English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

অবাক পৃথিবী

মিসর রহস্য

মিসরীয় সভ্যতাকে ঘিরে পিরামিডের মতোই দাঁড়িয়ে আছে জটিল সব রহস্যজট, যার অনেকই এখনো প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে রয়ে গেছে অধরা। তেমনি কিছু রহস্যের খোঁজ জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

হারানো গোলকধাঁধা

আড়াই হাজার বছর আগে মিসরে ছিল এক আশ্চর্য গোলকধাঁধা। ছিল পিরামিডের চেয়েও বিষ্ময়কর। বিশাল সে স্থাপনায় ছিল তিন হাজারেরও বেশি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষ সংযুক্ত ছিল। ওতে কেউ একবার ঢুকলে পথ হারাবেই। ওই দালানের নিচের অংশে ছিল সম্রাটদের সমাধি। তার ওপর মস্ত বড় পাথরের বিশাল ছাদ। বহু প্রাচীন মিসরীয় লেখক ওই গোলকধাঁধা সম্পর্কে লিখে গেছেন। তবে এখন সেটার অস্তিত্ব নেই। এর কাছাকাছি যে স্থাপত্যটি খুঁজে পাওয়া গেছে তা হলো, এক হাজার ফুট চওড়া একটি পাথর। কেউ কেউ মনে করেন, ওটা গোলকধাঁধার ভিত্তির একটি অংশ। ২০০৮ সালে একটি জিও-রাডার বিশেষজ্ঞদল মাটির নিচে গোলকধাঁধার মতো দেখতে একটি নকশার সন্ধান পায়। পুরো বিষয়টি এখনো ধাঁধাই রয়ে গেছে।

ক্ষমতাধর নারী

২০১৫ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি পিরামিডে এক রহস্যময় নারীমূর্তির খোঁজ পান, যাকে সমাহিত করা হয় অন্য সম্রাটদের সমমর্যাদায়। তিনি সমকালীন রানিদের চেয়েও বেশি ক্ষমতাধর ছিলেন। তাঁর পুরো পরিচয় জানা না গেলেও সমাধিতে লেখা ছিল, সম্রাটের স্ত্রী এবং সম্রাটের মা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে ওই নারী হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন। ইতিহাসবিদদের মতে, তাঁর নাম খেনতকাওয়েস তৃতীয়। আর সম্ভবত তিনি ছিলেন রাজা নেফরেফ্রির স্ত্রী ও রাজা মেকাহুর মা।

ইসরায়েলে স্ফিংক্স

স্ফিংক্স হলো মানবী ও সিংহের মিশেলে গ্রিক পুরাণের একটি চরিত্র, যার প্রতিকৃতির দেখা মেলে মিসরীয় সভ্যতায়। ২০১৩ সালে ইসরায়েলের তেলহাজুর এলাকায় প্রত্নতত্ত্ববিদরা একটি স্ফিংক্স মূর্তির পায়ের অংশ খুঁজে পান, যার বয়স চার হাজার বছর। ওটার থাকার কথা মিসরে। কিন্তু এটা কিভাবে ইসরায়েলে আসে সেটাই রহস্য। পায়ের গায়ে লেখা ছিল মিসরীয় মাইসেরিনাসের নাম, যিনি খ্রিস্ট-পূর্বাব্দ ২৫০০ সালে রাজত্ব করেছেন। তেলহাজুর মিসরীয়দের দখলে ছিল না কখনোই। তাই ধারণা করা হয়, ওটা মাইসেরিনাসের উপহারই ছিল।

নেফারতিতির সমাধি

রানি নেফারতিতি ছিলেন ফারাও আখিনাতুনের স্ত্রী এবং তুতানখামেনের মা। সবার সমাধি পাওয়া গেলেও নেফারতিতির মমি মেলেনি। মিসরীয় ইতিহাসে নেই তাঁর মৃত্যুর বর্ণনাও। কেউ কেউ মনে করেন স্বামীর পরে নিজেই ফারাও হয়ে নাম বদলে শাসন শুরু করেছিলেন তিনি। তবে ইতিহাসবিদ ড. জয়েস টায়ডসলি মনে করেন নেফারতিতি কখনোই ফারাও হননি। তিনি বিশেষ কেউও ছিলেন না। ১৯২০ সালের দিকে তাঁর একটি মূর্তি পাওয়া যাওয়ার পরই তাঁর বিষয়ে বেশি আলোচনা হয়।

তুতানখামেনের মৃত্যু

মিসরীয় রহস্যের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এটি। সম্রাট তুত মারা যান ১৯ বছর বয়সে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে ব্যাখ্যার শেষ নেই। কেউ বলে ম্যালেরিয়া, কেউ বলে জিনগত সমস্যা। তুতের পা ছিল পোলিও রোগীর মতো বাঁকানো। মাথায় আবার আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। তাই কারো ধারণা সে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল। আর যা-ই হোক, তাঁর মমি পরীক্ষায় এটুকু বোঝা গেছে যে শেষের দিকে ভয়াবহ একটা সময় পার করেছিলেন তুতানখামেন।

পিরামিডের গোপন চেম্বার

মিসরের সবচেয়ে বিখ্যাত পিরামিডটি সাড়ে চার হাজার বছর আগে ফারাও খুফু নির্মাণ করেন। ৪৯০ ফুট লম্বা ও ২৩ লাখ পাথরের ব্লক দিয়ে তৈরি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে একদল গবেষক স্ক্যান করে পিরামিডটির ভেতরে তিনটি লুকানো চেম্বারের সন্ধান পায়। তবে ওই চেম্বারে যাওয়ার কোনো পথ রাখেনি মিসরীয়রা। বানানোর পর বাইরে থেকে পাথর দিয়ে একেবারে সিলগালা করা। ওই চেম্বারে কী আছে, তা এখনো জানা যায়নি।

হারানো পুন্ত

প্রাচীন মিসরীয় নিদর্শন ও বইয়ে পুন্ত নামে একটি স্থানের কথা বলা হয়, যা ছিল সোনাদানায় ভরপুর আফ্রিকার একটি সাম্রাজ্য। এটিকে ঈশ্বরের ভূমিও বলা হতো। পুন্তের রানির একটি ছবি প্রাচীন মিসরীয় মন্দিরে খোদাই রয়েছে। তবে ওই পুন্ত সাম্রাজ্য ঠিক কোথায় ছিল সেটাই জানা যায়নি এখনো। একটি সূত্র অবশ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মিসরীয়রা পুন্ত থেকে পাওয়া দুটো বেবুনের মমি করে রেখেছিল। জানা গেছে, সেগুলো ছিল পূর্ব ইথিওপিয়ার।

বিদেশি বইতে মোড়ানো মমি

সালটা ১৮৪৮। এক ব্যক্তি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে একটা মিসরীয় নারী মমি কিনে আনেন। প্রায় বছরখানেক সেটাকে ফেলে রাখার পর মমির ব্যান্ডেজ খুলতে থাকেন তিনি। দেখা গেল মমিটিকে মোড়ানো হয়েছে লিলেন কাগজ দিয়ে। তাতে আবার ইট্রুসকান ভাষায় লেখা। ওই ভাষাভাষীদের বংশধররা এখন ইতালিতে থাকে। তবে ওই কাপড়ে কী লেখা আছে তার পাঠোদ্ধার হয়নি এখনো। শুধু বোঝা যায় কিছু দেবতার নাম।

দলছুট- এর আরো খবর