English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আজ আসছে চীনা অংশীদারের অর্থ

শেয়ার বিক্রির ৯৪৭ কোটি টাকা এক্সচেঞ্জে থাকবে তো?

  • রফিকুল ইসলাম   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

নানা জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৪ মে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে শেয়ার বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয় ডিএসই। কৌশলগত অংশীদারের কাছে শেয়ার বিক্রির অর্থ দেশে আসছে আজ সোমবার। আগামীকাল ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদে চীনা একজন প্রতিনিধি যুক্ত হবেন। চলছে এর প্রস্তুতিও।

এদিকে কৌশলগত অংশীদারের কাছে যে এক-চতুর্থাংশ শেয়ার বিক্রি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সেগুলোর আইনগত মালিক প্রতিষ্ঠানটির সদস্য ব্রোকারেজ হাউসগুলো। সদস্যরা ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি থেকে পাবে প্রায় ৯৪৭ কোটি টাকা এবং এই নিয়ে চলছে গুঞ্জন। প্রশ্ন উঠেছে, শেয়ার বিক্রির টাকা পুঁজিবাজারে থাকবে তো, নাকি মালিকরা টাকা অন্যত্র বিনিয়োগ করবেন?

এদিকে ডিএসইর প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স মওকুফের দাবি জানিয়ে আসছে। তাঁরা বলছেন, ক্যাপিটাল গেইন মওকুফ করা হলে পুরো অর্থই পুঁজিবাজারে আসবে। এমনকি আগামী দুই বছর এ টাকা কেউ নেবেই না, পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ হিসেবে থাকবে। এতে বাজারের তারল্য সংকটও দূরীভূত হবে।

এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন সংগঠনের নেতারা। তাঁরা বলেন, সরকার কর মওকুফ না করলে যে যার টাকা নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে। তাঁরা আশা করছেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে সরকার কর মওকুফ করবে।

সূত্র জানায়, ডিএসইর ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ শেয়ারের মালিক ২৫০ জন সদস্য। শতকরা হিসাবে প্রত্যেক সদস্যের শেয়ার ০.৪ শতাংশ বা ৭২ লাখ ১৫ হাজার ১০৬টি। সদস্যদের মোট শেয়ার থেকে কৌশলগত অংশীদারের কাছে ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার বিক্রি করে ব্রোকারেজ হাউস। আর এই শেয়ার বিক্রি থেকে প্রত্যেক সদস্য পাবেন প্রায় চার কোটি টাকা।

কর আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মূলধনী মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন কর দিতে হয়। এ হিসাবে ৯৪৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি থেকে সরকার কর পাবে ১০০ কোটি টাকার বেশি।

ডিএসইর সদস্যরা বলছেন, শেয়ার বিক্রির অর্থ কেউ চাইলে অন্যত্রও বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে সবাই যেহেতু শেয়ারবাজারে ব্যবসা করেন, নতুন আসার এই টাকার বড় অংশ স্টক এক্সচেঞ্জে ঢুকবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। আবার কেউ কেউ বলছেন, কোনো কোনো ব্রোকারেজ হাউসও এই অর্থ দিয়ে নতুন একটি আইনের শর্ত পুরণ করতে পারে। কারণ হাউসগুলো সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসা করলেও তাদের কারো কারো পেইড-আপ বা পরিচালন মূলধন কম। এদিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের রিস্ক বেইজড ক্যাপিটাল এডেকোয়েসি রুলস, ২০১৮ আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, সাধারণ ব্রোকারেজ হাউসের কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন বা পাঁচ কোটি টাকা পরিচালন মূলধন থাকতে হবে। অনেক ব্রোকারেজ হাউসই এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ। তাই আইন বাস্তবায়নে সময় চেয়েছে ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউসদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক কালের কণ্ঠকে বলেন, গেইন ট্যাক্স মওকুফ চেয়ে আমরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা আশ্বস্ত করেছি, কর মওকুফ করা হলে আগামী দুই বছর এই টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাবে থাকবে। আমরা কেউই এটা নেব না। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেই। ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ আরো বলেন, আমরা সবাই পুঁজিবাজারে ব্যবসা করি। কাজেই এই টাকা পুঁজিবাজারেই থাকবে। কিন্তু বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রত্যেকের নিজ নিজ বিষয়। চাইলে অন্য কোথাও বিনিয়োগও করতে পারে। তবে আশা করতে পারি, এই টাকার বড় অংশই পুঁজিবাজারে থাকবে।

শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তাব থেকে জানা গেছে, ডিএসইর ব্লকড হিসাবে থাকা ২৫ শতাংশ শেয়ার প্রতিটি ২২ টাকা দামে কেনার প্রস্তাব করে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ নেওয়ায় পর প্রতি শেয়ারের দাম এক টাকা করে কমে দাঁড়ায় ২১ টাকা। অর্থাৎ ২১ টাকা করে ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনছে কনসোর্টিয়াম, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫ টাকা। পাশাপাশি এই কনসোর্টিয়াম কারিগরি ও প্রাযুক্তিক উন্নয়নে ৩৭০ কোটি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) সহায়তা করবে। সব মিলিয়ে এক হাজার ২৪৬ কোটির বেশি টাকা পাবে ডিএসই।

প্রথম পাতা- এর আরো খবর