English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ইলিশের জিন-নকশা উন্মোচন

বিজ্ঞান গবেষণার এই ধারা এগিয়ে নিন

  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পাটের জিন রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণায় নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা ইলিশের জিন-নকশা (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন। ফলে ইলিশ নিয়ে আরো গবেষণা, জাত উন্নয়ন এবং এর উৎপাদন বৃদ্ধিতে এগিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৃথিবীতে যত ইলিশ ধরা পড়ে তার ৭৫ শতাংশই ধরা পড়ে বাংলাদেশের কয়েকটি নদী ও উপকূলীয় জলসীমায়। সুস্বাদু এই মাছটির কদর রয়েছে সারা পৃথিবীতেই। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রচুর রপ্তানিও হচ্ছে। জানা যায়, দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাছ আহরিত হয় তার ১০ শতাংশই হচ্ছে ইলিশ। ইলিশ থেকে যে আয়, তা জিডিপির ১ শতাংশ। সেই হিসাবে শুধু মাছটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের অনেক বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। গত বছর ইলিশ মাছ বাংলাদেশের ভৌগোলিক পণ্য বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জীবন রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় এখন বাংলাদেশ পেটেন্টের জন্যও আবেদন করতে পারবে।

প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বাংলাদেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলিশের জিন সিকোয়েন্সিং নিয়ে কাজ হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো জিনোম অ্যাসেম্বলি প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয় এবং একই বছরের ২৫ আগস্ট সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিনোম ডাটাবেইস ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন সংক্ষেপে এনসিবিআইতে জমা দেওয়া হয়। এর সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন অধ্যাপক ড. সামছুল আলম। অন্যদিকে ২০১৭ সালে ইলিশ নিয়ে কাজ শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগে। অধ্যাপক ড. হাসিনা খানের নেতৃত্বে আরেক দল গবেষক এখানেও ইলিশের জিন সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেন বলে দাবি করা হয়। তবে তাঁরা এখনো প্রাপ্ত সাফল্য কোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে উপস্থাপন করেননি। দুটি গবেষণাই অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ। এখন উভয় গবেষণার সুফল কিভাবে বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে, সেই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

দুর্নাম ছিল বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা হয় না। তার কারণও ছিল। উচ্চতর গবেষণায় তহবিলের জোগান ছিল অতি নগণ্য। সেই খরা এখন অনেকটাই কেটেছে। আর তার ফলও ফলতে শুরু করেছে। দুটি জিন সিকোয়েন্সিং ছাড়াও ধান, বিভিন্ন ফল, ফসল ও মাছের গবেষণায় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে। গত সপ্তাহে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণে একটি সহজ ও কার্যকর প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণার এই ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং উদ্ভাবনগুলোর বহুল প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয়- এর আরো খবর