English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কুষ্টিয়ার তিন মহাসড়ক

টাকা তুলতে লাঠি হাতে পাহারা

  • তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া-পাবনা ও কুষ্টিয়া-মেহেরপুর এই তিনটি মহাসড়কে দিন দিন পরিবহনে চাঁদাবাজি বেড়েই চলছে। লাল পতাকা ও লাঠি হাতে এক শ্রেণির পরিবহন শ্রমিক প্রতিদিন বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। তাদের চাঁদাবাজির কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, দুস্থ ও অসহায় শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য এসব টাকা তোলা হলেও বাস্তবে তা এক শ্রেণির নেতারা পকেটে ঢোকান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মহাসড়কে এ চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-পাবনা সড়কে হিসাবের গুদামের আগে এবং বারখাদা ত্রিমহোনী বাজারের পরে, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পরে এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কে বটতৈলে চাঁদা আদায় করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক, ট্রাকলরি ও কাভার্ড ভ্যান সমিতির নাম করে লাল পতাকা হাতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখা যায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে। তারা প্রতিটি যানবাহন থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে।

এসব রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা জানায়, সড়ক-মহাসড়কে এ ধরনের চাঁদাবাজির কারণে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তারা চাঁদাবাজ নাকি হামলাকারীতা বোঝাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিবহন শ্রমিকরা জানায়, দুস্থ, অসহায় শ্রমিকদের কল্যাণের কথা বলে প্রতিদিন একেকটি মহাসড়ক থেকে ১০০ পৃষ্ঠার ছয়টি চাঁদার বই দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। কিন্তু এসব টাকা সাধারণ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় না করে এক শ্রেণির নেতারা ভাগ-বাটোয়ারা করে খায়।

প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক, ট্রাকলরি ও কাভার্ড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র। সবকিছু এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। তবে আমাদের গঠনতন্ত্রে যানবাহন থেকে টাকা তোলার বিধান রয়েছে। তাই দুস্থ শ্রমিকদের কল্যাণের জন্যে এই টাকা তোলা হয়ে থাকে। কুষ্টিয়া ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক এম এমরান হোসেন তাঁদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন থেকে কোনো টাকা তুলি না। কারা তোলে এ ব্যাপারেও আমরা কিছু জানি না। আমরা অভিযানে গেলে কাউকে খুঁজেও পাই না।

পরিবহনে চাঁদাবাজি- এর আরো খবর