English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

গরিবের চাল নিয়ে বাণিজ্য

তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নিন

  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের একটি বিশেষ কার্যক্রম রয়েছে, যাকে বলা হয় ওএমএস। খোলাবাজারে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করে সরকার। ওএমএস কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষের খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কথা নয়। ঢাকায়ই প্রতিদিন ১৪১টি স্পটে ওএমএসের চাল বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারের এই মহতী কার্যক্রম ব্যর্থ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সরকার ৩৯ টাকা কেজি দরে চাল কিনে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে ৩০ টাকা দরে। প্রতি কেজি আটা কেনা হয় ৩২ টাকা দামে, বিক্রি করা হয় ১৬ টাকা কেজি দামে। এই দামে প্রতিদিন নির্দিষ্ট স্পটে চাল ও আটা বিক্রি হলে সাধারণ মানুষের কাছে তা সহজেই পৌঁছে যাওয়ার কথা। সরকারের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। কিন্তু খাদ্য অধিদপ্তরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সরকারের এই মহতী কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, প্রতিদিন ঢাকার ১৪১টি স্পটে ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি করার কথা থাকলেও মাত্র ৩৩টি স্পটে বিক্রি হয়। খাতা-কলমে ১৪১টি স্পটেই বিক্রি দেখানো হয়। তাহলে বাকি চাল ও আটা যায় কোথায়? র্যাবের তৎপরতায় সে রহস্য উদ্ঘাটন করা গেছে। গত শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ওএমএসের ২১৫ টন চাল ও আটা জব্দ করেছে র্যাব। কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব খাদ্যপণ্য তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম থেকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের গুদামে নিয়ে রাখা হয়েছিল। এসব খাদ্যপণ্য চুয়াডাঙ্গা, শ্রীমঙ্গল ও মাওনায় পাচার করা হতো বলে জানিয়েছে র্যাব।

দরিদ্র মানুষের সহায়তার খাদ্য নিয়ে এ ধরনের বাণিজ্য এটাই প্রথম নয়। এমন নয় যে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম ঘটল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। কোনো ঘটনা জানাজানি হলে বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গুরুপাপে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে খাদ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না। দেশের ১৩টি সিএসডির কোনোটিতে ক্যাডার কর্মকর্তা নেই। সেখানে সংযুক্তি পেয়েছেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। এমনকি ১৫ জেলায় ডিসি ফুড পদেও বসে আছেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। ঢাকার কেন্দ্রীয় সিএসডিতে কোনো কোনো কর্মচারী ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত। ফলে সিএসডি ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট সর্বত্রই সক্রিয়। কাজেই সবখানেই কড়া নজরদারি করতে হবে। ঢাকায় খাদ্য পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্পাদকীয়- এর আরো খবর