English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি
সৃজনশীল প্রশ্ন

সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

সামাজিক জনবিজ্ঞান তার বিষয়বস্তু হিসেবে জনসংখ্যাতত্ত্ব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বণ্টন, জনসংখ্যার সামাজিক প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সামাজিক জনবিজ্ঞান জনসংখ্যার স্থানান্তর সম্পর্কেও গবেষণা করে

প্রথম অধ্যায়

উদ্দীপক : মিরাজ ও তুহিন দুই বন্ধু এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তারা দুজনে ভালো বন্ধু হলেও আলাদা আলাদা বিষয় পছন্দ করেছে। মিরাজের বিষয়টিতে সমাজ ও মানুষ সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান সন্নিবেশিত হয়েছে। আর তুহিনের পঠিত বিষয়টি মূলত ব্যক্তির আচার-ব্যবহার, তার মনোভাব, শিক্ষা ও দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে আলোচনা করে থাকে।

ক) সমাজবিজ্ঞান কী জাতীয় শব্দ?

খ) সামাজিক জনবিজ্ঞান গড়ে উঠেছে কেন?

গ) মিরাজের পঠিত বিষয়টির প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

ঘ) মিরাজ ও তুহিনের পঠিত বিষয় দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) সমাজবিজ্ঞান বা Sociology শব্দটি মূলত গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষার সমন্বয়ে গঠিত একটি সংকরজাতীয় শব্দ।

খ) জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিষয়ে পঠন-পাঠনের জন্য গড়ে উঠেছে সামাজিক জনবিজ্ঞান।

সামাজিক জনবিজ্ঞান তার বিষয়বস্তু হিসেবে জনসংখ্যাতত্ত্ব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বণ্টন, জনসংখ্যার সামাজিক প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সামাজিক জনবিজ্ঞান জনসংখ্যার স্থানান্তর সম্পর্কেও গবেষণা করে। এ ছাড়া সামাজিক জনবিজ্ঞান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনসংখ্যার অভিবাসন সম্পর্কে গবেষণা ও আলোচনা করে থাকে। অর্থাৎ জনসংখ্যা সম্পর্কিত সামগ্রিক পঠন-পাঠনের জন্যই সামগ্রিক জনবিজ্ঞান গড়ে উঠেছে।

গ) মিরাজের পঠিত বিষয়টি হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান। কারণ সমাজবিজ্ঞানই সমাজ ও মানুষ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করে থাকে।

সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ। এটি সমাজকে সামগ্রিকভাবে ও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করে। সমাজের গড়ন-প্রকৃতি ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে। কী নিয়ে সমাজ এবং কিভাবে সমাজ একটা কাঠামোগত রূপ নেয় বা গড়ে ওঠেসমাজবিজ্ঞান সেটার প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখে। সমাজবিজ্ঞান সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ বা বিশ্লেষণ। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে। সমাজবিজ্ঞান সমাজের ভালো-মন্দ বা উচিত-অনুচিত দিকের প্রতি কোনো পক্ষপাতমূলক আলোচনা না করে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। অর্থাৎ নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সমাজবিজ্ঞান নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। সমাজবিজ্ঞান পরিবর্তনশীল সমাজের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান সমাজ পরিবর্তন এবং সমাজ পরিকল্পনার সমাজ দর্শন তথা তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। সমাজবিজ্ঞান সমাজের শ্রেণিসমূহের ও সামাজিক স্তরবিন্যাসের স্বরূপ উদ্ঘাটন করে। এ উদ্ঘাটনের মধ্য দিয়ে সমাজের আসল রূপ ও বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে, যার মাধ্যমে মূলত সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতিকে অলংকৃত করা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা।

ঘ) মিরাজের পঠিত বিষয়টি হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান। আর তুহিনের পঠিত বিষয়টি হচ্ছে মনোবিজ্ঞান। কারণ মনোবিজ্ঞান ব্যক্তির আচার-ব্যবহার, তার মনোভাব, শিক্ষা ও দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে আলোচনা করে এবং সমাজবিজ্ঞান সমাজ ও মানুষ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করে।

সমাজবিজ্ঞান সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক কাঠামো তথা সমাজ পরিবর্তনের নিয়ামক শক্তি নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু মানুষ যেসব বন্ধনের বশবর্তী হয়ে সমাজবদ্ধভাবে বাস করে তা অনেক ক্ষেত্রে মানসিক বলা চলে; যেমনপরিবারের মধ্যে মাতা-পিতার স্নেহ-মায়া, ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহানুভূতি এবং যৌন চাহিদা ইত্যাদি। মনোবিজ্ঞান এসব মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করে।

মনোবিজ্ঞান আকৃষ্ট হয় ব্যক্তির আচরণের প্রতি, কিন্তু সে আচরণ নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে চায় না। সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে সমাজকাঠামো। ব্যক্তির মানসিকতার প্রকাশ ঘটে আচরণের মধ্যে। আচার-আচরণের পশ্চাতে মানসিক কারণ ছাড়া অর্থনৈতিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি শক্তির প্রভাব রয়েছে। সুতরাং যদিও আমরা সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক দেখতে পাই, তবু এ দুয়ের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।

উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সামাজিক মনোবিজ্ঞান সাধারণ মনোবিজ্ঞানের এমন একটি অংশ, যা সামাজিক প্রপঞ্চের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কিংবা মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

পড়ালেখা- এর আরো খবর