English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ভ্রমণ

হংকংয়ের গ্রামের ইচ্ছাপূরণ বৃক্ষ

ফারুক মঈনউদ্দীন

  • ১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০

ইচ্ছাপূরণ বৃক্ষের ছায়ায়

কাউলুন থেকে এমআরটি ধরে তিনবার রুট বদল করে তাই পো স্টেশনে নামার পর সঠিক এক্সিট গেটের হদিস জানতে ইনফরমেশন ডেস্কের তরুণী কর্মীর শরণাপন্ন হতে হয়। ঠিক গেট দিয়ে বের না হলে হয়তো আধামাইল ঘুরে আসতে হবে। দুদিন আগে হংকং থেকে কাৎ হিং ওয়াই (ওয়াই অর্থ দেয়ালঘেরা গ্রাম) দেখতে গিয়ে এমআরটিতে না চড়ে বোকার মতো ট্যাক্সি নিয়ে কাউলুনের সিম সা সুই স্টেশনে নেমে অন্য ট্রেন ধরে গিয়েছিলাম বলে অনেক টাকা জলে গেছে। তাই এবার যতবারই ট্রেন বদলাতে হোক না কেন, ট্যাক্সির ধারেকাছেও ঘেঁষি না। শেষবার কাউলুন তং স্টেশন থেকে যে ট্রেনে উঠি সেটি পাতালরেলের শহুরে ছিমছাম তন্বী ট্রেন নয়, দেখতে দূরপাল্লার ট্রেনের মতো। আজদাহার মতো ট্রেনটি যখন কোমর বাঁকিয়ে স্টেশনে ঢুকছিল, তখন মাঝপথ থেকে ট্রেনে ওঠার এক কৈশোরক উত্তেজনার স্মৃতিময়তা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। টার্মিনাল থেকে চড়লে এই উত্তেজনা থাকে না। হংকংয়ের এমআরটিতে চড়তে চড়তে উন্মুক্ত পথে রেললাইনের বাইরের দৃশ্য যখন প্রায় ভুলতে বসেছি, তখন খোলা আকাশের নিচ দিয়ে চলা রেলপথের দুই পাশের ঘন শ্যামলিমা আর অদূরের পাহাড়শ্রেণি চোখের আরাম এনে দেয়। আঁধার নামানো গাঢ় সবুজের সমারোহের মাঝে হঠাৎ দু-একটি উঁচু ভবন বেয়াড়া মাথা তুলে দিয়েছে ওপর দিকে। এ অঞ্চলের সঙ্গে ইমারত-অরণ্য কণ্টকিত হংকংয়ের চিরপরিচিত চেহারার কোনোই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

তাই পো স্টেশনের সহায়তাকারী মেয়েটির কাছ থেকে পথের নিশানা মিলিয়ে নির্দিষ্ট এক্সিট দিয়ে বাইরে আসার পর নির্দেশিত ৬৪-কে অথবা ৬৪-পি বাসের স্টপেজ খুঁজে না পেয়ে দিশাহারা লাগে। সম্পূর্ণ অপরিচিত এক মফস্বলি জনপদে লোকাল বাস ধরার কসরত জীবনে এই প্রথম বলে আরো অসহায় বোধ করি। ওসব দেশে বিভিন্ন রুটের বাসের আলাদা স্টপেজ থাকে বলে উদ্ভ্রান্তের মতো এদিক-ওদিক কয়েক চক্কর খেয়েও বুঝতে পারি না বাসটির নির্দিষ্ট স্টপেজ কোনটি। বেশ কয়েকটি বাস চলে যাওয়ার পর গদাইলশকরি চালে এগিয়ে আসা একটা ডাবল ডেকারের চাঁদিতে ৬৪-পি লেখা দেখে ধড়ে প্রাণ আসে যেন। ততক্ষণে বাস স্টপেজে জনাদশেক নারী-পুরুষ কাতারবন্দি হয়ে গেছে। বুঝতে পারি, এরা বাসের টাইম-টেবল জানে বলে এতক্ষণ আশপাশে কোথাও ঘাপটি মেরে বসে ছিল, কেউ বা ছিল নিজের বাড়িতে। বাস এসে দাঁড়াতেই ধীরেসুস্থে নেমে আসে যাত্রীরা, মেট্রো রেলের যাত্রীদের মতো কোনো তাড়াহুড়া নেই। মফস্বলের একটা গাছাড়া অলস ভাব সবার মধ্যে। আমি গন্তব্যের নাম বলে লাম সুয়েন উইশিং ট্রি লেখা কাগজের টুকরাটি ড্রাইভারের চোখের সামনে তুলে ধরলে সে লাম সুয়েন, ওকে ওকে বলে আমাকে বাসের পেছন দিকে গিয়ে দাঁড়াতে ইশারা করে।

