English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন

ব্যবসায়ী নেতৃত্বে আজীবন থাকার সুযোগ

  • আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাণিজ্য সংগঠনে একজন পরিচালক একাধারে দুই বা তিনবারের অধিক নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ বর্তমানে নেই। একজন পরিচালক দুইবার পরিচালক হওয়ার পর একবার বিরতি দিয়ে তৃতীয়বার পরিচালক হওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন এসআরও ২৪৪-আইন/২০১৮-তে সেই বিধান তুলে দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে একজন পরিচালক একাধারে কয়বার নির্বাচন করতে পারবেন তা সংগঠনের নিজেদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে একজন ব্যবসায়ী বাণিজ্য সংগঠনে ইচ্ছামতো, এমনকি আজীবন পরিচালক থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে! ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিরাজুল ইসলাম উকিল গত ২৯ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এসআরও ২৪৪-আইন/২০১৮ সংশোধন করে এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেউ উদ্ধৃত হয়ে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, একজন ব্যবসায়ী যদি আজীবন তাঁর সংগঠন চালাতে পারেন তাহলে তো আমাদের কোনো সমস্যা নেই। একবার আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম, তখন সমালোচিত হয়েছিলাম; এ জন্যই এখন সংগঠনের ওপরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভার ছেড়ে দিয়েছি।

জানা গেছে, বাণিজ্য সংগঠন আইনের খসড়া প্রণয়নের সময় এই বিধি-নিষেধ পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছিল। এফবিসিসিআই এবং কিছু ব্যবসায়ী নেতার জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই বিধি-নিষেধ উঠিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে তখন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষ জোর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই বিধান সংশোধন করে সংগঠনের নিজেদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়ে নতুন এই ধারা যোগ করল।

জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম চেম্বারে পরপর তিনবার অর্থাৎ ছয় বছর একজন পরিচালক নির্বাচন করতে পারবেন। একবার বিরতি দিয়ে আবারও একই মেয়াদে নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে। ছয় বছর পরিচালক থাকার পর এবার বিরতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ। নতুন প্রজ্ঞাপনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য সংগঠনগুলো যদি নিজেদের নেতৃত্ব নিজেরাই ঠিক করতে পারে তাহলে তো কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। সংগঠনে অভিজ্ঞদের যেমন প্রয়োজন তেমনি নতুন নেতৃত্বও প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকতে হবে যাতে নতুন-পুরাতনের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বারে নতুন নির্বাচন হবে ২০১৯ সালের জুন মাসে। আগামী ডিসেম্বরে হবে বার্ষিক সাধারণ সভা। সেখানেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

জানা গেছে, রিকন্ডিশণ্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডায় পরপর তিনবার একজন সদস্য নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর বিরতি দিতে হবে। সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর বলছেন, আমি মনে করি এই প্রজ্ঞাপন যথাযথই হয়েছে এবং ইতিবাচক। তৃণমূল সদস্যরাই হচ্ছেন সংগঠনের প্রাণ। সুতরাং তাঁরা নিজেরাই ঠিক করবেন প্রজ্ঞাপনের পর গঠনতন্ত্র সংশোধন করবেন নাকি বিদ্যমান গঠনতন্ত্র বহাল রাখবেন। সরাসরি নির্বাচনের দাবিতে চট্টগ্রাম চেম্বার থেকে বের হয়ে অভিজাত ব্যবসায়ীরা মিলে গড়ে তোলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার। কিন্তু গত আট বছরেও সেই সংগঠনে এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হয়নি, সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসছে। ফলে সেখানে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক পরিচালক নুরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত থাকলে সবাই সেটি মানতে বাধ্য থাকে। সব সদস্যের নির্বাচনের সমান সুযোগ এবং নতুনদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজ্ঞাপনে সেটির সুফল মিলবে বলে মনে হয় না।

তবে তৃণমূল ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখন বাণিজ্য সংগঠনে একবার সুযোগ পেলে সেই ব্যবসায়ীকে আজীবন সেখান থেকে সরানো কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে নতুন নেতৃত্বের বদলে একই লোক ঘুরেফিরে নেতৃত্বে আসবেন। সংগঠনের গতি হারাবে এবং একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে আরো বলা আছে, এফবিসিসিআই নির্বাচনে পরিচালক নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও একজন সহসভাপতি নির্বাচন করবেন। পরিচালকদের ভোটেই সেটি নির্ধারিত হবে। আর ফেডারেশনের একজন সদস্য কতবার নির্বাচিত হবেন তা ফেডারেশনের সংঘবিধি দ্বারাই নির্ধারিত হবে।

শিল্প বাণিজ্য- এর আরো খবর