English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

১ মিনিট দাঁড়িয়ে ‘মাদককে না’ বলবে দেশ

  • এস এম আজাদ   
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

মাদক প্রতিরোধে এবার ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের যেকোনো এক দিন ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে মাদককে না বলবে সব মানুষ। এক মিনিটের জন্য পালিত হবে এই কর্মসূচি। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএনসি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় এ প্রস্তাবটি উঠে আসে। কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। দিন-তারিখ ঠিক না হলেও সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই কর্মসূচি পালিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজনের। সভায় কর্মসূচির তারিখ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ এই প্রচার অভিযানটি আয়োজন করতে পারব।

ডিএনসি সূত্র জানায়, মাদক সেবন ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে র্যাব-পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী অভিযান। অভিযানে অনেকে গ্রেপ্তার ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এতে মাদক ব্যবসা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। মাদকের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনের পাশাপাশি সফটলাইনের কার্যক্রমও নিতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে চলছে প্রচার-প্রচারণা।

সূত্র জানায়, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কাজ শুরু করেছে। ঢাকার বাইরে এই কর্মসূচি সফল করতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কোর্সে মাদকাসক্তি সম্পর্কে কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ডিএনসি ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পেতে মাদকাসক্ত শনাক্তকরণ ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই টেস্টে উত্তীর্ণরাই কেবল চাকরি এবং লাইসেন্স পাবে। এ ছাড়া ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এটি পর্যায়ক্রমে প্রয়োগের জন্য স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিআরটিএকে ডোপ টেস্ট করে মাদকাসক্তদের লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করা হবে।

জানতে চাইলে ডিএনসির সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম বলেন, স্টকহোল্ডারদের প্রস্তাব থেকেই এই কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।

শেষের পাতা- এর আরো খবর