কাছাকাছি কোনো সিট খালি নেই, অগত্যা দাঁড়িয়ে থাকি। অপরিচিত গন্তব্যে আট কি নয় কিলোমিটারের দূরত্বে আরাম করে বসার কোনো স্বস্তি নেই। শহরতলি অভিমুখী লোকাল বাসটি নারী-পুরুষ বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে হেলেদুলে পথ চলে। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়ার ভিড় নেই বলে শ্লথগতির যানটি সর্বশক্তি নিংড়ে নিয়ে ছোটার চেষ্টা করে। সহজাত উত্কণ্ঠার বশে আমাকে বাসের জানালা দিয়ে সম্ভাব্য গন্তব্যের উদ্দেশে উঁকিঝুঁকি মারতে দেখে বাচ্চা কাঁখে এক মহিলা আমাকে আশ্বস্ত করে বলে, উইশিং ত্রি? আই উইল শো ইউ। ড্রাইভারকে বলা আমার গন্তব্যের নামটা মহিলার কানে গেছে বলে তার এই অভয়বাণী। একজন বিদেশি তাদের পবিত্র একটা উপাসনালয়ে যাচ্ছে বলে ওদের কারো কারো চেহারায় একটা সম্ভ্রমের ভাব আমার চোখ এড়ায় না।

এ সময় নজরে আসে ড্রাইভারের মাথার ওপর ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডে পরবর্তী স্টপেজের নাম উঠে আসে, আমার উত্কণ্ঠার কোনো কারণ থাকে না আর। তাই আমি স্বচ্ছন্দে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করার চেষ্টা করি। তাই পো এলাকাটি মফস্বল হলেও নিতান্ত ফেলনা মনে হয় না। ঝাঁ-চকচকে দোকানপাট, ব্যাংক, ম্যাকডোনাল্ডস, সেভেন ইলেভেনসবই আছে। কিছুক্ষণ চলার পর এসব শহুরে দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে, জেগে ওঠে গ্রামীণ জনপদ, রাস্তায় আরো কমে আসে যানবাহনের চাপ।

কিছুদূর যাওয়ার পর মহিলাটি আমাকে ইশারা দিয়ে জানায় পরের স্টপেজটিই লাম সুয়েন। বাস থেকে নামতেই রাস্তার ঠিক পাশে একটি চীনা স্থাপত্যের জমকালো গেট, সেখান থেকে সোজা ভেতরে চলে গেলেই সামনে নাতিদীর্ঘ যে গাছটি চোখে পড়ে, সেটিই যে ওদের ইচ্ছা পূরণের সেই মহাবৃক্ষ, তা আর কাউকে বলে দিতে হয় না। ডালপালা ছড়িয়ে দাঁড়ানো চীনা বটগাছটি দেখে মনে তেমন সম্ভ্রম জাগে না। যে রকম আশা করেছিলাম গাছের ডালে ঝুলে থাকবে অগুনতি ঢেলা, সে রকম কিছুই নেই। গাছের গোড়ায় উঁচু করে বাঁধানো সিমেন্টের বেদি, রেড অক্সাইডের প্রলেপ মাখা বেদির ওপর সারবাঁধা বুদ্ধের মিনিয়েচার মূর্তি। এক জায়গায় পড়েছি, ওরা ছোট সাইজের চীনা কমলার সঙ্গে ইচ্ছাপূরণপত্র বেঁধে গাছের মগডাল সই করে ছুড়ে মারে। পুরনো ছবিতে দেখা যায়, আটকে যাওয়া কমলার কারণে ওটাকে মনে হয় কমলাগাছ।

গাছটিকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেলে তিন হাউ মন্দির। মন্দিরের চাতালে ঢোকার আগেই ডান পাশে চারপাশে সিমেন্টের বেদিঘেরা যে বৃক্ষ, সেটিকে এদের ভ্রমণ গাইডে যে রকম বর্ণনা দেওয়া আছে সে রকম বুদ্ধের মহাবোধির মতো না হলেও বিশাল কোনো বনস্পতিই হবে বলে ভেবেছিলাম সেই ইচ্ছাপূরণ বৃক্ষ। এটির চেয়ে শতগুণ সম্ভ্রম জাগানিয়া অশ্বত্থ বট বাংলাদেশের প্রায় সব গ্রামেই একটি করে পাওয়া যাবে। আদিতে এটি কত বড় গাছ ছিল তার কোনো সচিত্র প্রমাণ নেই। তবে জানা যায়, সাত-আট শ বছর আগে এখানে ছিল এক সাধারণ জনবসতি। বহু বছর পর চিং রাজত্বের (১৬৪৪-১৯১২) সময় সম্রাট চিয়ানলংয়ের রাজত্বকালে (১৭৬৮) তিন হাউ দেবীর নামে এখানে একটি মন্দির তৈরি করা হয়। এটি ছিল এতদঞ্চলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু।

