English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বগুড়া যুবলীগ সভাপতির ছেলে অভির অপকর্মের আরো তথ্য

গ্রেপ্তার দাবিতে আজ মানববন্ধন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বগুড়ায় কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে জখম করার প্রধান আসামি কাওসার আলম অভিকে (২২) পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। শনিবার রাতভর পুলিশ শহরের একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে কোথাও তাকে পায়নি। গতকাল রবিবার অভির বাবা শহর যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জয় এবং তাঁর স্ত্রী ও ছেলে অভির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শহরের কাটনারপাড়া ও উপশহর এলাকার বাড়িও দেখা গেছে তালাবদ্ধ। অভির গ্রেপ্তার দাবিতে আজ মানববন্ধন করা হচ্ছে।

গতকাল নির্যাতিত তরুণীর বাড়ি পালশা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীর গোপনাঙ্গে ছুরিকাঘাতের খবরে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। তারা জানায়, অভির বাবা ও প্রভাবশালী চাচাদের হুমকি, ভয়ভীতি ও চাপের কারণে অনেকেই প্রথমে চুপ থেকেছে। এখন থানায় মামলা এবং পত্রিকায় খবর আসার পর এলাকাবাসী প্রতিবাদে সরব হচ্ছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় বগুড়ার শহরতলির তিনমাথা রেলগেট মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচিতে ছুরিকাহত তরুণীর সহপাঠী, স্থানীয় স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, এলাকাবাসী অংশ নেবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, অবিলম্বে অভিকে গ্রেপ্তার করে প্রশাসন উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে বগুড়ার দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অভিকে গ্রেপ্তারের জন্য গঠিত বিশেষ টিম শনিবার রাতে বগুড়া শহর ও শহরতলির কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালায়। গতকাল বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অভিকে ধরতে পারেনি পুলিশ। শনিবার কালের কণ্ঠে বগুড়ায় অভির তুফান কাণ্ড শিরোনামে সংবাদটি সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বখাটে অভির বিরুদ্ধে জোরালো শাস্তির দাবি তোলা হচ্ছে। কালের কণ্ঠ অফিসেও ফোন করে অনেকে বখাটে অভির বেপরোয়া জীবনযাপন এবং মাদক সেবনের অভিযোগ দিচ্ছে।

শহরের আলোচিত এই মামলা তদন্ত করছেন বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর শেখ ফরিদ উদ্দিন। গতকাল কালের কণ্ঠকে শেখ ফরিদ জানান, নির্যাতিত মেয়ের বাড়িতে তিনি গতকাল গিয়েছিলেন। তবে ভয়ে আছে পরিবারের সদস্যরা। তাই কথা বলতে চাইছে না।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া বলেন, বখাটে অভি ধরা পড়বেই। তার পালিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আশ্বাস দেন, নির্যাতিত তরুণীর পরিবারকে প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

অনুসন্ধানে নেমে দেখা গেছে, সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের ঘটনার পরে একইভাবে পুরো শহরে এখন আলোচিত হচ্ছে বখাটে অভির উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের কথা। অভির বন্ধু ও স্বজনরা নিশ্চিত নয় অভি এসএসসির গণ্ডি পার করেছে কি না। তবে অনেকেই জানিয়েছে, অভি নিজেকে বখাটে হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করত। তার ফেসবুক প্রফাইলে দেখা গেছে, হাতে জ্বলন্ত সিগারেট ও মুখে ধোঁয়া ছড়ানো ছবি। সেখানে তার মোটরসাইকেল বাহিনীর একাধিক ছবি, বাসায় ফ্রিজ থেকে বিয়ার বের করে খাওয়ার ছবিও রয়েছে। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় চ্যাট ও কমেন্ট করারও প্রমাণ মিলেছে।

বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় যে বাসায় অভিদের বসবাস তার আশপাশেসহ বগুড়া মহিলা কলেজ, নতুন শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, তাপসী রাবেয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন, জয়পুরপাড়া মাটিডালি বিমান মোড়, এসওএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও উপশহর এলাকায় মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাচল ছিল অভি বাহিনীর। এ কারণে এলাকাবাসী ছিল অতিষ্ঠ। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের শুরু ও ছুটির সময় টিনএজ ছাত্রীরা সব সময় আতঙ্কে থাকত কখন যেন অভির বাহিনীর সামনে পড়ে ইভ টিজিংয়ের শিকার হতে হয়। এ ছাড়া বিলাসবহুল শপিং মলগুলোতে কেনাকাটা করতে আসা তরুণীদের সঙ্গে অশালীন আচরণে বিকৃত আনন্দ বোধ করত অভি। জলেশ্বরীতলা এলাকার একাধিক শপিং মলের সেলসম্যানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য জানিয়েছে। তারা বলে, অভি সিগারেটের ধোঁয়া মুখে নিয়ে তরুণীদের দিকে ছুড়ে দিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভি মাদক সেবন করে। বাসার ফ্রিজেই সাজানো থাকত হরেক ব্র্যান্ডের বিয়ারের ক্যান। ফেসবুকে অভি নিজেই সেই ছবি পোস্ট করেছে। পরিবারের সদস্যরাও তার উচ্ছৃঙ্খলতাসহ সব কিছু নীরবে মেনে নিত। বাইরে উচ্ছৃঙ্খলতার সময় কখনো কখনো সংঘবদ্ধ প্রতিবাদের মুখে পড়লে তখন সে তার প্রভাবশালী রাজনৈতিক বাবা মাহফুজুল আলম জয়, বড় চাচা আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনের নাম ভাঙিয়ে পার পেয়ে যেত।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর