English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী

জাতীয় নির্বাচনে সীমিত ইভিএম ব্যবহার হবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত আকারে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে তার আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করতে হবে বলে জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ইভিএম কেনা সংক্রান্ত প্রকল্পটি ১৮ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামীমা নার্গিস, আইএমইডি (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) সচিব মফিজুল ইসলামসহ অন্যরা।

এদিকে গতকাল বিকেলে ইভিএম ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত প্রকল্পের ওপর মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) দিলোয়ার বখতের সভাপতিত্বে বৈঠকে অর্থ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ ও আইএমইডি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পরিকল্পনামন্ত্রীর সুপারিশক্রমে প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো যেতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় দেড় লাখ ইভিএম কেনার কথা।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, এই প্রকল্পে এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। ২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে কোনো প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়া যায় কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পে সমীক্ষা লাগবে না। কারণ ইতিমধ্যে আমরা ইভিএম ব্যবহার শুরু করেছি। আমরা বরিশাল, খুলনায় ইভিএম ব্যবহার করেছি। কিন্তু সেখানে কোনো অভিযোগ পাইনি। ইভিএম নিয়ে কেন এত তাড়াহুড়া করা হচ্ছে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা একসঙ্গে ইভিএম ব্যবহার করব না। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব। আমরা তাড়াহুড়া করছি না।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কোথাও বলে ইভিএম ব্যবহার ভালো আবার কোথাও বলে ইভিএম ব্যবহার খারাপ। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে পারলে আমরা কেন করব না। কোনো না কোনো সময় ইভিএম তো ব্যবহার করতে হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে সবার ধারণা আছে কি না সেটিও দেখতে হবে। ইভিএম যাঁরা ব্যবহার করবেন, তাঁরা সন্তুষ্ট কি না তাঁদের বিষয়টিও ভাবতে হবে। আমার বক্তব্য হলো, ধীরে ধীরে ইভিএম ব্যবহার করতে হবে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্থানে। সবখানে নয়। তবে আসছে নির্বাচনে ইভিএম থাকবে কি না সে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আমরা শুধু প্রকল্প অনুমোদন করে দেব। এই প্রকল্পের আওতায় ইভিএম কী পদ্ধতিতে কোন দেশ থেকে কেনা হবে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, একনেক সভায় অনুমোদনের পর ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে যাবে প্রস্তাবটি। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে কেনা হবে ইভিএম।

এদিকে সরকারের শেষ সময়ে এসে ভোটারদের মন জয় করতে ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নে পাঁচ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) নির্বাচিত মাদরাসাগুলোর উন্নয়ন শিরোনামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তা থেকে প্রত্যেক এমপি তাঁর সংসদীয় এলাকার ছয়টি করে মাদরাসার উন্নয়নে সাড়ে ২২ কোটি টাকা পাবেন। সভায় এ নিয়ে মোট ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রত্যেক এমপির কাছ থেকে তাঁর আসনের ছয়টি মাদরাসার তালিকা চেয়েছি। তাঁরা সেভাবে তালিকা দিয়েছেন। সেই আলোকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্বাচিত মাদরাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন করবে।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর