English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

যুক্ত হচ্ছে নতুন উড়োজাহাজ

এবার ঘুরে দাঁড়াক বিমান

  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানের লক্ষ্য ছিল আকাশে শান্তির নীড় রচনা, পৃথিবীকে ছোট করে আনা। কিন্তু একসময় দেখা গেল বিমানের পৃথিবীই ছোট হয়ে আসতে থাকে। বিশ্বের সব বিমান সংস্থা যখন আন্তর্জাতিক রুটে তাদের ফ্লাইট বাড়িয়েছে তখন বিমানের রুট বন্ধ হয়েছে। নতুন রুটে ফ্লাইট চালু করা তো ছিল চিন্তারও অতীত। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে সময়মতো ফ্লাইট অপারেশনে ব্যর্থতার কারণে বিমান একসময় হারিয়ে ফেলে বিশ্বাসযোগ্যতা। নতুন করে বিমানের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হয়েছে সরকার। বিমানবহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উড়োজাহাজ। চারটি ৭৮৭ ড্রিমলাইনারসহ ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়। তারই প্রথম উড়োজাহাজটি এসেছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী সর্বাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের এই উড়োজাহাজের নাম দিয়েছেন আকাশবীণা। আগামী নভেম্বরে দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার এবং ২০১৯ সালে আরো দুটি ড্রিমলাইনার সরবরাহ করবে বোয়িং। বিমানের উড়োজাহাজবহরে আগেই যুক্ত হয়েছে রোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৩৭।

বহির্বিশ্বে একটি দেশের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় সে দেশের বিমান সংস্থা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাস্তবতা হলো, দেশে কিংবা বিদেশে কোথাও সেই চেষ্টা দেখা যায়নি। কাঙ্ক্ষিত সুনাম অর্জনে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে বিমান। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবা নিয়ে সবারই বিস্তর অভিযোগ। কাঙ্ক্ষিত ও মানসম্মত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়নি বলেই বিমান যাত্রী হারিয়েছে। ঢাকা থেকে অন্যান্য সংস্থার ফ্লাইট বাড়লেও বিমানের ফ্লাইট কমেছে। অন্য ফ্লাইট অপারেটরদের হাতে চলে গেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমানের ব্যবসা। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে সরকার। আর সে কারণেই বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন উড়োজাহাজ। বিমানের ফ্লাইট অপারেশন বাড়ানোর যে কোনো বিকল্প নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর ভাড়া করা উড়োজাহাজের চেয়ে নিজস্ব এয়ারক্রাফটই যে লাভজনক হবে, তাতে সন্দেহ নেই। বিমানকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতেই আধুনিক প্রযুক্তির নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এরই একটি আকাশবীণা।

আকাশবীণার উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আশার কথা বলেছেন। বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। যেকোনো সংস্থাকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে হলে সেই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হয়। বিমানকে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। আমরা আশা করব, বিমান ঘুরে দাঁড়াবে। বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য অর্জন করবে।

সম্পাদকীয়- এর আরো খবর