English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা আরো বাড়ুক

  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো বাড়ল। বিদ্যুৎ ও রেলওয়ে খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো গভীর হলো। ভারত আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সরবরাহ শুরু করেছে। যে প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুতের নতুন সরবরাহ শুরু হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেটির উদ্বোধন করেন। ভারতীয় ঋণসহায়তায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন ও আখাউড়া-আগরতলা ডুয়ালগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ) বিষয়ক প্রকল্পও উদ্বোধন করেন তাঁরা। সহযোগিতার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও দর্শনের প্রশংসা করেছেন নরেন্দ্র মোদি।

উভয় পক্ষই সম্পর্কের নতুন মাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বিদ্যুৎ ও রেলওয়ে খাতে সহযোগিতার বিষয়টিকে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের জন্য ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত প্রায় সব ক্ষেত্রেই পরস্পরকে সহযোগিতা করছে। সেসবের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। উল্লিখিত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজি হলে বাংলাদেশকে আরো এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারে পশ্চিমবঙ্গ। তাঁর মন্তব্য, বাংলাদেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি। আমরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকে। সুতরাং দুই দেশের সম্পর্ক আরো বাড়ুক, আরো এগিয়ে যাক।

জন্মলগ্ন থেকেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ নিবিড়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণে রাখে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এ সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়, পরে আবার উন্নয়ন ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ভারত থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত, গত সাড়ে ৯ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আরো বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বাংলাদেশ আশা করে, পশ্চিমবঙ্গের এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্মতি দেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু বিদ্যুৎ খাতে নয়, রেলওয়ের উন্নয়নের ব্যাপারেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের অর্থায়নে শিগগিরই ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়ালগেজ রেললাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডুয়ালগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেশীর সম্পর্ক প্রতিবেশীর মতোই হওয়া উচিত। সুপ্রতিবেশী মানে পারস্পরিক সুসম্পর্ক। মনখোলা সম্পর্ক। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আবিলতামুক্ত থাকুক, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে চলুক। আগামী দিনে এ সম্পর্কের গাঢ়তা আরো বাড়ুকএটাই আমরা চাই।

সম্পাদকীয়- এর আরো খবর