English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

হাইকোর্টে রিট

মোহাম্মদপুরের ১৪টি ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ১৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দ্রুত এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দিয়েছেন।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বিপরীতে বাবর রোড, হুমায়ুন রোড ও খিলজি রোডে মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে এসব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। বন্ধের নির্দেশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলোক্রিসেন্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, বিডিএম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, সেবিকা জেনারেল হাসপাতাল, জনসেবা নার্সিং হোম, লাইফ কেয়ার নার্সিং হোম, রয়্যাল মাল্টি স্পেশালিটি হসপিটাল, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা মেন্টাল হসপিটাল, মনমিতা মেন্টাল হসপিটাল, প্লাজমা মেডিক্যাল সার্ভিস অ্যান্ড ক্লিনিক, শেফা হসপিটাল, ইসলামিয়া মেন্টাল হসপিটাল, মক্কা-মদিনা জেনারেল হাসপাতাল, নিউ ওয়েল কেয়ার হসপিটাল ও বাংলাদেশ ট্রমা স্পেশালাইজড হসপিটাল।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে করা এক রিট আবেদনে এই আদেশ দেওয়া হয়। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল পরিচালনা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এগুলো পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশ কমিশনার, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রাজধানীতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান : ৫০০ মিটারে ২৬টি, ১৪টিই অবৈধ হাসপাতাল শিরোনামে ২০ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদনটি করা হয়।

আদেশের পর অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কারণ হাসপাতালের সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে ওই সব বেআইনি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে গত ৯ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন করা হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবর রোড, খিলজি রোড ও হুমায়ুন রোডে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল চলছে লাইসেন্সের শর্ত পূরণ ছাড়াই। শর্ত পূরণ না হওয়ায় লাইসেন্সও নবায়ন হয়নি। ফলে অবৈধ হয়ে পড়েছে এসব হাসপাতাল। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং পঙ্গু হাসপাতালের রোগীদের কেন্দ্র করেই মূলত গড়ে উঠেছে এসব হাসপাতাল। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগী দেখছেন অবৈধ এসব হাসপাতালে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এসব হাসপাতাল গড়ে তোলার পেছনে রয়েছেন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কখনো নিজের নামে, কখনো অন্যের নামে এসব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁরা। এগুলোর বেশির ভাগ রোগীই সরকারি হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে আনা।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর