English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মাদক ‘খাত’ যাচ্ছিল ইউরোপ-আমেরিকায়

নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট
নাজিমকে আজ আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জব্দ করা খাত বা নিউ সাইকোট্রফিক সাবস্টেনসেস (এনপিএস) ক্যাটাগরির বিশাল মাদক চালনটির গন্তব্য ছিল আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ। ইথিওপিয়ার নাগরিক আদ্দিস আবাবার জিয়াদ মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক আন্তর্জাতিক মাদক কারবারির কথামতো বাংলাদেশি মোহাম্মদ নাজিম (৪৭) মাদক খাত সংগ্রহ করেন। এরপর গ্রিন টি-এর প্যাকেটে ভরে পাচার করছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এর আগে ২০০ কেজি খাত পাচার করেছেন বলে স্বীকার করেন। মোহাম্মদ নাজিম দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রবাসী ছিলেন। সেখানে ইউসুফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। নাজিমের দাবি, দেশে ফিরে আসার পর সম্প্রতি ফেসবুকে যোগাযোগ হলে ইউসুফ তাঁকে বিশেষ গ্রিন টি রপ্তানি ব্যবসা করতে বলেন। একটি চালান পাচার করে নাজিম ৮০০ মার্কিন ডলার আয় করেছেন বলে জানান।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, গত শুক্রবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে ৪৬৮ কেজি খাত উদ্ধারের পর শান্তিনগরে নাজিমের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে আরো প্রায় ৪০০ কেজি খাত জব্দ করা হয়। চা পাতার মতো দেখতে এই মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করে ডিএনসি। এ মামলায় আজ রবিবার নাজিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ধারণা করা হচ্ছে দুবাই থাকার সময় নাজিম মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। খাত নামের গাছ থেকে তৈরি হওয়া মাদকটি আফ্রিকার দেশ থেকে বিভিন্ন ট্রানজিট হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাচার হয়। বিমানবন্দরে জব্দ করা চালানটির প্যাকেটে ২০১৬ সালের তারিখ এবং ভিন্ন ধরনের ঠিকানা লেখা রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছেকোকেন, হেরোইনের মতোই দামি এ মাদক পাচারে শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম শিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, মাদকটি ধরার পর আমরা এর পেছনে কারা জড়িত তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।

ডিএনসির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, খাত গাছের নামে বা এনপিএস নামে কিংবা যে নামেই ডাকা হোক, এটি আমাদের দেশে পরিচিত নয়। এ কারণে সায়েন্স ল্যাবে এটি পরীক্ষা করা হবে। তবে যতটুকু জানা যাচ্ছে এটি খ ক্যাটাগরির মাদক। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে এ মাদকের প্রচলন রয়েছে। এটি আমেরিকা ও ইউরোপের দেশে পাচার হয়।

ডিএনসি সূত্র জানায়, ৮৬৮ কেজি খাত গুঁড়া ইথিওপিয়া থেকে কয়েকটি রুট ঘুরে বাংলাদেশে আসে। পাচারকারীরা কুয়ালালামপুর, ভারত, সিঙ্গাপুর ও দুবাই রুট ব্যবহার করে। অনেক সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়। সেখান থেকে যায় ইউরোপ ও আমেরিকা। ইথিওপিয়া থেকে চালান পাঠানো ইউসুফ ফোনে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। সে ওই দেশের নাগরিক বলেই দাবি করছেন নাজিম।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ছেলে নাজিম দেশে ফিরে এলে নতুন করে ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তাঁর দাবি, দুই মাস আগে ইউসুফ তাঁকে বিশেষ ধরনের গ্রিন টি রপ্তানি ব্যবসার কথা বলে। ইউসুফ ইথিওপিয়া থেকে ওই বিশেষ চা পাঠালে সেগুলো প্যাকেটে ভরে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাঠাতে হবে। ইউসুফের দেওয়া ঠিকানায় দুই মাসের মধ্যে ২০০ কেজি বিশেষ চা আমেরিকায় পাঠিয়েছেন নাজিম। এ জন্য ইউসুফ তাঁকে ৮০০ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছে। প্রতি কেজি খাত পাচারে তাঁকে ৪০০ ডলার দেওয়ার চুক্তি করে ইউসুফ।

ডিএনসির গোয়েন্দারা বলছেন, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে যে চালানটি পাওয়া যায় সেখানকার কাগজপত্রে ২০১৬ সালের তারিখ ও কিছু ভুয়া ঠিকানা লেখা আছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, চালান যেন শনাক্ত না করা যায় এ জন্য পাচারকারীরা কৌশল নিয়েছে।

তবে বন্দর বা কাস্টমসের কেউ সম্পৃক্ত না থাকলে এভাবে লেখা সম্ভব নয় বলে সন্দেহ করছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রেপ্তার নাজিম আরবি ভাষায় দক্ষ। তিনি ইংরেজিও ভালো বলতে পারেন। শান্তিনগরে নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চায়ের আড়ালে মাদক পাচার ছাড়া তাঁর আর কোনো ব্যবসার তথ্য পাননি তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে বড় মাদক সিন্ডিকেট আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিলাসী জীবন কাটানো নাজিমের ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমি আছে। তাঁর সঙ্গে প্রভাবশালী লোকজনের যোগাযোগেরও তথ্য মিলেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আরো একাধিক ব্যক্তি রয়েছে। তাদেরও খুঁজছে ডিএনসি। তবে মামলার এজাহারে শুধু নাজিমকেই আসামি করা হয়েছে।

ডিএনসির এক কর্মকর্তা বলেন, আফ্রিকা ও আরব দেশগুলোতে খাত পরিচিত মাদক। এর গুঁড়া থেকে তৈরি করা মাদক এনপিএস ক্যাটাগরির।

শেষের পাতা- এর আরো খবর