English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

গল্প

সত্য মিত্যার মাঝামাঝি

হাবিব আনিসুর রহমান

  • ১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০

গাঢ় কালো রঙের একটা টি-শার্ট পছন্দ করল শায়লা। আজিজ সুপারমার্কেটের নিচতলার দোকানে দাঁড়িয়ে আমার বুকের ওপর পর পর তিনবার শার্টটা ধরতে বলে ঘুরেফিরে দেখল। সেলসম্যান ছেলেটা একগাল হেসে বলল, খুব হ্যান্ডসাম লাগছে স্যারকে। এটাই নেন ম্যাডাম, প্যাকেট করে দিই?

শায়লা আবার শার্টটা আমার বুকের ওপর ধরতে গেলে পিছিয়ে গেলাম আমিথাক, দরকার নেই! তার পরও কয়েকটা টি-শার্ট দেখল শায়লা। পছন্দ হলো না। শেষে সিদ্ধান্ত হলো, এটাই নেবে।

আমি এসব ব্যাপারে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এত বছরের সংসার, এখন দুজন দুজনকে ভালোভাবেই চিনেছি। তিন দিন পর রোজা। যারা ঝক্কিঝামেলা একেবারে পছন্দ করে না, তারা এখনই কেনাকাটার কাজটা সেরে রাখে; শায়লা তাদের দলে। যেমন ভিড় মার্কেটের ভেতরে, তেমনই ভিড় রাস্তায়। মানুষ শুধু ছুটছে, বিশেষ করে মহিলা ক্রেতারা। ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতেই লোকসমাগম বেশি। শপিংয়ে এলে ভিড় ঠেলে দু-পাঁচটা দোকান ঘুরতে হবেই, তা না হলে পছন্দমতো কাপড়টা কিনতে পারবে না। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে শেষে ওই ফাস্ট ফুডের দোকানে গিয়ে চটপটি, বার্গার, ফুচকা আর একটা কোল্ড ড্রিংকস তো খেতেই হয়; এসব ছাড়া কেনাকাটা জমে না।

শায়লা তারপর আরো কিছু কিনল। আমার জন্য একটা পাঞ্জাবি, ম্যাচ করে একটা কোটিও কিনে দিল। বিকেলে গাউছিয়ায় যাবে শাড়ি কিনতে।

মার্কেট থেকে বের হয়ে দেখি রিকশা মাত্র দুটি। গ্রিন রোড যাবেন, জিজ্ঞাসা করতেই মাথা নেড়ে বলে, না। বুঝতে পারলাম, আজ কপালে খারাবি আছে। গ্রিন রোডের দিকে কেউ যাবে না। জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদ ছড়িয়ে রয়েছে চারপাশে। বেশিক্ষণ তিষ্ঠানো যাবে না এই আগুনরোদে। রিকশার বদলে সারি সারি রিকশা-ভ্যানের ওপর আম, লিচু, জাম বিক্রি হচ্ছে। একবার ভাবলাম, কিছু আম কিনে নিয়ে যাই। আবার মনে হলো, ফরমালিন বা অন্য কিছু মেশায়নি তো! লিচু ছেলের খুব পছন্দ, কিন্তু গত সপ্তাহে আবিষ্কৃত হলো, লিচুর গায়ে রং। একটা রিকশা দেখে শায়লা দ্রুত তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল। বয়স্ক এক রিকশাওয়ালা। চারপাশে যাত্রীদের ভিড় দেখে ডাবল ভাড়া হেঁকে বসলেও বসতে পারত; কিন্তু না, ঠিক ভাড়াটাই সে চাইল। ভাড়া বেশি চাইতেই পারে। তাদের যুক্তিও তো আছে। প্রতিটি মোড়েই জ্যাম, আধাঘণ্টার রাস্তা লেগে যায় দেড় ঘণ্টা। বেশি ভাড়ার কথা শুনলে মেজাজ বিগড়ে যায় শায়লার। আজ তেমন কিছু ঘটল না। নির্বিঘ্নে রিকশায় উঠে বসলাম।

