English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সাক্ষাৎকার

দক্ষ মানবসম্পদই পারে বাংলাদেশকে বদলে দিতে

বান্দার হাজ্জার
প্রেসিডেন্ট, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)

  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) প্রেসিডেন্ট ড. বান্দার বিন মোহাম্মদ বিন হামজা আসাদ আল হাজ্জার দুই দিনের সফরে এখন ঢাকায়। আইডিবির আঞ্চলিক অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। সফরের প্রথম দিন গতকাল শনিবার যোগ দিয়েছেন রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে ট্রান্সফরমার্স রোড শোতে। আইডিবির অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প ঘুরে দেখার কথা রয়েছে তাঁর। ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক অফিস খোলার উদ্দেশ্য, ইসলামী ব্যাংকে আইডিবির মালিকানা কমিয়ে দেওয়া, রোহিঙ্গাদের সহযোগিতাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন কালের কণ্ঠর সঙ্গে। র্যাডিসন হোটেলের লবিতে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠর নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুর রহমান ছয় বছর ধরে দায়মুক্তি সুবিধাসহ নানা জটিলতায় আটকে ছিল ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) ঢাকায় আঞ্চলিক অফিস খোলার প্রস্তাবটি। সব জটিলতা কাটিয়ে আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে আইডিবির আঞ্চলিক অফিস। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইডিবি ভবনের দশম তলায় আঞ্চলিক অফিস উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক অফিস খোলার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কী, এমন প্রশ্নে বান্দার বিন হাজ্জার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আইডিবির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে আইডিবি। তবে আঞ্চলিক অফিস না থাকার কারণে কাজে গতি আসে না। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সময় অনেক বেশি লাগে। ঢাকায় আঞ্চলিক অফিস খোলা হলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ও দ্রুত হবে। দুই পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করতে আঞ্চলিক অফিস করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আঞ্চলিক অফিস থেকে পাশের দেশ ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, চীন, শ্রীলঙ্কাসহ আরো অনেক দেশে এখান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আইডিবির অর্থায়ন ও কর্মকাণ্ড বিকেন্দ্রীকরণের যে পরিকল্পনা রয়েছে, এটি তারই অংশ। শুধু মুসলিম দেশগুলোতে নয়, অমুসলিম দেশগুলোতেও ঋণ সহযোগিতা দিচ্ছে আইডিবি। যেখানে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া প্রয়োজন, সেখানে তা দেওয়া হচ্ছে। আইডিবির সদস্য নয়, এমন দেশগুলোকেও ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যারা মুসলিম দেশ নয়, তাদেরও ঋণ দিচ্ছে আইডিবি।

বাংলাদেশকে কেমন দেখছেন, এমন প্রশ্নে বান্দার হাজ্জার বলেন, বিশ্ব এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। সেটি হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। আপনি সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে দেখুন। গত ১৫ বছরে দেশ দুটিতে কি পরিবর্তনটা এলো। দেশ দুটির পুরো আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এটা সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। এখানে প্রচুর তরুণ শক্তি আছে। এই তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। জনশক্তিকে দক্ষ করে তুলতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদই পারে বাংলাদেশকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে। আমরা সেটা নিয়েই কাজ করছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে আমরা ৫০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ট্রান্সফরমেশন ফান্ড। যে কেউ তার সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিলে ওই তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হবে। বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা আছে।

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও সংস্থা সরব থাকলেও আইডিবি চুপ কেন, এমন প্রশ্নে বান্দার বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আইডিবি চুপ করে বসে নেই। বাংলাদেশ সরকার যেভাবে তাদের আশ্রয় দিয়েছে, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তাতে অবশ্যই সরকার প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে। আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশ্বব্যাংক ও এডিবি রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান ঘোষণা করেছে; এটা যেমন ঠিক তেমনি আইডিবিও রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছে। তবে সরাসরি নয়, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে। এই সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে কারিগরি। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের থাকার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র করে দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আইডিবি তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে আইডিবির সাড়ে ৭ শতাংশের ৫ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বান্দার হাজ্জার বলেন, ইসলামী ব্যাংক শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই। আমরা যখন দেখেছি, ব্যাংকটি নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম, তাই আমরা সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের কৌশলই এমন। আমরা এখন অন্য কোথাও বিনিয়োগ করব। সেটা বাংলাদেশেও হতে পারে; পৃথিবীর অন্য কোনো দেশেও হতে পারে। তিনি বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে যেকোনো প্রতিষ্ঠান যখন আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আসে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই এবং আমরা সেখানে সম্পৃক্ত হই। ইসলামী ব্যাংকের বেলায় তা-ই ঘটেছে। তবে ব্যাংকটি এখন প্রতিষ্ঠিত। তাই আইডিবির শেয়ার ছেড়ে দেওয়া। আইডিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পর ব্যাংকটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং শেয়ারের দাম পড়তির দিকে, এমন প্রশ্নে হাজ্জার বলেন, পৃথিবীর সব দেশের শেয়ারবাজারের এটাই নিয়ম। এটা শুধু বাংলাদেশের বেলায় প্রযোজ্য নয়। শেয়ারবাজারের প্রকৃতিই এমন। এক দিন শেয়ারের দাম বাড়বে, আরেক দিন কমবে। উদাহরণ দিয়ে বলি, বাজারে এক দিন আপনার শেয়ারের দাম দেখবেন ১০০ টাকা, পরের দিন দেখবেন সেটা কমে ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। আবার দেখবেন সেটা ১৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এক মাস আগে যে চিত্র দেখবেন, এক মাস পর সে চিত্র আপনি দেখবেন না। আমরা কখনো ব্যাংকের লাভ দেখি না। সেটি দেখা আমাদের লক্ষ্যও নয়। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার সঙ্গে তুলনা করলে আইডিবির ঋণের সুদের হার বেশি, এমন প্রশ্নে বান্দার হাজ্জার সুদ শব্দটি বলতে নারাজ। তাঁর মতে, আইডিবি সুদের বিনিময়ে টাকা দেয় না। মুদারাবাসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অবলম্বন করে টাকা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে আগামী দিনে আইডিবির ঋণ বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নে বান্দার বলেন, বাংলাদেশ সরকার থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। সেখান থেকে অগ্রাধিকার ঠিক করছি। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত দুই হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে সহযোগিতার পরিমাণ বাড়বে আইডিবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে ভালো করছে। এখানে প্রতিবছর গড়ে ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। দারিদ্র্যের হারও কমছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যেতে চাইলে মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর