English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ঢাকার অতিথি

ঘুরতে ঘুরতে চলে এলাম

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ঢাকা বিশাল শহর। অনেক মানুষ। খুব বেশি মানুষ সব সময় আমার কাছে বিরক্তিকর। তাই স্বাভাবিক কারণেই ঢাকা ভালো লাগেনি। তবে ঢাকার বাইরের খোলামেলা সবুজ গ্রামবাংলা আমার খুব ভালো লেগেছে

নাম তাঁর হাও। যেমন সংক্ষিপ্ত নাম, তেমনি মেদহীন আলাপ। বলেন কম, চলেন বেশি! সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছিলেন সোজাসাপটা কথা বলা ওইজাপানি নারী। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

ডাক নাম হাও। পুরো নাম জানতে চাইলে থামিয়ে দিলেন তিনি। আমার মনে হয়, এটুকুই যথেষ্ট। চেনা-পরিচয়ের দরকার হলে ডাক নামেই চেনা যায়। তা ছাড়া আমি এই নামেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। বললেন হাও। তাঁর বাড়ি জাপানের টোকিওতে। এলাকার নাম শিনজুকু। ব্যয়বহুল এলাকা, হিসাব করে চলতে হয়। হাও শুধু হিসাব করে চলেনই না, কথাও বলেন হিসাবের মধ্যে। কাজ করেন গুনে গুনে। তিনি বললেন, আমার সব কিছুই হিসাবের আওতায়। অযথা নষ্ট করার মতো সময় আমার নেই। অনলাইনে যদি আমার প্রোফাইল খোঁজেন, দেখবেন ওখানে আমি কিছু স্পষ্ট কথা লিখে রেখেছি।

স্পষ্ট কথাগুলো কেমন? কেউ আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাততে আগ্রহী হলে তাকে যে দরকারি কথাগুলো জেনে নেওয়া দরকার, সেগুলোই লিখেছি। যেমন, যারা আমাকে মেসেজ করতে চায়, তাদের মেসেজ পাঠানোর আগে আমার প্রোফাইল পড়ে নিতে বলেছি। প্রোফাইলে আমি সোজা জানিয়ে দিয়েছি, জীবনে খুব বেশি মানুষের সঙ্গ দরকার নেই আমার। প্রতিদিন আমি অনেক মেসেজ পাই। সুতরাং সবাইকে মাথায় রাখতে হবে যে তাদের রিপ্লাই করতে দেরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। যারা আমার প্রোফাইল না পড়ে নক করতে থাকে, অনেক সময় তাদের ব্লক করে দিই। বন্ধুত্বের অনুরোধে এড়িয়ে যাই। আর যাদের আমার সংস্কৃতির ওপর শ্রদ্ধা নেই, তাদের প্রতি আমারও শ্রদ্ধা নেই। এসব আরকি।

বাংলাদেশে কেন এলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হাও বললেন, আমি অনেক ব্যাপারেই খুব কড়াকড়ি হলেও কিছু ব্যাপারে একেবারেই দুর্বল। ভ্রমণ আমার নেশা। আমি সব সময় নতুনকে জানার চেষ্টা করি। আর নতুনকে পাওয়ার সেরা মাধ্যম ভ্রমণ। দীর্ঘ সময় এক স্থানে থাকতে ভালো লাগে না। তাই ঘুরতে বের হয়েছি। ঘুরতে ঘুরতে চলে এলাম বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি কেমন? ভালো। এশিয়ার সব দেশের সংস্কৃতিই ভালো লাগে। তবে মালয়েশিয়া এবং ভারতের সংস্কৃতির প্রতি একটু বেশি দুর্বলতা আছে আমার। বাংলাদেশি আর ভারতীয় সংস্কৃতি তো কাছাকাছি।

আপনি বলেছেন, যারা আপনার সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করে না, আপনিও তাদের শ্রদ্ধা করেন না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের মূল্যায়ন করতে বললে কী বলবেন? বাংলাদেশিদের কাছে আমার সংস্কৃতির প্রতি অশ্রদ্ধার কিছু পাইনি। আমার চলতে-ফিরতে সমস্যা হয়নি।

ঢাকা শহর কেমন মনে হয়েছে? ঢাকা, বিশাল শহর। অনেক মানুষ। খুব বেশি মানুষ সব সময় আমার কাছে বিরক্তিকর। বেশি মানুষের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। বেশি লোকের মধ্যে কফি খেতেও আমার ভালো লাগে না। তাই স্বাভাবিক কারণেই ঢাকা ভালো লাগেনি। তবে ঢাকার বাইরের খোলামেলা সবুজ গ্রামবাংলা আমার খুব ভালো লেগেছে। নিজের মতো করে উপভোগ করেছি। তবে ঢাকার লোকেরাও সহযোগিতাপ্রবণ, বিশেষ করে বিদেশিদের ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশে হিচহাইকিং করেছেন? না। তবে ভ্রমণের খরচ কমানোর জন্য আমি হিচহাইকিং করি। এতে বোনাস হিসেবে কিছু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা যোগ হয়। দেশের বাইরে হিচহাইকিং করেছি লাউসের ম্যাকং নদীর তীরে। এ ছাড়া দেশের ভেতরেই হিচহাইকিং বেশি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি কিন্তু অতটা উদার মানুষ নই। যেচে গিয়ে মানুষের উপকার করি না। মাঝেমধ্যে কিছু উপকার করতে হয়, কারণ অনেক লোকের কাছ থেকে অনেক অনেক উপকার পেয়েছি। সেগুলোর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়নি বা জানানোর সুযোগ হয়নি। সব সময় সেটা হয়েও ওঠে না। একা ভ্রমণ করার উদ্দেশ্য থাকে উপভোগ করা। উপভোগ করতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। মিশতে গেলে কিছু আদান-প্রদান তো হয়ই। কিন্তু যেচে উপকার করতে যাওয়ার অনেক ঝামেলা। সে কারণে নিজেকে কিছুটা কঠোরতার আবরণে ঢেকে রেখেছি। জাপানি পর্যটক হাও আরো জানালেন, পৃথিবী ঘুরতে গিয়ে অনেক কিছু অর্জন করেছেন তিনি। আবার হারিয়েছেনও অনেক কিছু। কী হারিয়েছেন, জানতে চাইলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বললেন, তবে হারানোর চেয়ে পাওয়ার পাল্লাটাই ভারী।

ঢাকা ৩৬০°- এর আরো খবর