রিকশা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। পেডালের ওপর পা দুটি চেপে ধরে একটা ধীরগতির ছন্দে চলছিল রিকশা। কাটাবন মোড়ের অনেকটা আগেই জ্যামে পড়ে যায়। রিকশাওয়ালার ময়লা লুঙ্গি, জীর্ণ শার্ট আর দুটি খালি পায়ের দিকে তাকিয়ে আমার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। এই বয়সে রিকশা চালাচ্ছে লোকটা! সারা দিন পরিশ্রম করে কত উপার্জন করে? হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করে বসলামরিকশা সারা দিন চালান?

আমারে জিগাইলেন, স্যার?

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি।

হ, হারা দিনই চালাই।

রিকশাওয়ালা চালাচ্ছে আর পেছন ফিরে কথা বলছে। শায়লা বিরক্ত হয়ে বলে, ওকে চালাতে দাও, কথা বোলো না। রিকশা আবার জ্যামে আটকে গেলে আমি আবার জানতে চাইযে টাকা পান, তাতে সংসার চলে?

হ স্যার, চলে; কষ্টে। কিন্তু ঘরভাড়া দিতে হয়। সব ট্যাকা ওইখানেই যায়গা; হ্যাষে সংসার চালাইতে পারি না, ধার হয়।

থাকেন কোথায়?

বসিলায় থাকি।

সারা দিন গাড়ি চালান, রেস্ট নেন না?

হ, লই। চায়ের দোকানের পাশে খাড়াইয়া চা-বিস্কুট, বিড়ি খাই। ওইটাই আমাগো জিরান।

অনেক কষ্ট হয়?

এখানে এসে শায়লা কনুই দিয়ে বেশ জোরেই ধাক্কা দিল আমাকে। বোকামির একটা সীমা থাকা দরকার! রিকশা চালাবে কিন্তু কষ্ট হবে না, এটা কেমন প্রশ্ন!

রিকশাওয়ালা আমাদের দিকে মুখ করে বলল

না স্যার, আমার কষ্ট হয় না।

কষ্ট হয় না! সারা দিন রিকশা চালান অথচ আপনার কষ্ট হয় না, বলেন কি! আশ্চর্য! এটা বলেই মাথার ওপরের আগুনের পিণ্ডটার দিকে তাকালাম একবার। তখন চারদিকে রোদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, চারপাশের মানুষগুলো গরমে হাঁপাচ্ছে।

হঠাৎ মনে হলো একটা জরুরি ওষুধ কেনার কথা ছিল, কিনতে ভুলে গেছি। রিকশাটা একটু ঘুরে গেলে ভালো হতো। শায়লাকে বলতেই শায়লা হালকা একটা ঝাড়ি দিলতোমাকে বলি লিস্টি নিয়ে বেরোবা, কিছুতেই কথা শোনো না!

রিকশাওয়ালা এবার পেছন ফিরে বলে

স্যার, দশ বচ্ছর আগে একবার আমার জন্ডিস হইছিল। দুই মাসের মইধ্যে আমার চোখ-মুখ বেবাক শরীল হলুদ হইয়া গেছিল। ঘরে হুইয়া থাকতাম আর সব সুমে চক্ষের সামনে আমার লাশ দেখতামবস্তির মাইনসে আমার লাশ লইয়া গোরস্তানে যাইতাছে।

ডাক্তার দেখাননি, ওষুধ খাননি? বলতে থাকলে আবার কনুইয়ের গুঁতা খেলামথামো তো। বেচারা গরিব মানুষ; ও ডাক্তার, ওষুধএসব পাবে কোথায়?

