English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আ. লীগে কোন্দল

এমপি নেতাদের শোকজ

  • তৈমুর ফারুক তুষার    
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রের নির্দেশনা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বিবাদ না মেটানোয় গতকাল চার জেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। নোটিশ পাঠানোর তালিকায় দলটির কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা কমিটির নেতা যেমন আছেন, তেমনি আছেন সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা নোটিশের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সারা দেশে সংগঠনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো অব্যাহত থাকবে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে কুরিয়ারযোগে চার জেলায় কোন্দলে জড়িত নেতাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, কার্যনির্বাহী সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা, বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকেও উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের পেছনে দলীয় কোন্দল বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। কামরানের পক্ষে ভূমিকা না রাখায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলমকে। দলের নেতাদের পক্ষে রাখতে না পারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকেও।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হামিদুল ইসলামকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীতে তিন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দাদার সঙ্গে কোন্দলে জড়ানোয় নোটিশ পাঠানো হয়েছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদকে। সংগঠনে কেন সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারছেন না তা জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারাকেও।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারওয়ার টিপুকে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি জায়গায় দলের অভ্যন্তরে সমস্যার কারণে অনভিপ্রেত কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেই জায়গাগুলোতে যেন অবস্থার অবনতি না হয় সে জন্য আমরা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছি। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর কোন কোন জেলায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হতে পারে জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, এই মুহূর্তে যেসব জেলায় পাঠানোর প্রয়োজন মনে হয়েছে সেসব জেলায় পাঠানো হয়েছে। দলের যেকোনো পর্যায়ের যে-ই হোক না কেন, যত প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন, দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি দলে শৃঙ্খলা সব সময়ই প্রয়োজন তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা আরো বেশি জরুরি।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর