English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নগরজীবন

অভাবের সংসারে কোনোমতে বেঁচে-বর্তে থাকা

সুকুমার বিশ্বাস, চর্মকার, মানিকনগর যাত্রাবাড়ী

  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ঢাকায় আপনি কত দিন ধরে আছেন?

আমার বয়স তো এখন প্রায় ৪৭ বছর হইব। দুই-এক বছর কমবেশিও হতে পারে। সাত বছর বয়সে বড় দাদার (বড় ভাই) সঙ্গে ঢাকায় আসি। ছোটবেলায় বাবা মারা যায়। দাদা ঢাকায় থাকত। বাবা মারা যাওয়ার কয়েক দিন পর দাদা আমারে ঢাকায় নিয়ে আসে।

অল্প বয়সে ঢাকায় এলেন যে?

বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারে অভাব আছিল। দাদা চাইছিল আমিও যেন কিছু কাজকর্ম করে সংসারে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করি। সেই ভাবনা থেকেই দাদা আমারে ঢাকায় নিয়া আসে। দাদার কাছেই কাজ শিখছি। গেরামে মা আছিল। দাদা মায়ের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠাইত। দাদার সঙ্গে সাত বছর বয়স থেকেই মেসে থাকতাম। ঢাকায় দাদা ছিল আমার একমাত্র আপনজন। দাদা ঢাকার বিভিন্ন মহল্লায় হেঁটে হেঁটে জুতা-স্যান্ডেলের কাজ করত। আমিও দাদার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতাম, কাজ শিখতাম। দুই-তিন বছরেই সব কাজ শিখা ফেলছি। আমি যখন কাজ শিখা নিলাম, তখন দাদা এক মহল্লায় যাইত, আমি যাইতাম আরেক মহল্লায়।

এই কাজে উপার্জন কেমন হয়?

এইডার কোনো ঠিক নাই। কখনো কম, কখনো বেশি হয়। তবে জুতা রং করে বেশি টাকা পাওয়া যায় না। একটা জুতা কালি করলে ২০-৩০ টাকা পাওয়া যায়। তবে জুতা সেলাই করলে ৫০-৬০ টাকা পাওয়া যায়। যে আয় হয়, তা দিয়াই সংসার চালাইতে হয়। ঢাকা শহরে যা খরচ, কুলাইতে পারি না। আমি যে বাসায় থাকি, সে বাসার ভাড়াই দিতে হয় মাসে পাঁচ হাজার!

ঢাকায় এত বছর ধরে আছেন, কেমন লাগে?

ঢাকায় ভালো-মন্দ সবই আছে। আমি একাই ঢাকায় থাকি। আমার বউ, ছেলে-মেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকে। নিয়মিত টাকা পাঠাই। সেই টাকা দিয়াই তারা চলে। এই যে কাজ শেষে মেসে চলে যাই। সেখানে এলাকার আরো লোকজন আছে, সবার সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করে সময় কাটে। আনন্দে আছি। আর খারাপ দিক হলো, বৃষ্টি হলে ইনকাম কমে যায়। লোকজন রাস্তায় চলাচল করে না। তখন চিন্তা হয়। এই ছোট্ট একটা ব্যবসায়ের ওপরই আমাদের বাঁচন-মরণ। তাই কাজ না থাকলে আমাদের জন্য মহাবিপদ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নাই। একসময় অনেক কিছুই করার কথা ভাবতাম; কিন্তু কুলাইয়া উঠতে পারিনি। ছোড কাপড় টানলে তো আর বড় হয় না। যে আয় করি, তাতে অভাবের সংসারে কোনোমতে বেঁচে-বর্তে থাকা। বুড়ো হয়েছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কী চিন্তা করব? যেভাবে আছি, এভাবে দিন গেলেই খুশি।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : কবীর আলমগীর

ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন

ঢাকা ৩৬০°- এর আরো খবর