স্যার, তখন আমার বউরে দিছিলাম মাইনসের বাড়ির কাম করতে। সকালে বাইর হইয়া যাইত, আবার বারোটার সুমায় একবার আইসা আমারে দেইখা যাইত আর নাশতা দিয়া যাইত। কাপড় কাচা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ঘর মোছাএই সব কাম করত। হেই বেতনের ট্যাকা দিয়া কেরানীগঞ্জ থেইকা কবিরাজি ওষুদ আইনা খাওয়াইছে আমারে। ডাক্তারের ওষুদ খাই নাই। সব মাইনসে কইছে, ডাক্তারের ওষুদে জন্ডিস রোগ সারে না, আমি কবিরাজি খাইয়া ভালো হইছি, কবিরাজ স্বপ্নে ওই ওষুদের গাছ পাইছিলেন। তার পর থেইকা একটা আশ্চর্য জিনিস হইছে আমার!

আশ্চর্য জিনিস! কেমন, বলা যাবে?

কইতাছি স্যার, শুনেন, ওই যে অসুখের শরীল লইয়া ঘরে শুইয়া থাকতাম আর চক্ষের সামনে নিজের লাশ দেখতাম হারা দিন, তারপর কবিরাজের ওষুদ খাইয়া ভালো হইয়া আইলাম রিশকা চালাইতে; বুঝছেন স্যার। পরথম খ্যাপ মারলাম বসিলা থেইকা মহম্মদপুর। ভাড়া পাইলাম একখান বিশ ট্যাকা আর দুইটা দশ ট্যাকার নোট। সেই দিন থেইকা আইজ পর্যন্ত রিশকার ওপরে উইঠা বইলেই আমি চক্ষের সামনে খালি দশ-বিশ ট্যাকার নোট দেহি, গাড়ি চালাইতে আমার এট্টুও কষ্ট হয় না। এইডা হইল আমার কাহিনি, বুজছেন স্যার?

আশ্চর্য! রিকশা চালানো শুরু করলেই আপনি দশ-বিশ টাকার নোট দেখেন চোখের সামনে! হ্যাঁ, সেটা সম্ভব। সাইকোলজিতে এটা অসম্ভব কিছু নয়; বরং স্বাভাবিক। এটা দেখেন, কারণ ওই টাকার জন্যই তো আপনি রিকশা চালান, তাই না? এই রকম আর কিছু দেখেন?

আমাকে থামিয়ে দিল শায়লাআচ্ছা, তুমি এত কথা কেন বলছ! অসহ্য! আর একটা কথাও বলবা না।

দেখো, এই কথাগুলো বলছি সময় কাটানোর জন্য। বিষয়টা খুবই সহজ-সরল-সোজা। দেখছ না, সূর্যটা কিভাবে দাবড়ানি দিচ্ছে?

জ্যাম ছাড়লে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। রিকশা কাটাবন মোড় পার হয়ে ডান দিকে কিছুদূর গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল। রিকশা থেকে নেমে লোকটা বলল, চাচায় ডাকে, আইতাছি স্যার। বলেই সে পেছন দিকে হেঁটে গেল। মিনিট দুই পর ফিরে এসে রিকশার সিটে বসে আবার চালাতে লাগল। বাঁ হাত দিয়ে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে ডান হাত দিয়ে চোখ মুছছে। এখন লোকটা কাঁদছে।

কী হলো, কোথায় গিয়েছিলেন?

আমার এক চাচায় ডাকছিল, কাঁদতে কাঁদতে বলল লোকটা।

কাঁদছেন কেন?

ছয়তলা থেইকা পইড়া গেছে!

কে?

আমার পোলা!

বলেন কি! কী করত?

রংমিস্ত্রি।

এখন কোথায় সে? কেমন আছে?

আমাগো বস্তির বাসায়। প্যাটের ভিত্রে রড ঢুইকা গেছে, বাঁইচা নাই!

লোকটা ডান হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল, তিনডা ছুডু ছুডু মাইয়া।

রিকশাওয়ালার আকস্মিক এসব কথাবার্তায় আমরা বিস্মিত-হতবাক! এখন কী করবেন?

আমারে অহন সাভার মাস্টারবাড়ি যাইতে হইব পোলারে লইয়া। আল্লাহ আল্লাহ! স্যার, সিএনজি কইরা নেওয়া যাইব না!