গাছটির গোড়ায় একটি পাথরের ওপর ছোটখাটো চেহারার এক চীনা বুড়ো বসে ছিলেন, তাঁকে দেখে আমার সত্যজিতের চরিত্র প্রফেসর শঙ্কুর কথা মনে পড়ে যায়। লোকটির হালকা লম্বা সাদা দাড়ি ফুরফুরে বাতাসে তিরতির করে কাঁপে। আমি কাছে গিয়ে একমাত্র জানা চীনা সম্ভাষণে বলি, নি হাও (ইংরেজিতে বললে হতো হ্যালো)। লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে ফোকলা দাঁত বের করে হাসেন। তারপর দুর্বোধ্য ভাষায় কী যেন বলেন, হয়তো আমার সম্ভাষণের প্রতি-উত্তর দিলেন। আমি হাত তুলে তাঁকে নিরস্ত করে বলিমাফ চাই, নো চায়নিজ। ইউ স্পিক ইংলিশ? লোকটি বলেন, লিতল ইংলিশ। বলি, আপনাদের বিখ্যাত উইশিং ট্রি দেখতে এলাম। এটাই নিশ্চয় সেই গাছ? ভেবেছিলাম অনেক বড় একটি গাছ হবে ওটা। লোকটি মাথার ওপরের ডালপালার দিকে তাকিয়ে বলেন, দিস ত্রি নত অরিজিনাল, নত ভেরি মাচ ওল্দ।

তাঁর ভাঙা ভাঙা ইংরেজির সঙ্গে পরে গাইড বইয়ের বর্ণনা মিলিয়ে যা বুঝতে পারি সেটি এ রকম : এখন যেখানে ইচ্ছাপূরণের চীনা বটগাছটি দাঁড়ানো, সেখানে একসময় ছিল একটা কর্পূরগাছ। বয়সের সঙ্গে গাছটির ডালপালা শুকিয়ে যায়, গাছের গায়ে বেড়ে ওঠে খোঁদল। এক লোক তাঁর ছেলের পড়াশোনার ধীরগতিতে হতাশ হয়ে ফাঁপা গাছটির কাছে এসে নিজেকেই শোনানোর মতো করে মনের দুঃখের বয়ান দেয়। তার পর থেকে লোকটি লক্ষ করে ছেলের পড়াশোনার উন্নতি হচ্ছে। তার মনে বদ্ধমূল ধারণা জন্মে যে এটি ঘটেছে সেই গাছের জন্যই। এই খবর একান-ওকান হয়ে দূর-দূরান্তে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আর দলে দলে লোকজন এসে ফাঁপা কাণ্ডের অলৌকিক গাছটির কাছে তাদের মনোবাঞ্ছা পূরণের মানত করতে থাকে।

অন্য এক লোককথায় জানা যায়, এক মহিলা এক অজানা রোগে ভুগছিল। কোনো ঝাড়ফুঁক তুকতাকে কোনো কাজ হয় না। এক রাতে স্বপ্নে এক দেবী তাকে দর্শন দিয়ে বলেন লাম সুয়েনের ইচ্ছাপূরণ বৃক্ষের কাছে গিয়ে মন্ত্রপূত একটা কাগজ গাছের ডালে ছুড়ে ঈশ্বরের কাছে তার মনোবাঞ্ছা নিবেদন করতে। মহিলা নাকি সেই নির্দেশ পালন করে সত্যি আরোগ্য লাভ করেছিল। ফলে যা ঘটার তা-ই ঘটে, গাছটির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত।

এ দুই কিংবদন্তির সঙ্গে আরো ছড়িয়ে পড়ে যে পুণ্যার্থীরা এই গাছকে পূজা করতে এলে এটির কাণ্ডের গর্ত থেকে তৈলাক্ত রস বেরিয়ে আসে। এসব ঘটনা বা রটনার গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারবে না; কিন্তু মানুষের সংস্কার ও বিশ্বাস তাকে যুক্তি ও ব্যাখ্যার অতীত বহু কিছু করতে প্ররোচিত করে। ভারতীয় ও আফ্রিকানদের মতো চীনারাও তুকতাক, ঝাড়ফুঁক, ফেং সুইএসবে বিশ্বাস করে। চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব, কঠোর কমিউনিস্ট শাসনকোনো কিছুই মানুষের বিশ্বাসকে টলাতে পারেনি।

