English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কৃষক ও দোকানদার

তাসলিমা নীলু

  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

এক গ্রামে একজন কৃষক ছিলেন। তিনি দুধ থেকে দই ও মাখন তৈরি করে বিক্রি করতেন। একদিন কৃষকের স্ত্রী মাখন তৈরি করে কৃষককে দিলেন বিক্রি করতে। কৃষক তা বিক্রি করার জন্য গ্রাম থেকে শহরের উদ্দেশে রওনা হলেন। মাখনগুলো রোল আকৃতিতে রাখা ছিল। যার প্রতিটির ওজন ছিল এক কেজি করে। শহরে পৌঁছে কৃষক প্রতিবারের মতো পূর্বনির্ধারিত দোকানে মাখনগুলো দিয়ে পরিবর্তে চা, চিনি, তেল ও তাঁর সংসারের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিয়ে আসতেন।

আজ কৃষক চলে যাওয়ার পর দোকানদার মাখনের রোলগুলো একটা একটা করে ফ্রিজে রাখার সময় ভাবলেন, মাখনের ওজন সঠিক আছে কি না আজ একবার পরীক্ষা করে দেখা যাক। রোলগুলো ওজন করতেই উনি দেখলেন, মাখনের ওজন আসলে ১ কেজি নয়, ৯০০ গ্রাম।

পরের সপ্তাহে আবার কৃষক ওই দোকানে মাখন বিক্রি করতে গেলেন। দোকানের সামনে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার কৃষকের উদ্দেশে চিত্কার করে বলতে লাগলেন, বেরিয়ে যাও আমার দোকান থেকে। এবার থেকে কোনো বেঈমান-চিটিংবাজের সঙ্গে ব্যবসা করো। আমার দোকানে আর কোনো দিন পা রাখবে না। ৯০০ গ্রাম মাখন এক কেজি বলে বিক্রি করা লোকটার মুখ আমি দেখতে চাই না।

কৃষক বিনম্রভাবে দোকানদারকে বললেন, দয়া করে রাগ করবেন না। আসলে আমি খুবই গরিব মানুষ। দাঁড়িপাল্লার বাটখারা কেনার মতো পয়সা আমার নাই। তাই আপনার থেকে প্রতিবার যে এক কেজি করে চিনি নিয়ে যেতাম, সেটাই দাঁড়িপাল্লার একপাশে রেখে অন্য পাশে মাখনের রোল মেপে নিয়ে আসতাম।

ঘোড়ার ডিম- এর আরো খবর