আমার খুব খারাপ লাগতে লাগল। শায়লা আমাকে বলল, আমার মনে হয় তাকে সম্পূর্ণ ভাড়া মিটিয়ে ছেড়ে দেওয়া উচিত! তুমি কী বলো?

বললাম, হ্যাঁ, তা-ই করো। ভাড়া ছাড়া আরো কিছু টাকা ওর হাতে দেওয়া দরকার।

এসব কথা বলতে বলতে রিকশা হাতিরপুলে চলে এলো। শায়লা বললচলো, এখানে নেমে আমরা হাঁটতে হাঁটতে সামনে এগিয়ে যাই। এখন রিকশা চালিয়ে নেওয়াটা অমানবিক হবে। তারপর রিকশাওয়ালাকে বলল, আমরা এখানেই আপনাকে ছেড়ে দিচ্ছি।

পার্স বের করে ভাড়া ছাড়াও দুই শ টাকা তার হাতে দিয়ে বলল, আপনার ছেলের মৃত্যুতে আমরাও শোকাহত! আমরাও ব্যথা পাচ্ছি, কষ্ট পাচ্ছি।

রিকশাওয়ালা টাকাগুলো নিল এক হাতে, অন্য হাতে চোখ মুছতে মুছতে বলল, দোয়া কইরেন আফা, আল্লাহ আল্লাহ!

দুই

গলির ভেতর ঢুকে আমার মন খুব খারাপ। শায়লারও নিশ্চয়ই খারাপ। আমি কথা বলেই যাচ্ছি, শায়লা মাথা নত করে চুপচাপ কথা শুনে যাচ্ছে। গলির ভেতর দেখি কিছু তরকারি সামনে নিয়ে একজন ঝিমোচ্ছে। শসার দিকে তাকিয়ে মনটা খারাপ হয়ে যায়। কোন সপ্তাহের শসা যে কোন সপ্তাহে বেচে! গত সপ্তাহে ভ্যান থেকে নিয়েছিলাম এক কেজি, টাটকা সবুজ; ভেতরে বিচি পচে বিজবিজ করছে। ওদের কী দোষ। পরদিন ভ্যানওয়ালাকে এমনি দুকথা শোনালাম।

মনটা বিষাদে ভরে আছে। মনশ্চক্ষে দেখছিলাম লোকটার বাড়ির পরিস্থিতি। গলির আধাআধি পেরোতে আমার আফসোস শুনতে শুনতে হঠাৎ শায়লা বলে, একটা কথা বলব, যদি তুমি রেগে না যাও।

আমি কী কারণে যেন বললাম, হ্যাঁ, রাগ করব।

তাহলে বলব না।

আচ্ছা, বোলো না।

হাঁটছি।

শায়লা আবার বলেবলি, তুমি রাগ করবে না কিন্তু!

বলো।

লোকটা মনে হয় আমাদের ধোঁকা দিল।

কেন মনে হলো?

কারণ দুটি, এক নম্বর হলো, ওর চাচা যখন ওকে ডাকল তখন দুই মিনিটের মধ্যে ফিরে এলো। দুঃসংবাদ শুনে ওর তো দেরি করার কথা ছিল। আর আমি যখন ওকে টাকা দিচ্ছিলাম, ও শ্যেনদৃষ্টিতে আমার পার্সের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমার টাকা বের করতে দেরি হচ্ছিল; কিন্তু ও একবারের জন্যও চোখ ফেরায়নি। ওর চোখে পানি ছিল না!

আমি বোকার মতো শায়লার দিকে তাকিয়ে থাকি। শায়লা আবার বলে, আমি চাই ও আমাদের ধোঁকা দিক, দুই শ টাকাই তো! সামান্য খাজনার রসিদ জিম্মি করে তোমার ডেভেলপার নেয়নি পঞ্চাশ হাজার টাকা! দিক ধোঁকা, ছেলেটা বেঁচে থাক।

ও কাঁদছিল, শায়লা!

হুম্!

রিকশা নিই।

পরদিন ভিডিও ফোন পেল শায়লা, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে আমাদের পুত্রবধূ।

আম্মা, আপনাকে এমন ক্লান্ত, অন্যমনস্ক লাগছে কেন?

গতকাল দুপুরে আজিজ মার্কেট থেকে ফেরার সময় রিকশাটা যখন কাটাবনের কাছে এলো, তখন ঘটনাটা ঘটল...শায়লা পুরো ঘটনা খুলে বলল বউমাকে। তারপর বলল তার সন্দেহের কারণগুলো, তারপর বলল একটু আগে সে বাঁ হাত দিয়ে হ্যান্ডেল ধরে রিকশা চালাচ্ছিল আর ডান হাত দিয়ে তার চোখ মুছছিল; কিন্তু চলে যাওয়ার সময় সে দুহাত দিয়েই হ্যান্ডেল ধরে দ্রুত পেডাল মেরে চলে গেল।

আমি পাশে বসেছিলাম। ওদের কথোপকথন শুনছিলাম।

বউমা সবটাই শুনল।

আপনার কি মনে হচ্ছে সে আপনাদের ধোঁকা দিয়ে ওই টাকাটা নিয়ে গেছে?

হ্যাঁ মা, তা-ই। এটাই যেন হয়, সে আমাদের ধোঁকা দিয়ে টাকাটা নিয়ে যাক, তা-ও ভালো, তবু তার ছেলেটার মৃত্যু যেন ওভাবে না হয়। ওই মৃত্যু সহ্য করতে পারছি না আমরা। ছেলেটা বেঁচে থাক। ভাবো, ছয়তলা থেকে পড়ে রডে গেঁথে যাওয়া!

বউমা কিছুক্ষণ শুনল মন দিয়ে, তারপর বলল

দেখেন মা, লোকটা মিথ্যে বলেছে না সত্যি বলেছে, এটা বলা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কেননা এখন একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে বিশ্বাস করে না। ফল, মাছএসব কিনে আনলে দেখবেন দিনের পর দিন পড়ে আছে, কিন্তু পচছে না! এসব জিনিস কিনলেই আপনার মনে হবে ওগুলো ফরমালিন দেওয়া, আপনার অবিশ্বাস বেড়েই চলবে। তবে আমার নিজের কী মনে হয়, জানেন মা?

বলো।

আমাদের মতো মধ্যবিত্তের সন্তান মারা গেলে আমরা যেভাবে শোক প্রকাশ করি, একজন রিকশা শ্রমিক সেভাবে শোক প্রকাশ করার অবকাশ পায় না। সেই মুহূর্তে ওই লোকটা তার ছেলের লাশ কী করে সাভারে নিয়ে যাবে, সেটা নিয়েই ভাবছিল...

বউমা কথা বলে যাচ্ছিল; কিন্তু হঠাৎ চুপ হয়ে গেল শায়লা। কী হলো মা, থেমে গেলেন যে! কী হলো, কথা বলেন?

তোমার কথার সঙ্গে আমি একমত হতে পারলাম না, বউমা। তুমি ভুল বলছ। আমি যখন ব্যাগ থেকে টাকা বের করছিলাম, তখন ওই রিকশাওয়ালা লোভাতুর চোখে টাকাগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিল। ওর চোখে আমি পানি দেখতে পাইনি। তার ছেলে মারা যায়নি, টাকার জন্যই সে ওই গল্পটা বানিয়েছে।

কিন্তু মা, ও তো ছেলেকে সাভারে নিয়ে যাবে বলেছে, ওর তো তখন টাকার কথাই মাথায় কাজ করার কথা, কান্নার চেয়ে টাকাটাই তার বেশি জরুরি ছিল!

শায়লার পক্ষে পুরো বিষয় সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শায়লা ফোন রেখে খাটের ওপর গিয়ে বসল। মাথাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে! তার মুখ থেকে অস্ফুট শব্দ বেরিয়ে এলোআহা! ছেলেটা মারাই গেল!

ঈদ সংখ্যা ২০১৮- এর আরো খবর