মাত্র গত রাতেই হংকংয়ের লান কোয়াই ফং এলাকার জমজমাট ফুড কোর্টের নামকরা বৈরুত বার-এর পাশের দোকান রিত্রোভোর সামনে বসে ছিলাম রাতের খাবারের জন্য। উল্টো দিকের রেস্তোরাঁর সামনে লম্বা লাইন দেখে ভাবলাম, এদের খাবার খুব মশহুর বলে মানুষ এত লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছে। রিত্রোভোর লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলে ও বলে, আরে কিসের কী! প্রতি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওখানে ফ্রি খাবার দেয়, তাই এই লম্বা লাইন। মুম্বাইয়ের মাহিম এলাকার কিছু রেস্তোরাঁয় প্রতি সন্ধ্যায় নির্দিষ্টসংখ্যক দরিদ্র লোককে মাগনা খাবার খাওয়ায় কিছু রেস্তোরাঁ; কিন্তু এখানে ফ্রি খাবারের জন্য দাঁড়ানো নারী-পুরুষের বেশভূষা দেখে মনে হয় না ওরা লঙ্গরখানার লাইনে দাঁড়িয়েছে। আসল ঘটনা জানতে চাইলে লোকটি একটু ব্যঙ্গ করে বলে, ফ্রি মানে হয়তো একটা আইটেম ফ্রি; কিন্তু বাকি সব দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়।

আমরা থ হয়ে বসে সুবেশী নারী-পুরুষের মাগনা খাওয়ার ধৈর্য দেখি। এর মধ্যে এক চীনা ভিক্ষু এসে আমাদের একটা মালা গছিয়ে দিয়ে কিছু খয়রাত চায়। সেটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে ওটার অলৌকিকত্ব বোঝার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওর হাতে ফিরিয়ে দিই। এবার ঝোলা থেকে লাফিং বুদ্ধের একটা মিনিয়েচার হাতে নিয়ে ওটা ঘরে রাখার নানা হেকমতের কেরদানি বর্ণনা করতে শুরু করলে আমরা বহু কষ্টে সাধুবাবাকে নিরস্ত করি। সত্যি চীনা ব্যবসা বুদ্ধির খুরে নমস্কার। সস্তা ইলেকট্রনিক জিনিস বাজারে সয়লাব করে দিয়ে ইন্ডিয়ানদের হাড়ে কাঁপুনি ধরিয়ে এখন আমেরিকার বাজারে ঢোকার ফন্দি করছে।

যা হোক, মন্দিরে আসা ভক্ত-পুণ্যার্থীদের দেওয়া বেশুমার আগরবাতি আর মোমবাতি জ্বলতে জ্বলতে সেই কর্পূরগাছটিতে একবার আগুন ধরে যায়। এমনিতে ফাঁপা কাণ্ডের গাছ, তাই আগুনের হাত থেকে বাঁচানো যায়নি গাছটিকে। সেটির জায়গায় মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি চীনা বটগাছ লাগিয়ে দেয়। বছর দশেকের মধ্যে গাছটি বেশ তাগড়া হয়ে ওঠে। এটি ছাড়াও মন্দিরের ছড়ানো চত্বরে ইচ্ছাপূরণ বৃক্ষ আছে কয়েকটি। একটিতে মানুষ প্রার্থনা করে শিক্ষা, ধন-সম্পদ আর পেশাগত সাফল্য। আরেকটিতে ভালো বিয়ে ও সন্তান ধারণের সামর্থ্য কামনা করে নারী-পুরুষ পুণ্যার্থীরা। আর এটি হচ্ছে সব ধরনের ইচ্ছাপূরণের জন্য, অর্থাৎ এটি স্পেশালিস্ট নয়, জেনারেল প্র্যাকটিশনার। আর এটিতেই বিশেষ বিশেষ দিনে হংকং ও চীনের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভেঙে পড়ে লোকজন।

ইচ্ছাপূরণের মানত করার জন্য লোকজন মন্দির থেকে কিনে নেওয়া সহি উপায়ে ছাপা কাগজে তাদের নাম, জন্ম তারিখ আর ইচ্ছার কথা লেখে। এমনি কাগজ তো আর ছুড়ে ওপরে তোলা যাবে না, তাই কাগজের রোলের সঙ্গে একটি কমলা বেঁধে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। ছুড়ে মারা কমলাসহ কাগজটি গাছের ডালে আটকে গিয়ে ঝুলে থাকলে বুঝতে হবে ইচ্ছাপূরণ হবে। আর যদি গাছের ডালে না আটকে নিচে পড়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু প্রার্থনা করা হয়েছিল। কেউ কেউ চেষ্টা না করে মনোবেদনা নিয়ে ফিরে আসে। তবে বেশির ভাগ লোকই আশাবাদী, তাই তারা কয়েকবারের চেষ্টায় তাদের ইচ্ছাটিকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে দিতে পারত।

লোকটিকে বলি, গাছের ডালে কোনো ইচ্ছাপূরণের চিঠি ঝুলতে দেখছি না। সে রকমই পড়েছিলাম আমি। লোকটির কথায় জানা যায়, একসময় কমলার সঙ্গে ইচ্ছাপূরণপত্র বেঁধে গাছের মগডাল সই করে ছুড়ে মারাই ছিল সঠিক রীতি; কিন্তু বছর দশেক আগে চীনা নববর্ষের পরবের সময় এত বেশি মানুষ তাদের মানত করা কাগজ গাছটির ডালগুলোতে ছুড়ে মেরেছিল যে একটি ডাল সেগুলোর ভার সইতে না পেরে ভেঙে পড়ে, আর তাতে এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ ও এক কিশোর আহত হয়। এই ঘটনার পর মন্দির কর্তৃপক্ষ গাছের ডালে কমলা বাঁধা কাগজ ছুড়ে মেরে ইচ্ছাপূরণের রীতি বন্ধ করে দেয়।

দেখলাম, গাছের নিচে বড় দুটি বোর্ড খাড়া করে দেওয়া হয়েছে, ঠিক যেমনটি থাকে বিজ্ঞপ্তি সেঁটে দেওয়ার জন্য নোটিশ বোর্ড। বোর্ডের গায়ে সারবাঁধা ছোট ছোট হুক গেঁথে দেওয়া, যাতে ইচ্ছাপূরণের কাগজের রোলগুলো এসব হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া যায়।

লোকটি তার জোব্বার পকেট থেকে চীনা সিগারেটের প্যাকেট বের করে একটি তার দুমড়ানো ঠোঁটে লাগিয়ে মুখাগ্নি করলে সস্তা তামাকের তীব্র গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। হাত মুঠো করে কষে একটা টান দিলে লোকটির গালের চামড়ার আঁকিবুঁকিসহ ভেতর দিকে খোঁদলের মতো ঢুকে পড়ে। তারপর তীব্র কাশিতে নুয়ে পড়লে আমার ভয় হয়, এখানেই অক্কা যাবে কি না লোকটি। নির্জন এই মন্দির চাতালে আবার কী বিপদে পড়ব, এই মুশকিলের কথা ভেবে লোকটির হাতে ১০ ডলারের একটি নোট ধরিয়ে দিলে কাশির দমক সামলে আমার দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলে, সিয়ে সিয়ে, অর্থাৎ ধন্যবাদ। বের হওয়ার মুখে আবার দেখা করব বলে দ্রুত সেখান থেকে সরে যেতে যেতে বলি, জাই জিয়েন, অর্থাৎ আবার দেখা হবে।

মন্দির চত্বরের দিকে এগিয়ে গেলে বিকেলের উজ্জ্বল সোনারোদে চোখ ঝলসে যেতে চায়। পেছনের পটভূমিতে সবুজ পাহাড়ের গাম্ভীর্য, জনহীন চত্বরটির সুনসান নীরবতার মাঝে কোথাও একটা ঘুঘু অবিরাম ডেকে যাচ্ছিল। কিছুটা সামনে এগিয়ে গেলে বড় বড় গাছে ঢাকা জমি, তার কোনোটি আমাদের জারুলের মতো গোলাপি ফুলে ছাওয়া। মন্দিরের সামনে প্রশস্ত উঠানের এক প্রান্তে সেনাবাহিনীর রেজিমেন্টাল পতাকার মতো নানা রঙের ঢাউস সাইজের সব ত্রিকোণ পতাকা লাগানো ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড। পতাকার গায়ে চীনা হরফে বিভিন্ন ধরনের লেখা। উঠানের মাঝ বরাবর ধাতব চাঁদোয়ার নিচে বিশাল এক চীনা ট্র্যাডিশনাল তেপায়া পাত্র। এটির বয়সের যেন কোনো গাছপাথর নেই। আশপাশে জনমনিষ্যির কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। একমাত্র পূজারি মাঝবয়সী এক মহিলাকে নির্জন সেই উঠানে মন্দিরের দিকে জোড় হাত করে দীর্ঘক্ষণ প্রার্থনা করতে দেখা যায়।

