English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

তারকার ঈদ

ঈদের দিন তারকারা কী করেন, এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্তদের। ঈদ উদ্‌যাপনে বাড়তি কিছু করেন কি? ঈদ নিয়ে তাঁদের স্মরণীয় ঘটনাই বা কী! জানিয়েছেন আতিফ আতাউর

  • ১৩ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০

এফডিসিতে কোরবানি মনে থাকবে

পরীমণি, অভিনেত্রী

ঢাকাই ছবির ব্যস্ত নায়িকা পরীমণি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ দুষ্টু আর চঞ্চল। কোরবানির হাটে যাওয়া ছিল তাঁর শৈশবের নিয়মিত ব্যাপার। পশু কোরবানি দিয়ে গরিব-দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে দেখতে তখন থেকেই খুব ভালো লাগে পরীমণির। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বড় হয়ে তিনিও কোরবানি করে গরিবদের মাঝে মাংস বিলিয়ে দেবেন। গত বছর ঘটেছে সেই ঘটনা। নিজের কর্মস্থল এফডিসির অসহায় ও দুস্থ শিল্পী-কলাকুশলীদের জন্য গরু কিনে কোরবানি দিয়ে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন পরীমণি। বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময়ই ভালো লাগে। দুস্থ ও পথশিশুদের জন্য কিছু করতে পারলে আনন্দ হয়। গত বছর এফডিসিতে পশু কোরবানি দিয়েছিলাম। এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা ঘটনা। এবারও আশা আছে এফডিসিতে কোরবানি দেওয়ার।

যদি বাবাকে টাকা দিতে পারতাম!

সিয়াম আহমেদ, অভিনেতা

বেশ কয়েক বছর ধরে কোরবানি দেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। এবারও নিয়ত করেছেন গরু কোরবানি দেবেন। সিয়াম বলেন, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে কোরবানির পশু কিনতে হাটে যেতাম। বাবা অনেক দেখেশুনে গরু কিনতেন। গরুর দড়ি ধরে বাসায় নিয়ে আসতাম। গরু কিনে বাবা যখন টাকা দিতেন, ভাবতাম, আমি যদি বাবাকে গরু কেনার টাকা দিতে পারতাম! সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পয়সা উপার্জনের পর থেকেই প্রতি ঈদে কোরবানির গরু কেনার জন্য বাবাকে আলাদা করে টাকা দিই। এই কাজটা করতে খুবই ভালো লাগে। এ ছাড়া পরিচিত দুস্থ-গরিবদেরও পাশে দাঁড়াই। তার পরও কেন যেন ছোটবেলার ঈদের যে আনন্দ, তার ছিটেফোঁটাও এখনকার ঈদে মেলে না।

জানতাম না গরুটি কোরবানি করা হবে

ফেরদৌস, অভিনেতা

আমার বেড়ে ওঠা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। ঈদের যত স্মৃতি, সব ঢাকা ঘিরেই। এই ঈদে গরু কোরবানি দেওয়ার নিয়ত আছে। ছোটবেলায় কোরবানির গরু কিনতে বাবার সঙ্গে হাটে যেতাম। একবার অনেক খুঁজে বাবা কালো রঙের একটি গরু কিনলেন। গরুটি বাসায় নিয়ে আসার পর সারাক্ষণের জন্য তার সঙ্গী হয়ে গেলাম। গরুকে খাওয়ানো, গোসল করানোসব করছি রীতিমতো। মনের অজান্তেই গরুটির প্রতি মায়া জন্মে গেল। মজার ব্যাপার, গরুটি যে কোরবানি দেওয়া হবে, সেটাই আমি বুঝতে পারিনি। যখন সেটি কোরবানির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল, এত কষ্ট পেয়েছিলাম! এখন নানা কারণে কোরবানির গরুর হাটে আর যাওয়া হয় না।

গরিব-দুস্থদের পাশে দাঁড়াই

তাহসান, সংগীতশিল্পী

ঈদের সকালে মায়ের হাতে তৈরি সেমাই খেয়ে ঈদের নামাজে চলে যাই। ফিরেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি কোরবানির কাজে। পশু কোরবানির পাশাপাশি প্রতি ঈদেই সাধ্যমতো গরিব-দুস্থদের পাশে দাঁড়াই। আমার মা মানুষের পাশে দাঁড়াতে খুবই ভালোবাসেন। সব সময়ই মানুষের বিপদ-আপদে তাদের কাছে ছুটে যান। ঈদে তিনি গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নগদ অর্থ, কাপড়, সেমাই, চিনি বিতরণ করেন।

এবারের ঈদেও সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করব।

গরিবদের নিজের কাপড় দিয়ে দিই

ববি হক, অভিনেত্রী

চার বছর ধরে নিজে কোরবানি দিচ্ছি। বাবাকেও কোরবানির পশু কিনতে টাকা দিই। এটা খুবই ভালো লাগে। প্রতি ঈদেই আরো একটি কাজ করি। বাসায় যেসব কাপড় জমে যায়, ঈদের আগে সেগুলো বের করি। এরপর নিজে গিয়ে অসহায়-দুস্থদের মাঝে কাপড়গুলো বিলিয়ে দিই। অনেক সময় তাদের জন্য আলাদা করে পোশাক কিনি। ঈদের দিন নিজে গরিবদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করি। এটা করে তাদের মুখে যে হাসি দেখতে পাই, তার কোনো তুলনাই হয় না।

হাটে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলাম

মেহজাবিন চৌধুরী, অভিনেত্রী

কোরবানি উপলক্ষে বাসায় গরু-ছাগল কিনে আনার পর থেকেই আনন্দের বাঁধ ভেঙে যেত। ছোটরা সবাই কোরবানির পশু নিয়ে মেতে থাকতাম। বড়দের কাছে গরুর হাটের নানা গল্প শুনতে শুনতে একবার গরুর হাট দেখার খুব ইচ্ছা হলো। গরুর হাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবদার করলাম। কিন্তু তাঁরা নেবেন না। লুকিয়ে তাঁদের পিছু পিছু হাটের উদ্দেশে রওনা দিলাম। হাটে গিয়ে তাঁদের হারিয়ে ফেলি। প্রথমে একটু ভড়কে গেলেও পরে ঠিকই পথ চিনে বাসায় ফিরেছিলাম।

ঈদ উৎসব ২০১৮- এর আরো খবর