English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পাটুরিয়া ঘাট

বাড়তি টাকায় মেলে ফেরির সিরিয়াল

  • মারুফ হোসেন, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)   
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানজটে চালকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া ঘাটে বাড়তি টাকা দিলেই শুধু পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর ফেরিতে ওঠার সিরিয়াল মিলছে। ফেরিতে ওঠার আগে অন্তত তিন-চার জায়গায় অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় দালালচক্র, পুলিশ ও বিআইডাব্লিউটিসির টিকিট কাউন্টারের সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেট করে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছে। আর টাকা না দিলে কয়েক দিন ঘাট টার্মিনালে পড়ে থাকতে হচ্ছে বলে ট্রাকচালকরা অভিযোগ করেছে।

গত কয়েক দিন ধরে নদীতে প্রবল স্রোত ও পানি বাড়ার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচলে মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে পাটুরিয়া ঘাটে গত শুক্রবার সকাল থেকে সাত শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা আছে। ঘাট এলাকা থেকে দেড় কিলোমিটার ও পাটুরিয়া সংযোগ মোড় থেকে শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার ট্রাকের সারি দেখা যায়।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ পণ্যবাহী ট্রাক ঘাটে এসে দুদিন ধরে বসে আছে। এ সময় ট্রাকচালকরা অভিযোগ করে বলে, পাটুরিয়া সংযোগ মোড় থেকে ঘাট টার্মিনাল সড়কে ঢুকতে গেলে পুলিশকে ২০০-৩০০ করে টাকা দিতে হচ্ছে। পরে ফেরিতে ওঠার জন্য টিকিট কিনতে হয়। বড় পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য এক হাজার ৪৬০ টাকা, মাঝারি ও ছোট ট্রাকের জন্য এক হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু নির্ধারিত ভাড়ার বদলে দালালচক্র টিকিটপ্রতি ১৮০০-২০০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এরপর টার্মিনাল থেকে ফেরিঘাটের সড়কের সিরিয়ালে ওঠার জন্য পুলিশকে আবারও টাকা দিতে হচ্ছে।

টঙ্গী থেকে শিশুখাদ্য বোঝাই করে বাগেরহাটগামী একটি ট্রাকের চালক রুহুল আমীন বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ঘাটে এসেছি। দালালরা টিকিটের জন্য দুই হাজার টাকা চায়। টাকা না দিলে টিকিট দেবে না বলে হুমকি দেয়। পরে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দিয়েছি।

মনির নামের আরেক ট্রাকচালক বলেন, আমি ভালুকা থেকে বরগুনা যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঘাটে বসে আছি। দালালদের মাধ্যমে টিকিট কাটতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ টাকা গুনতে হয়েছে। আবার টার্মিনাল থেকে ফেরিতে ওঠার জন্য পুলিশরা বাড়তি টাকা চাইছে। টাকা না দিলে সিরিয়ালে সবার পরে যেতে হবে।

এ ব্যাপারে বিআইডাব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দীন রাসেল জানান, ফেরি পারাপারে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়া হচ্ছে না। তবে দালালরা স্থানীয় হওয়ায় কোনো সুযোগ নিতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এর আগে জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে।

পাটুরিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) রাসেল আরাফাত বলেন, তাঁদের কাছে এ রকম কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে অনেক সময় পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে পার করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

পরিবহনে চাঁদাবাজি- এর আরো খবর