আমার মতো ভিনদেশি একজনের মন্দিরে ঢুকে পড়া ঠিক হবে কি না ভাবতে ভাবতে ভয়ে ভয়ে ভেতরে ঢুকি। তিন হাউ দেবীর মূর্তির সামনে ব্রোঞ্জের বড় ধূপদানি। চীনাদের সমুদ্র দেবী তিন হাউয়ের সামনে মানুষ তাদের সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করে। গা ছমছম করা মন্দিরের বেদির সামনে দাঁড়িয়ে সাজানো মণ্ডপে বিয়ের কনের মতো বসে থাকা দেবীর একটি ছবি তোলার খুব ইচ্ছা জাগলেও নিজেকে নিবৃত্ত করি। সেটি দেবীর ভাবলেশহীন চোখের কারণেও হতে পারে কিংবা ভেতরে ছবি তোলা জায়েজ কি না, এই ভয়েও হতে পারে। এ সময় জংলি ছাপা কমব্যাট ড্রেসের মতো ট্রাউজার পরা মূর্তি মস্তকের এক সেবায়েত আচমকা উদয় হয় যেন মাটি ফুঁড়ে, তার ঊর্ধ্বাঙ্গে একটি স্যান্ডো গেঞ্জি। আমার উপস্থিতি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সেই লোক হলঘরের কোনায় দেরাজ খুলে ব্যস্তভাবে কিছু একটা খুঁজতে থাকে। আমি তার কাছ থেকে কিছু জানার আশায় দাঁড়িয়ে ইতিউতি তাকাই। আমার মনের কথা হয়তো বুঝতে পারে সে, মন্দিরের সেবায়েত বলে কথা। তাই আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রঙিন সুতায় বাঁধা তিন রঙের তিন প্রস্ত পাকানো কাগজের একটি রোল আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, টেন ডলার। আমি দাম মিটিয়ে রোল করা ইচ্ছাপূরণপত্রটি নিয়ে বের হয়ে আসি।

মন্দির কমপ্লেক্সে একটা চক্কর দিতেই পেছনে পাওয়া যায় ডিউক অব এডিনবরা ট্রেনিং ক্যাম্প। তার পাশের ঘরটির ওপর চীনা ও ইংরেজি সাইনবোর্ডে লেখা ফং মা পো রিফিউজ কালেকশন সেন্টার। তিন হাউ মন্দিরের সঙ্গে এসব স্থাপনার কী সম্পর্ক ভাবতে ভাবতে মিলে যায় একটি ক্যাফের সাইনবোর্ড, লোটাস কোর্টইয়ার্ড ক্যাফে। জনহীন সেই সাজানো-গোছানো ক্যাফেটিতে ঢুকে উঁকিঝুঁকি মেরে ওটা খোলা আছে কি না বোঝার চেষ্টা করছিলাম যখন, ঠিক তখনই ভেতর থেকে এক চীনা তরুণী ওয়েটার বেরিয়ে আসে। ওকে নি হাও বললে মেয়েটি গালে টোল ফেলে হেসে বলে নি হাও। বলি, এটা খোলা তো? মেয়েটি ইয়েৎ ইয়েৎ বলে ভেতরে আহ্বান করে। আমি বারান্দায় পাতা বেতের নিচু চেয়ার-টেবিল দেখে ওখানেই আরাম করে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করলে মেয়েটি একটা ঢাউস মেন্যু বই আমার সামনে রেখে দেয়। আমি অন্যমনস্কভাবে মেন্যুতে চোখ বোলাই। আপাতত কিছু খাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও এখানে বসার মাসুল হিসেবে কিছু অর্ডার তো করতেই হয়, এই রোদে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ঘোচাতে একটা ঠাণ্ডা চীনা বিয়ার দিতে বলি। মেয়েটি গ্লাসসহ পরিপাটিভাবে পরিবেশন করে বারান্দার এক কোণে গিয়ে দাঁড়ায়।

এবার ওর কাছ থেকে কিছু জ্ঞান লাভ করার মতো অধিকার জন্মেছে আমার। এটা এত খালি কেন, কোনো খদ্দের নেই! এভাবে শুরু করাই ভালো। এটাও কিছু বলার জন্যই বলা, পড়ন্ত বিকেলের এই অসময়ে রেস্তোরাঁগুলো খালিই থাকে, আমার মতো উড়নচণ্ডী মানুষ ছাড়া এই অসময়ে কেউ কি রেস্তোরাঁয় আসে? লোকজন আসবে লাঞ্চ বা ডিনারের সময়। মেয়েটিও একই কথা বলে। তার সঙ্গে যোগ করে, চায়নিজ নিউ ইয়ারের সময় এখানে বেজায় ভিড় হয়, মেনি পিপল কাম টু ইট। তখন বিশাল মেলা হয় এখানে। ওকে বলি, এই যে ট্রেনিং ক্যাম্পটা দেখলাম ডিউক অব এডিনবরা, ওখানে কিসের ট্রেনিং দেওয়া হয়? ওর ভাঙা ইংরেজিতে বুঝতে পারি, ওটা কনফারেন্স, ট্রেনিংএসবের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। ডিউক অব এডিনবরার নামাঙ্কিত বলে অবাক হওয়ার কিছু নেই, আমাদের স্মরণে রাখতে হবে, হংকং মাত্র সেদিনও ব্রিটিশ কলোনি ছিল। সে কারণেই পথেঘাটে খুব ভালো না হলেও মোটামুটি ইংরেজি জানা মানুষের দেখা পাওয়া যায়। আগে যতবারই চীন গেছি, ততবারই বিশেষ করে সাধারণ রেস্তোরাঁয় ঢুকে ভাষাবিভ্রাটে প্রায় না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছিল।

রিফিউজ কালেকশন সেন্টারটি আসলে কী জানতে চাইলে মেয়েটি জানায়, ওখানে লোকজন তাদের ব্যবহার করা বাতিল জিনিসপত্র দান করে দেয়। মন্দির কর্তৃপক্ষ সেগুলো বিভিন্ন পরবের সময় নিলামে চড়ায়, ওখান থেকেও বেশ কিছু আয় হয় ওদের। ভাবি, হংকংয়ে এখনো কিছু গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার আছে বলেই এই নিলামে সাড়া দেওয়ার মতো মানুষ পাওয়া যায়।

আমি বারান্দায় আরাম করে বসে জায়গাটির নীরবতার শান্তি উপভোগ করি। সামনে শণের চালা দেওয়া একটা শেড, ভেতরে চেয়ার-টেবিল পাতা, তার পাশের বিশাল টবে চীনা বটের একটি বয়সী বনসাই। এ সময় নারীকণ্ঠের চাপা হাসিতে নীরবতায় মৃদু টোল পড়লে ঘাড় ফিরিয়ে দেখি, মেয়েটির সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরেকজন। তাদের হাসির কারণ বহুবিধ হতে পারে, অবেলায় আসা একজন কিম্ভূত বিদেশি হতে পারে, কিংবা হতে পারে তাদের নিজস্ব গোপন কিছু খুনসুটি। কাজের চাপ নেই বলে তাদের কিছুটা হাসি-মসকরা করায় কোনো ক্ষতি নেই; কিন্তু কোনো অজানা কারণে দুটি তরুণী যখন কারো সামনে চাপা কণ্ঠে নিজেদের মধ্যকার প্রচলিত ইঙ্গিতে হাসাহাসি করে তখন নিজেকে খুব বোকা বোকা মনে হয়। আমি ওদের বালিকাসুলভ চপলতায় বিচলিত না হয়ে নোট বই, কলম বের করে লিখে রাখি সেদিনের অভিজ্ঞতা। এ সময় ভেতর থেকে ক্রুদ্ধ এক নারীকণ্ঠের ডাক শুনে দ্বিতীয় মেয়েটি ছুটে ভেতরে চলে যায়। ওদের মালকিনের তলব হবে হয়তো। এই মঙ্গোলীয় জাতির মধ্যে মেয়েদের দোর্দণ্ড প্রতাপ তাদের একসময়ের মাতৃতান্ত্রিক সমাজেরই অবশিষ্ট প্রবণতা। কর্মঠ ও অনুগত বলে পুরুষতন্ত্রের বহু স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নিয়েও এরা শক্ত হাতে ধরে রাখে সংসারের হাল। মেয়েটিকে বারান্দার এক মাথায় দরজার কাছে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজেকেই অপরাধী মনে হয়, এই অবেলায় ওকে আটকে রেখেছি বলে। তাই অনাহূত এই খদ্দেরের হাত থেকে মেয়েটিকে মুক্তি দিতে হাতের ইশারায় বিল দিতে বললে মেয়েটি ছোট পদক্ষেপে দ্রুত ভেতরের দিকে চলে যায়।

