English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

৫০ কোটি রুপি বদলানোর আশা ছাড়েনি বাংলাদেশ ব্যাংক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের দুই বছর হতে চলেছে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে থাকা এই দুটি মূল্যমানের ৫০ কোটি রুপি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে দেরিতে হলেও এই রুপিগুলো বদলে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি এখন সরকারি পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের সরকার এই রুপিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অতএব নোটগুলো বদলে সমপরিমাণ রুপি আমরা ফিরে পাবআমরা সে আশাই করি।

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে তা বদলে নেওয়ার জন্য সুযোগ দেওয়া হয়। গত ২৯ আগস্ট দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাতিলকৃত নোটের ৯৯.৩ শতাংশ ব্যাংকিং চ্যানেলে ফেরত এসেছে।

এদিকে ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোতে বাতিল হওয়া নোট বদলানোর বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় অনিষ্পন্ন থাকলেও ভারত সরকার প্রায় নিশ্চিত যে ওই নোটগুলো আর ফেরত নেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের ভল্টে এখনো ৫০ কোটি রুপি রয়ে গেছে, যা ওই সময়ের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলে বদলে আনা সম্ভব হয়নি। এমনিভাবে নেপাল, ভুটানসহ আরো কয়েকটি দেশে বাতিল হওয়া ওই নোটগুলোর কিছু এখনো পড়ে আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিঠি দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হলেও তা ফেরত নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না দেশটি। এ নিয়ে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আরবিআইয়ের মধ্যে। অবশেষে বাতিল নোট ফেরত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়েরও সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সে দেশের বিনিময়ে থাকা ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করেন। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাতিল হওয়া নোট ব্যাংকের মাধ্যমে বদলে নিতে সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে সময়সীমা গত বছরের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই মানের নোট বাতিলের পর ৫০০ রুপির নতুন নোট বাজারে এলেও ১০০০ রুপির নতুন নোট বাজারে আনেনি ভারত। এর পরিবর্তে ২০০০ রুপির নোট এনেছে দেশটি।

জানা গেছে, ভারতের বেঁধে দেওয়া সময় অর্থাৎ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরবিআইয়ের গভর্নরকে বাংলাদেশে থাকা ৫০ কোটি রুপি বদলে দিতে চিঠি দেওয়া হয়; কিন্তু সে আবেদনে এখনো সাড়া দেয়নি ভারত। সর্বশেষ এ বিষয়ের অগ্রগতি জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির আরবিআইয়ের গভর্নরকে ফের চিঠি দিয়েছেন। এরও কোনো উত্তর পায়নি বাংলাদেশ।

ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যকার নিয়মিত বাণিজ্যে সংকট সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করা হয় আরবিআই গভর্নরকে লেখা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের চিঠিতে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত সীমান্ত হাটগুলো চালু হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রুপি ও টাকার বিনিময় শুরু হয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় ও পণ্য আদান-প্রদান সহজ করতে টাকা ও রুপির বিনিময়ে এ প্রক্রিয়া চালু করা হয়। সীমান্ত হাটগুলোতে বসানো সোনালী ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ শাখা থেকে স্থানীয় অধিবাসীরা ভারতীয় রুপি জমা দিয়ে এর বিপরীতে টাকা তুলতে পারে। সেই টাকায় কেনাকাটা করে ভারতীয় নাগরিকরা। এভাবে সোনালী ব্যাংকের কাছেও ভারতীয় রুপি জমা হয়।

বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের কাছে পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ রুপি জমা পড়ে আছে। এ ছাড়া দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে আনা যাত্রীদের কাছ থেকে ভারতীয় মুদ্রা আটক করে শুল্ক বিভাগ। সেগুলো জমা রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ৫০ কোটি রুপি জমা আছে বলে জানা গেছে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব সুভাষ চন্দ্র গার্গ সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাতিল ঘোষণার সময় সে দেশে প্রচলনে থাকা ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোটের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি রুপি। এর মধ্যে ১৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি রুপি ব্যাংকিং চ্যানেলে চলে এসেছে। অর্থাৎ এ পরিমাণ অর্থের বাতিল নোট বদলে নতুন নোট নেওয়া হয়েছে। যা বাতিল হওয়া নোটের ৯৯.৩ শতাংশ। এ হিসাবে বাতিল হওয়া নোটের মধ্যে মাত্র ১৬ হাজার কোটি রুপি ফেরত আসেনি।

তিনি আরো বলেন, নোট বাতিল করে নতুন মুদ্রা বাজারে আনতে আরবিআইয়ের খরচ হয়েছে চার হাজার কোটি রুপি। যা তাদের নিয়মিত মুদ্রা ছাপানোর খরচের চেয়ে বেশি। ব্যাংকটির নিয়মিত মুদ্রা ছাপানোর জন্য চার থেকে সাড়ে চার হাজার রুপি খরচ হয়।

শিল্প বাণিজ্য- এর আরো খবর