English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ইইউ ও চীনের সঙ্গে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি ► আরো শুল্ক আরোপের হুমকি

বাণিজ্য যুদ্ধে লাভ হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের

  • বাণিজ্য ডেস্ক   
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য করা হচ্ছেএমন অভিযোগে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) অনেক দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, এর ফলে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী হবে। কিন্তু হিতে যেন বিপরীত হয়েছে। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি বেড়ে তিন বছরে সর্বোচ্চ হয়েছে। এর মধ্যে চীন ও ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন ও বেসামরিক উড়োজাহাজ বিক্রি কমেছে। এর বিপরীতে রেকর্ড আমদানি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই মাসে দেশটির বাণিজ্যঘাটতি ৯.৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। যেখানে আগের মাসে বাণিজ্যঘাটতি ছিল ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এ মাসে দেশটির রপ্তানি কমেছে ১ শতাংশ, এর বিপরীতে আমদানি বেড়েছে ০.৯ শতাংশ। এর মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি বেশি হয়েছে চীন ও ইইউর সঙ্গে।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি ১০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ৩৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে ৫০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার; যা যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। প্রতিবেশী কানাডার সঙ্গেও বাণিজ্যঘাটতি ৫৭.৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে মেক্সিকোর সঙ্গে কমেছে ২৫.৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, তাঁর পূর্ববর্তীদের অন্যায্য বাণিজ্যের কারণেই বাণিজ্যঘাটতি বাড়ছে।

মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির কারণেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউ, কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর শুল্ক আরোপ করে তিনি মূলত একটি বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ওই দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে দেশটির রপ্তানি কমেছে।

এ বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে; যার বেশির ভাগ আসে ইইউ, কানাডা ও ব্রিটেন থেকে। অন্যদিকে চীনের ৫০ বিলিয়ন ডলার পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হয়। এর পাশাপাশি আরো ২০০ বিলিয়ন ডলার পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

ব্লুমবার্গের গবেষক টিম মেহেদি বলেন, চীনসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে জুলাইয়ে তাদের রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে সয়াবিন রপ্তানি কমেছে ১৬ শতাংশ। মূলত বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন আমদানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় তা কার্যকর হওয়ার আগেই গত এপ্রিল ও মে মাসে চীনে বেশি পরিমাণে সয়াবিন পাঠিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা।

চীনা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের : চীনের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন থেকে আমদানীকৃত ২৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর সংক্ষিপ্ত নোটিশে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে।

এই ঘোষণা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিমালার মূল টার্গেটে পরিণত হবে চীন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের কারণে আরো ঘোলাটে হবে কূটনৈতিক পরিস্থিতি। এর ফলে বাড়বে বাণিজ্য যুদ্ধের পরিধিও।

এদিকে ওয়াশিংটনের অতিক্তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ কার্যকর করলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে তাঁর দেশ প্রস্তুত রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, ডিডাব্লিউ ডটকম।

আয় ব্যয়- এর আরো খবর