English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নির্বাচন ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা পুলিশের

♦ খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশ সদস্য ও পরিবারের রাজনৈতিক প্রফাইল
♦ বিএনপি-জামায়াতের মাঠপর্যায়ের নেতাদের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ

  • সরোয়ার আলম   
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারা দেশের পুলিশকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা। বিভিন্ন মাত্রার অপরাধীদের ধরতে শিগগির শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা আগামী মাসের প্রথমার্ধে শুরু হতে যাওয়া এই অভিযানে যুক্ত হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সূত্র জানায়, স্থবির হয়ে থাকা সারা দেশের রাজনৈতিক মামলাগুলো সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের শান্ত পরিবেশ যাতে অশান্ত না হয় সে জন্য বিএনপি ও জামায়াতের মাঠপর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের তালিকা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও মামলার পলাতক আসামিদের ধরতেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, শান্ত দেশকে কেউ অশান্ত করার চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরার চেষ্টা চলছে। নাশকতা রুখতে পুলিশ-র্যাবসহ অন্যান্য সংস্থা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যেকোনো ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবেলার কৌশল নিয়ে হোমওয়ার্ক শুরু করেছে র্যাব ও পুলিশ। রাজপথের আন্দোলনে যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে জামায়াত, বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। তালিকায় বিশেষ করে আন্দোলনের নামে নাশকতা চেষ্টার সন্দেহভাজন এবং গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজি মামলার আসামিদের নাম স্থান পাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল করতে বলা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, আর থাকলেও কোন দলের সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দিন থেকেই বিএনপি ও জামায়াত জোট রাজপথে আন্দোলনে নামতে পারে বলে তথ্য রয়েছে। আর এই আন্দোলনে হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও, পদযাত্রাসহ নানা ধরনের কর্মসূচি থাকতে পারে। এসব কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরে গত কয়েক দিন ধরে একেকটি রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশ সুপারদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসব বৈঠকে নির্বাচন ঘিরে যাতে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়।

ওই সব বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইজিপি বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের শান্ত পরিবেশ কেউ অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করলে তাদের কঠোরভাবে দমন করতে বলা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় যেকোনো সময় কম্বিং অপারেশন শুরু হবে। ওই অপারেশনে বিজিবিও থাকবে। বিএনপি-জামায়াতের সন্দেহভাজন বিশৃঙ্খলাকারীদের তালিকা করে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেও বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে যেসব সহিংসতার মামলা ছিল সেগুলো সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো কিভাবে সচল করতে হবে সেই নির্দেশনাও দেওয়া আছে। আর এই নির্দেশনা পেয়ে থানা পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কক্সবাজার, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও সাতক্ষীরায় এমন মামলার সংখ্যা বেশি। ওই সব মামলায় আসামির তালিকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদেরও নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে কারাভোগ করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা ও তাণ্ডবসংক্রান্ত যেসব মামলা রয়েছে সেগুলো সচল করে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যেসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছে সেগুলো অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ শুরু করেছে পুলিশ ও র্যাব। তাদের সহায়তা করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। তালিকায় সন্ত্রাসীদের পারিবারিক পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন থানায় কটি মামলা, বড় ধরনের অপরাধ করে গ্রেপ্তার হয়েছে কি না এবং রাজনৈতিক পরিচয়, কবে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে তারও উল্লেখ থাকবে।

একাধিক জেলার পুলিশ সুপার কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন কর্মসূচি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলায় তাঁদের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আন্দোলনের নামে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে আন্দোলন শুরু করার আগেই বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, র্যাব সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা জোরেশোরে হোমওয়ার্ক শুরু করেছে।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর