English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মিয়ানমারে জঘন্য অপপ্রচার

আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ জরুরি

  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত নেবে কি না তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে। অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করেন, গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক ক্ষোভ প্রশমনে মিয়ানমার আপাতত নরম সুরে কথা বলছে কিংবা প্রত্যাবাসন চুক্তি করেছে। ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হলেই তারা আবার স্বরূপে আবির্ভূত হবে। বাকি রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেবে। মিয়ানমারের আচরণেও বিশ্লেষকদের তেমন ধারণার সত্যতা পাওয়া যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, মিয়ানমারে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ওপর এখনো নানাভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তেমনই একটি দৃষ্টান্ত উঠে এসেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী মিথ্যা প্রচারণায়। আসল সত্য নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জনসংযোগ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিভাগ ১১৭ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশ করেছে। তাতে মিথ্যা তথ্যের পাশাপাশি অনেক ভুয়া ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নিহত বাঙালিদের লাশ বুড়িগঙ্গায় ভাসছিল, যার ছবি তুলেছিলেন আলোকচিত্রশিল্পী আনোয়ার হোসেন। বইটিতে সেই ছবি ব্যবহার করে বলা হয়েছে, এগুলো ১৯৪০-এর দশকে রোহিঙ্গাদের হাতে নিহত বৌদ্ধদের মৃতদেহ। ১৯৯৬ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যা থেকে বাঁচতে বহু মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা এভাবেই ১৯৪৮ সালে মিয়ানমারে এসেছিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স অনুসন্ধান চালিয়ে বইটিতে ব্যবহৃত আটটি ছবির তিনটিকেই ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছে। সেনাবাহিনীর এ ধরনের অপপ্রচারের পরও কি বলা যাবে যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তাদের ন্যূনতম কোনো সদিচ্ছা আছে?

১৯৬০-এর দশকে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই রোহিঙ্গাদের দুর্দশার শুরু। তার আগে রোহিঙ্গারা সেখানে বেশ ভালো অবস্থায়ই ছিল। দেশটির পার্লামেন্টেও বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা সদস্য ছিলেন। সেনাবাহিনী ক্রমেই তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়, মৌলিক অধিকারগুলোও কেড়ে নেয়। ধারাবাহিকভাবে হত্যা-নির্যাতন চালাতে শুরু করে। তার শিকার হয়ে ১৯৭৮ সালে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর পর থেকে দফায় দফায় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছে। আর রোহিঙ্গা নিধন ও বিতাড়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সেনাবাহিনী তখন থেকেই রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা চালাতে থাকে। ফলে রাখাইন রাজ্যে স্থানীয় বৌদ্ধরাও প্রচণ্ড রকমের রোহিঙ্গাবিরোধী হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, গত বছরের রোহিঙ্গাবিরোধী নির্যাতন ও গণহত্যায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বৌদ্ধরাও অংশ নিয়েছিল। আর সেই রোহিঙ্গাবিরোধী উসকানি আরো জোরদার করতেই সেনাবাহিনী এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফল হবে, আন্তর্জাতিক চাপে রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়া হলেও স্থানীয় বৌদ্ধরা তাদের সেখানে থাকতে দেবে না। দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধাবে। আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচারের পাশাপাশি তাদের এ ধরনের অপপ্রচার ও গণহত্যায় উসকানি প্রদানেরও বিচার করতে হবে।

সম্পাদকীয়- এর আরো খবর