English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ট্রেনযাত্রায় ওবায়দুল কাদের

নির্বাচন ভণ্ডুল করতে বিএনপি ষড়যন্ত্র আঁটছে

  • সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি    
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য বিএনপি জোট দেশ-বিদেশে বৈঠক করে ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে। কারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল হওয়ার মতো যোগ্যতাও তাদের নেই। আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ করার কোনো সম্ভাবনা নেই। গেল ১০ বছরে ১০টি আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। মূলত তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ বিরোধী দল আন্দোলনে সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে না। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেন যাত্রায় উত্তরবঙ্গ সফর শেষে বিমানযোগে ঢাকা ফেরার প্রাক্কালে তিনি সৈয়দপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথাগুলো বলেন। গতকাল রবিবার সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিভিআইপি লাউঞ্জে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, বিএনপি নির্বাচন থেকে পালাতে নাশকতা করার ছক আঁটছে। দেশের মানুষ উন্নয়নের রাজনীতির পক্ষে। উত্তরবঙ্গে অনুষ্ঠিত পথসভাগুলোয় জনগণের উপস্থিতিই তা প্রমাণ করে। আওয়ামী লীগের পথসভাগুলো জনসভায় পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ তীব্র রোদে পুড়ে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে আমাদের উন্নয়নের রাজনীতির কথা শুনেছেন। ১১টি নির্ধারিত সভার জায়গায় ১৮টি সভা আমাদের করতে হয়েছে। প্রতিটি সভায় জনতার ঢল নামে। জনগণের বাঁধভাঙা স্রোত আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের ইঙ্গিত দেয়। আর এসব সভায় নারীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীদের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছেন।

তাঁর নেতৃত্বে ট্রেন যাত্রায় সভা করতে গিয়ে ট্রেন যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হয়েছেসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি যাতে না হয়, সে জন্য ছুটির দিনে আমরা প্রগ্রাম করেছি। তবে অনেক মিডিয়া গুজব সৃষ্টি করে তা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়, যা আদৌ কাম্য হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেন যাত্রা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ এমপি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, বি এম মোজাম্মেল হক এমপি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমেনা কোহিনুর আলম প্রমুখ।

এর আগের দিন শনিবার রাত ৯টায় সৈয়দপুর রেলস্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভাত, কাপড়, থাকার ঘর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের অভাব নেই; অভাব আছে নৌকার মাঝির। বিরোধী পক্ষ জয়ের গান উচ্চারণ করলে আমাদেরও জয়ের গান বলতে হবে, আর এ জন্য প্রয়োজন ১৫৮টি আসন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন পেতে হলে জননেত্রী শেখ হাসিনা যাঁকে মনোনয়ন দেবে তাঁর পক্ষেই কাজ করতে হবে। বিএনপির আমলে ৩০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেত। এখন শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মাত্র চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, এখন উৎপাদন হয় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমান ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৫ কোটি মানুষের হাতেই মোবাইল ফোন। দেশের ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করছে। তার কারণ বাংলাদেশ ডিজিটাল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উপহার দিয়েছে শেখ হাসিনা। মানবতার মা শেখ হাসিনা মায়েদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য সন্তানের পরিচয়ে বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নামও যুক্ত করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে মায়েদের আর সেই সম্মান থাকবে না। বর্তমান সরকারের আমলে নারীরা বিচারপতির আসনে বসেছে। তারা এখন ট্রেন, মোটরগাড়ি ও বিমান চালায়। দেশের তরুণ ও নারী ভোটাররাই আমাদের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার। তার কারণ তারাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা ভোগী অংশ।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর