English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

গুরুত্বপূর্ণ বদ্বীপ পরিকল্পনা

অস্তিত্বের প্রয়োজনে এর বাস্তবায়ন জরুরি

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন দেশ এখন সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। অবকাঠামো, অর্থনীতিসহ নানা দিকেই পরিকল্পিত উন্নয়নের ছোঁয়া দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় মানুষের সন্তুষ্টিও বাড়ছে। গত দুই বছরে প্রায় এক ডজন আন্তর্জাতিক জরিপে বাংলাদেশের এমন চিত্র উঠে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় একনেকে অনুমোদন পেয়েছে ১০০ বছরমেয়াদি বদ্বীপ পরিকল্পনা। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় তিনটি ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে প্রথম ধাপ বা পর্যায়। এই ধাপে মোট ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬৫টি প্রকল্প থাকবে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত। বাকি ১৫টি প্রকল্প হবে সক্ষমতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণাবিষয়ক। এতে মোট ব্যয় হবে তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি। পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়িত হবে ২০৫০ সালের মধ্যে এবং তৃতীয় ধাপ বাস্তবায়িত হবে ২১০০ সালের মধ্যে। নেদারল্যান্ডস, বিশ্বব্যাংকসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এরই মধ্যে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হবে দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং সুদূরপ্রসারী ও লক্ষ্যাভিমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা।

বিজ্ঞানীদের হিসাবে এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে এক মিটারের বেশি। অনেক দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ও অনেক দ্বীপরাষ্ট্র সম্পূর্ণ বা আংশিক ডুবে যাবে। বাংলাদেশেরও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ বাস্তুহারা হবে, আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে, খাদ্যসংকট তীব্র হবে। গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০১০ অনুযায়ী ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরে বাংলাদেশে শুধু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এই সময়ের উন্নয়ন বাজেটের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। সেই সঙ্গে রয়েছে সিডর-আইলার মতো ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি। বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে। এখন থেকেই সেসব ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার উদ্যোগ না নিলে বিপদ যখন ঘাড়ের ওপর চেপে বসবে, তখন আমরা কী করব? দক্ষিণাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হলে তাদের ঠাঁই হবে কোথায়? শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিই নয়, বাড়বে অন্যান্য দুর্যোগও। খরায় আক্রান্ত হবে দেশের একটি বড় অংশ। বন্যায় ডুবে থাকবে হাওরসহ দেশের আরেকটি বড় অংশ। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ মহামারি আকারে দেখা দেবে।

সম্ভাব্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবেলা করে জাতি হিসেবে আমাদের টিকে থাকার জন্য এমন একটি পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। এত দিন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করা ছিল প্রায় অসম্ভব। ২৬টি গবেষণাপত্র প্রণয়নের মাধ্যমে চার বছর ধরে অর্থনীতিবিদ, পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে নির্ধারিত ছয়টি লক্ষ্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলাকে। এখন এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের ওপর সর্বাধিক জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে বারবার মূল্যায়নের মাধ্যমে পরিকল্পনার সঠিকতা নিরূপণ করতে হবে।

সম্পাদকীয়- এর আরো খবর