English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ডলারের বিপরীতে লিরার রেকর্ড দরপতন

অর্ডার হারানোর শঙ্কায় অনেক কারখানা

  • রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার রেকর্ড দরপতনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে যেসব কারখানা তুরস্কের ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করে তারা অর্ডার হারানোর শঙ্কায় আছে। আবার লিরার ব্যাপক মূল্যস্ফীতিতে বাংলাদেশের ডেনিম পণ্যও অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে পারে বলে ধারণা করছেন এ খাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টুইট বার্তার প্রভাবে তুরস্কের মুদ্রার রেকর্ড দরপতন হয়েছে। টুইট বার্তায় তিনি তুরস্ক থেকে রপ্তানি হওয়া ইস্পাত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ বাড়তি শুল্কারোপ করার ঘোষণা দেন। এরপর এক দিনের ব্যবধানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে লিরার ১৮ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

লিরার অস্বাভাবিক ধসে সরাসরি ব্যবসা হারানোর ঝুঁকিতেও আছে বাংলাদেশের অনেক কারখানা। তুরস্কের টেমা, কটন, ডিফ্যাক্টো, মাভি, কলিন্স ব্র্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে বাংলাদেশের অনেক কারখানা। বিশেষ করে তুরস্কের টেমা ব্র্যান্ডের কাজ হয় বাংলাদেশের অন্তত ৫০টি কারখানায়। তুরস্কজুড়ে এই ব্র্যান্ডের দুই হাজার শোরুম রয়েছে। গত অর্থবছরেও বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ১৮৫ কোটি টাকার তৈরি পোশাক পণ্য।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের ফারখানটেক্স কারখানাটিও টেমা ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এই কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম ফরহাদ বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দিকে চোখ রাখছি। লিরার এবারের দরপতন অবিশ্বাস্য। ব্যবসার গতিপ্রকৃতি এখনো আঁচ করতে পারছি না।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও ইস্টার্ন অ্যাপারেলসের এমডি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, লিরার দরপতনের প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা তুরস্কের বায়ারের কাজ করছে তারা অর্ডার বাতিলের শঙ্কায় আছে। কারণ যে হারে দরপতন হয়েছে লিরার, এটা যদি সহসা সমাধান না হয় তাদের বায়ারদের অর্ডার বাতিল করা ছাড়া কোনো উপায়ও থাকবে না। কারণ লোকসান দিয়ে কেউ ব্যবসা করবে না।

এ ছাড়া লিরার বিপরীতে ডলারের মূল্যমান বেড়ে যাওয়ায় তুরস্কের উত্পাদকরা পণ্যে আগের চেয়ে বেশি ছাড় দিতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। এতে তুরস্কের ডেনিম পণ্যের প্রতিযোগিতা করার সুযোগ বেড়ে যাবে। তবে এর ফলাফল পেতে আরো অপেক্ষা করতে হবে বলে নাছির উদ্দিন চৌধুরী জানান।

তুরস্কের মুদ্রার এই রেকর্ড দরপতনে বাংলাদেশের ডেনিম খাতও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডেনিম খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। চ্যালেঞ্জটা কিভাবে হতে পারে জানতে চাইলে বিজিএমইএ পরিচালক ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ডেনিম রপ্তানিকারক প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর কালের কণ্ঠকে বলেন, তুরস্ক ডেনিম খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ইউরোপেও ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের পরেই তুরস্কের অবস্থান। তুরস্ক প্রিমিয়াম ডেনিম উত্পাদনে শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে পড়ে। এর মূল কারণ কাঁচামালের সহজলভ্যতা। তবে তারা ইদানীং প্রিমিয়াম ডেনিম থেকে রিটেইল ডেনিমের দিকে ঝুঁকছে। কারণ কম দামের কারণে অধিক অর্ডারের নিশ্চয়তা। এত দিন তারা ১৪-১৫ ডলারের নিচের জিন্স বিক্রি করত না। এখন ১০-১১ ডলারের জিন্সেও তারা ঝুঁকছে। সেখানে ডলারের দরপতনের ফলে তুরস্কের বিক্রেতারা মূল্য নির্ধারণে ক্রেতাদের আগের চেয়ে বেশি ছাড় দিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ম্যানুফেকচারিং কস্ট বাংলাদেশের কাছাকাছিই হয়ে যাবে।

এ ছাড়া লিড টাইম তাদের অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে বলে তিনি মনে করেন। সৈয়দ তানভীর বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বায়ারের ওয়্যারহাউসে পণ্য পৌঁছতে কমপক্ষে ২১ দিন সময় লাগে। সেখানে সড়কপথে মাত্র পাঁচ-ছয় দিনেই পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে পারে তুরস্কের উত্পাদকরা। তা ছাড়া ইউরোপের বায়াররা পণ্য কিনে ডলারে আর বিক্রি করে ইউরোতে। সেখানে ইউরোর মানও গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে কমেছে ৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে একজন বায়ার যখন একবার তুরস্কে কাজ করার মজা পাবেন তিনি বাংলাদেশে কেন আসবেন?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তুরস্কের সবচেয়ে বড় সুবিধা নিজস্ব কাঁচামাল। তারা বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডেনিম ফ্যাব্রিক রপ্তানিকারক। তাদের ফ্যাব্রিক রপ্তানিতে বাংলাদেশ আছে চতুর্থ স্থানে।

শিল্প বাণিজ্য- এর আরো খবর