত করে। শাহিনুর বেগম মেহেদীকে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিন্তু মেহেদী কাজের কথা বলে ঢাকায় থেকে যায় বলে জানান শাহিনুর বেগম। তিনি জানান, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, আরাফাত ও সামসু গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। চাঁদাবাজি, ইভ টিজিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত তারা।

দক্ষিণখান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শফিকুল গনি সাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, মেহেদীর মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এই ঘটনায় জড়িত সিফাতসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকার প্রভাব বিস্তার এবং সিনিয়র ও জুনিয়র দ্বন্দ্বে মেহেদীকে হত্যা করা হয়েছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর