English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

যাত্রা শুরু করল ‘আকাশবীণা’

বিমানের ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

গতকাল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের উদ্বোধন শেষে বিমানের ভেতর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সেলফি তোলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। ছবি : বাসস

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংস্থার ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমি চাই বিমানে যাঁরা কাজ করবেন তাঁরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন, যাতে দেশের কোনো বদনাম না হয় এবং ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল থাকে।

গতকাল বুধবার দেশের বিমানবহরে প্রথমবারের মতো সংযোজিত ৭৮৭-৮ বোয়িং ড্রিমলাইনার আকাশবীণা উড়োজাহাজ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো লক্ষ রাখতে হবে যাতে বিদেশি, স্থানীয় যাত্রী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে তাঁদের মালপত্র নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পাদন করতে হবে। তিনি এ সময় বিমান কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তার বিষয়টিতেও আরো গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। চারটি ৭৮৭ ড্রিমলাইনারসহ ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ। চতুর্থ প্রজন্মের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত উড়োজাহাজ আকাশবীণা নিয়ে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টি। আগামী নভেম্বর দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার এবং ২০১৯ সালে আরো দুটি ড্রিমলাইনার সরবরাহ করবে বোয়িং।

একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে উড়তে পারে। ড্রিমলাইনারে জ্বালানি খরচ ২০ শতাংশ কম। এতে ওয়াই-ফাই, ফোন করার সুবিধা, লাইভ টেলিভিশনসহ নানা সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির নাম রাখেন আকাশবীণা। এ ছাড়া বোয়িং-৭৭৭ এর নাম পালকি, অরুণ আলো, আকাশপ্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত এবং বোয়িং-৭৩৭ এর নাম ময়ূরপঙ্খি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড্রিমলাইনারের আকাশবীণা নামকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই নতুন বিমান এসেছে, চেষ্টা করেছি তারই একটা নতুন নাম দিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন বিমান সংযোজন করছি; বিমান যেন ভালোভাবে চলতে পারে। যোগাযোগ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের আকাশপথ, রেলপথ, সড়কপথ সব যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন উন্নত হয় সে জন্য আমরা বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

দেশের এভিয়েশন শিল্পের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট, চট্টগ্রামকে আমরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করি। এখন কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আমরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলছি। আমরা বরিশাল বিমানবন্দর ফের চালু করেছি। এ ছাড়া বাগেরহাটে নতুন বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিকভাবে আমরা এয়াররুটের মধ্যে আছি। এখানে অনেক বিমান সংস্থা রিফুয়েলিং করতে পারে। চাইলে তারা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার দেখে যেতে পারে।

এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে এবং নির্বাচনের আগেই তা উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহম্মাদ এনামুল বারী বলেন, ড্রিমলাইনার সংযোজনের মধ্য দিয়ে বিমান একটি সত্যিকারের বহর পেল, যা দিয়ে বিমান অনেক দূর যাবে। বিমানের নানা সীমাবদ্ধতা আছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমরা গ্রাহক অভিযোগ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।

বিমান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, ড্রিমলাইনার চালানোর জন্য সিঙ্গাপুর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বিমানের ১৪ জন বৈমানিক। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্রকৌশল বিভাগের ১১২ জনকে। আকাশবীণায় আসনসংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি, ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, বিমানের এমডি ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ইনামুল বারী প্রধানমন্ত্রীকে ড্রিমলাইনারের একটি রেপ্লিকা উপহার দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি কেক কাটেন এবং নতুন এই উড়োজাহাজের ভেতরে ঘুরে দেখেন।

প্রথম ফ্লাইট : প্রথম ফ্লাইটে গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ২৪৩ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে আকাশবীণা।

শিল্প বাণিজ্য- এর আরো খবর