আমি এই ফাঁকে ইচ্ছাপূরণপত্রটির কুণ্ডলী খুলি। ওগুলোর উভয় পাশে পাতাজোড়া চীনা ক্যালিগ্রাফি, নানা ছবি আর সংকেতের আঁকিবুঁকি, যার কোনো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। আমি ভাবছিলাম, কী ইচ্ছার কথা লিখব এই সোলেমানি কাগজের বুকে। এ সময় মেয়েটি বিল নিয়ে ফিরে এলে ওকে জিজ্ঞাসা করিআচ্ছা, বলো তো কী উইশ করা যায়? মেয়েটি ঝুঁকে নিচু টেবিলে বিল রাখতে গেলে এক মুহূর্তের জন্য তার অগভীর বিভাজিকা আরো গভীর হয়ে ওঠে। দাঁড়িয়ে মেয়েটি কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলে, উম্ম্ম্, আপনার যা কিছু ইচ্ছা লিখতে পারেন। আপনার চাকরি, ব্যবসা, পরিবার, চিলড্রেন, ফ্রেন্ডসযে কারো জন্যই উইশ করতে পারেন।

আমি অনেক ইচ্ছার কোনোটিই লিখতে পারি না। আমার ইচ্ছা দেশের যাবতীয় অসৎ মানুষ সৎ হয়ে যাক, দেশের সব দরিদ্র মানুষ সচ্ছল হয়ে উঠুক, দেশের মানুষ তাদের অভাবনীয় নিষ্ঠুরতা ভুলে যাক, সব মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জেগে উঠুক, সব ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে জেগে উঠুক সহনশীলতা, সব মানুষ হয়ে উঠুক সুনাগরিক। এ রকম বহু অপূর্ণ ইচ্ছার কথা আমার মাথার ভেতর জট পাকিয়ে যায়। আমার নিজের সন্তানের কথা, নিজের বৃত্তির উন্নতির কথা, স্বজনদের ভালো থাকার কথাকিছুই মনে আসে না। এ রকম হতবিহ্বল অবস্থায় টেবিলে রাখা বিলের পাশ থেকে কলম তুলে নিয়ে লিখি, জগতের সব প্রাণী সুখী হোক। মেয়েটি একটু দূরে দাঁড়িয়ে লক্ষ করছিল, খুব দ্রুত আমার লেখা শেষ হয়ে গেছে বুঝতে পেরে বলেস্যার, ইউ শুদ রাইত ইওর নেম অ্যান্ড এজ অলসো। নাম আর বয়স লিখে কী হবে ভেবেও মেয়েটির ইচ্ছায় সায় দিয়ে নিজের নাম ও বয়স লিখি। কী ইচ্ছার কথা লিখলাম সেটি জানার মতো অসৌজন্য মেয়েটি দেখায় না বলে স্বস্তি বোধ করি।

বিল মিটিয়ে বাইরে আসার পর আবার গাছটির কাছে যাই, কাশির দমক থেকে বেঁচে গেলে চীনা মুরব্বির সঙ্গে কথা বলে আর কিছু পাওয়া যায় কি না দেখা যাক। কিন্তু লোকটিকে কোথাও দেখা যায় না। লোকটি যেখানে বসা ছিল, সেখানে এখন প্রাক-সন্ধ্যার দীর্ঘ ছায়া আরো ঘন হয়ে লুটিয়ে আছে। পুরো মন্দির এলাকা জনহীন বলে গা ছমছম করে। গোধূলির এ সময়টাতে নিভে আসা সূর্যের আলো যখন অন্ধকারের গর্ভে ঢুকে যায়, পাখিরা যখন মরিয়া হয়ে গাছের ডালে রাতের আশ্রয় খুঁজতে থাকে, তখন বরাবরই আমার মনটা এক অনিশ্চিত আর্দ্রতায় ভরে ওঠে। আমি আমার ইচ্ছার কথা লেখা ইচ্ছাপূরণের কাগজের রোলটা গাছের গোড়ায় বসানো বোর্ডের গায়ের আংটায় ঝুলিয়ে দিয়ে ভারমুক্ত হই। জানি না জগতের সব প্রাণী সুখী হবে কি না, কিন্তু প্রকৃতির কাছে ইচ্ছা তো জানানোই যায়। প্রায় আড়াই শ বছর আগের এই মন্দির, তার সামনের বৃক্ষকোনোটিই কি আমাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে? হয়তো প্রকৃতিরও রয়েছে কিছু অলৌকিক শক্তি।

ঈদ সংখ্যা ২০১৮- এর আরো খবর