English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

উদ্যোক্তা

আলিবাবা ছাড়ছেন জ্যাক মা

নির্বাহী চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে সময় দেবেন মানবসেবায়

  • বাণিজ্য ডেস্ক   
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

নিজের গড়া প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাচ্ছেন জ্যাক মা। ছবি : এএফপি

চীনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা থেকে অবসরে যাচ্ছেন কম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জ্যাক মা। তাঁকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের অন্যতম এই ধনী শিক্ষাক্ষেত্রে মানবসেবা করতে চান। সে কাজে পুরো মনোযোগী হতে আলিবাবা ছাড়ছেন। আগামী সোমবারই তিনি অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও কম্পানির বোর্ড সদস্য হিসেবে থাকবেন এবং কম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবেন। কম্পানি নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে কি না বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।

১৯৯৯ সালে আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাক মা। ২০১৩ সালে কম্পানির প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি বর্তমানে কম্পানির আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িক বিষয়গুলো দেখছেন। জ্যাক মার পদত্যাগ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস আলিবাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো মন্তব্য পায়নি। তবে গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, মা আফ্রিকা সফরে গিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক নেতা ও ব্যাবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে মা জানান, তাঁর অবসর মানে একটি যুগের শেষ নয় বরং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ৫৪ বছর বয়সী জ্যাক মা বর্তমান শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর পরিচালিত বেশ কিছু দাতব্য প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করছেন। তিনি ২০১৪ সালে জ্যাক মা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শুধু অর্থ দান নয়, মানবসেবায় নিজের সময় দেওয়ার জন্যও তরুণদের উৎসাহিত করেন।

আলিবাবার পাবলিক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত দ্বিতীয় মানবসেবা সম্মেলনে জ্যাক মা বলেন, চ্যারিটি হচ্ছে আপনি কী পরিমাণ অর্থ দান করেছেন। আর জনসেবা হচ্ছে নিজের সময়, শ্রম ও হৃদয় দেওয়া। এটি এমন একটি আবেগ এবং শক্তি, যা একেবারে ভেতর থেকে আসবে। তিনি বলেন, সব অসুস্থতার জন্য শ্রেষ্ঠ ওষুধ হচ্ছে জনসেবা। আপনি যদি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে বিশ্বকে আরো ভালো করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তবে আপনিই হবেন সবচেয়ে বেশি উপকৃত।

জ্যাক মা মানুষের সেবায় নিজে কাজ করার পাশাপাশি আলিবাবার কর্মীদেরও কমিউনিটি সেবায় উদ্বুদ্ধ করেন। এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সাল থেকে আলিবাবার কর্মীরা সম্মিলিতভাবে মানুষের সেবায় চার লাখ ৮৩ হাজার ঘণ্টা ব্যয় করেছেন। তাঁরা স্থানীয় মানুষের সেবায় কাজ করছেন। গত বছর আলিবাবা পভার্টি রিলিফ ফান্ড থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন চীনের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে।

মাত্র ১৮ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা আলিবাবায় বর্তমানে কর্মীর সংখ্যা ৬৬ হাজার। গত শুক্রবার পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী কম্পানির বাজার মূলধন ৪২০ বিলিয়ন ডলার। আলিবাবার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি মানুষ কেনাকাটা করে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এ কম্পানির বার্ষিক রাজস্ব ৩৯.৮৯৮ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া অ্যান্ট ফিন্যানশিয়াল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালান মা। এ প্রতিষ্ঠানের মূলধন প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৮ সালের বিলিয়নেয়ারের তালিকায় জ্যাক মার সম্পদের পরিমাণ হয় ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তিনি বিশ্বের ২০তম ও চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। তবে সর্বশেষ হিসাবে তাঁর সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৩৮.৬ বিলিয়ন ডলার। ফরচুন ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের বিশ্বের ৫০ গ্রেটেস্ট লিডারের মধ্যে জ্যাক মা দ্বিতীয়। তিনি চীনা ব্যবসার বৈশ্বিক অ্যাম্বাসাডর।

১৯৬৪ সালে চীনের হ্যাঙ্গঝু শহরে জন্মগ্রহণ করেন জ্যাক মা। চীনের অন্যতম এ ধনীর জীবনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা হচ্ছেতিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৩০ বার চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন এবং সব জায়গা থেকেই বাদ পড়েছেন। তিনি বলেন, আমি পুলিশে চাকরি করার জন্য গিয়েছিলাম, তারা বলল তুমি এ চাকরির জন্য যোগ্য নও। এরপর কেএফসি যখন আমাদের শহরে এসেছিল আমি চাকরির জন্য গিয়েছিলাম। আমিসহ ২৪ জন সাক্ষাৎকারে গিয়েছিলাম। ২৩ জনের চাকরি হয়েছে শুধু আমার হয়নি। তিনি বলেন, আমি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে (এইচবিএস) পড়ার জন্য ১০ বার আবেদন করেছিলাম সেখানেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। রয়টার্স, ফোর্বস ম্যাগাজিন।

আয় ব্যয়- এর আরো খবর