English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

রহস্যজট

ভূতটা কে?

আবদুল্লাহ আল ফারুক

  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

আঁকা : মাসুম

ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ফোন দিয়েছিল রিপনের চাচি। কথা হয়েছিল রিপনের মায়ের সঙ্গে। চাচি থাকেন গ্রামের বাড়িতে। চাচা কদিন ধরে অসুস্থ। ছোট একটা চাচাতো ভাই আছে। বাড়িতে আর কেউ নেই। রিপনরা ঢাকায়। মায়ের কাছে যা শুনেছে তাতে আক্কেলগুড়ুম রিপনের। বাড়িতে নাকি একটা ভূত খুব জ্বালাচ্ছে। চাচি বলেছেন, রিপনরা যেন পারলে একবার ঘুরে যায়।

খবর শুনে সবাই চিন্তিত হলেও রিপন মহাখুশি। ভূতের আছরওয়ালা বাড়ি দেখার অনেক শখ ছিল। খবর পেয়ে সঙ্গে যাওয়ার গোঁ ধরেছে বন্ধু রিফাতও। দুজনের এসএসসি পরীক্ষা শেষ। বেড়ানোর সময় এখন। তাই তাদের বারণ করল না কেউ।

রিপনদের গ্রামে অনেকেরই পাকা দালান উঠেছে। তবে চাচা-চাচি এখনো আগের সেই টিনের চালার ঘরেই থাকেন। আশপাশে কয়েকজন দূর সম্পর্কের আত্মীয় থাকে। তাদের কারোর সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক নেই। বাড়ির সীমানা দখল নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকে। রিপনদের চাচা-চাচিকে তাড়িয়ে দিয়ে বাড়িটা দখল করতে পারলেই যেন বাঁচে তারা। এক পাশে সবুর চাচা, অন্য পাশে আখতার মুন্সি। আর সামনের দিকে করিম নামে একজনের বাড়ি। রিপনরা এসেই প্রাথমিক নোট নিয়ে নিল। ভূতের উপদ্রবের তালিকায় যা যা পেয়েছে

বাড়ির টিনের চালে ঢিল ছোড়া, বাড়ির পেছনের জঙ্গলে আগাগোড়া সাদা কাপড় পরা মূর্তিমতো একজনকে দেখতে পাওয়া ও রিপনের চাচিকে পেছন থেকে ঢিল ছোড়া ও মিহি সুরে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা।

রিপনরা শুরু থেকেই ভূতের ব্যাপারটা উড়িয়ে দিল। তাদের সন্দেহের তালিকায় আছে কয়েকজন। সবুর চাচার বড় ছেলে রশিদ। খেয়েদেয়ে কাজ নেই তার। চলাফেরায় মাস্তানি একটা ভাব আছে। ভূত সেজে সে ভয় দেখাতেই পারে। আখতার মুন্সির বয়স পঞ্চাশের ঘরে। তার বাড়িতে তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ থাকে না। দুই ছেলে ঢাকায় থাকে। মোড়ে দোকানদারি করে। জমির সীমানা নিয়ে তার সঙ্গেই বেশি ঝগড়া লাগে রিপনের চাচার। সেও সাদা কাপড় পরে ভয় দেখাতে পারে। করিম নামের লোকটার এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলের বয়স ত্রিশের মতো, মেয়ের পঁচিশ। ছেলে কথা বলে কম। তবে কোথাও মারামারি লাগলে নাকি তাকে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়। ভূত হওয়ার যোগ্য সেও। আর মেয়েটাও নাকি দুর্ধর্ষ। ঝগড়া লাগলে সবার আগে ছুটে আসে। একবার নাকি দা নিয়েও রিপনের চাচিকে মারতে এসেছিল। সন্দেহের তালিকায় এরা সবাই।

এবার চাচির ইন্টারভিউ নেওয়ার পালা। চাচি যা যা জানালেন তার সারমর্ম হলোভূতের চেহারা কখনো দেখেননি। একবার চাচির পেছনে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রেখেছিল। ভয়ে চিত্কার করে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন চাচি। অবশ্য এতে করে এটা জানা গেছে যে ভূতের উচ্চতা চাচির সমান। পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। এই উচ্চতার মধ্যে আখতার মুন্সি, করিম চাচার ছেলে পড়ে। মেয়েটা পাঁচ ফুট হবে বড়জোর। রশিদ কমসে কম ছয় ফুট। তবে সে কুঁজো হয়েও ভয় দেখাতে পারে।

ভূতটা দুয়েকবার মিহি ও নাঁকি সুরে কথা বলেছে। শুনে বোঝার উপায় ছিল না ওটার বয়স কত বা কে হতে পারে। হাঁটেও অদ্ভুত কায়দায়। চাচির মতে, কাফনের মতো সাদা কাপড় পেঁচাইয়া বিরাট বিরাট কদম ফেলে হাঁটে ওটা। চাচির ধারণা এটা সত্যিকারের ভূত এবং ওটাকে আরো অনেকেই দেখেছে। অন্য কারো এ নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই। চাচিরা ভয় পেয়ে বাড়ি ছাড়লেই তারা বাঁচে। রিপনের বাবা-মা এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে মানা করেছেন যদিও।

বাড়ির পেছনে তদন্তে গেল রিপন ও রিফাত। গত রাতেও পেছনের পুকুরপাড়ের জঙ্গলঘেরা পাড়ে ওটাকে দেখা গিয়েছিল।

নাহ, কোনো পায়ের ছাপ নেই। বলল রিফাত।

গোল গোল এগুলো কীসের গর্ত? সব দেখি এক সাইজের। ভাবছে রিপন।

ভালো করে দেখল দুজন। পুকুরপাড়ের আশপাশের মাটিতে হাতের তালু সমান গোল গোল বৃত্ত আঁকা। বেশ কিছু।

ইউরেকা! চেঁচিয়ে উঠল দুই বন্ধু। ভূত ধরে ফেলেছে! প্ল্যান করেছে, পরেরবার ভূত দেখামাত্রই ছুটে এসে জাপটে ধরা হবে। তারপর সবাইকে ডেকে এনে লজ্জা দিলে একটা শিক্ষা হবে ওর।

এবার বলো, ভূত কে? আর কী করে নিশ্চিত হলো রিপনরা?

গত রহস্যজটের উত্তর

জামশেদের কাজিনকে এর আগে কেউ অফিসে দেখেনি। তার জানার কথা নয় যে পিয়নের নাম আমজাদ। সে কলিং বেল টিপেই আমজাদ মিয়াকে ডেকেছে। বোমা মেরে সে অন্য কাউকে মেরে জামশেদ বলে চালিয়ে দিয়েছিল।

দলছুট- এর আরো খবর