English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নওয়াজের স্ত্রী কুলসুম মারা গেছেন

স্বামী ও মেয়ে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি নওয়াজ শরিফের স্ত্রী বেগম কুলসুম নওয়াজ গতকাল মঙ্গলবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, তাঁর মরদেহ পাকিস্তানে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজের স্ত্রী কুলসুম গত বছর জুন থেকে লন্ডনের হার্লে স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। একই বছর আগস্টে তাঁর গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর তিনি বেশ কয়েকটি সার্জারি ও কমপক্ষে পাঁচটি কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থার ওঠানামার মধ্যে গত সোমবার রাত থেকে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে শুরু করে। গতকাল সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গতকালই নওয়াজ পরিবার কুলসুমের মৃত্যুর খবর জানায়।

পিএমএল-এনের মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব গতকাল জানান, কুলসুমের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে। তাঁকে লাহোরে সমাহিত করা হবে বলে জানায় পরিবার।

১৯৫০ সালে লাহোরে এক কাশ্মীরি পরিবারে কুলসুমের জন্ম। তিনি গামা পালোয়ান নামে সর্বাধিক পরিচিত বিশ্বখ্যাত ভারোত্তোলক গুলাম মুহাম্মাদের নাতনি। ১৯৭১ সালে নওয়াজের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে। ১৯৯৯-২০০২ মেয়াদে তিনি পিএমএল-এনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

কুলসুমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এক বিবৃতিতে জানান, কুলসুমের পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের আইন অনুযায়ী সব সুবিধা দেওয়া হবে।

কুলসুমের দাফনে যোগ দেওয়ার জন্য নওয়াজ, তাঁর মেয়ে ও মেয়ের জামাই ক্যাপ্টেন সফদারকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলে গতকাল জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। সূত্রটি জানায়, কুলসুমের জানাজায় অংশ নেওয়া থেকে দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য ওই তিনজনকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে প্যারোলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ার দায়ে নওয়াজ শরিফ, তাঁর মেয়ে মরিয়ম এবং মরিয়মের স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সফদার বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির জেলে রয়েছেন। লন্ডনে তাঁদের মালিকানায় চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় নওয়াজের ১০ বছর, মরিয়মের সাত বছর এবং সফদারের এক বছরের সাজা হয়। সাজা ঘোষণার সময় তাঁরা লন্ডনে ছিলেন। গত ১৩ জুলাই লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর লাহোরে নওয়াজ শরিফ ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিদেশে থাকা অবস্থায় কারাদণ্ড দেওয়ার পরও নওয়াজ সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশে ফেরেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, নওয়াজ ভেবেছিলেন, কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে নেতার দেশে ফেরার কারণে ভোটারদের মধ্যে সহানুভূতি জন্ম নেবে এবং নির্বাচনে সেটা কাজে দেবে।

কুলসুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাঁর পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাবেদ বাওয়া।

কুলসুমের দেবর পিএমএল-এন প্রধান শাহবাজ শরিফ দল ও দেশের গণতন্ত্রের প্রতি ভাবির অশেষ ঋণ স্বীকার করে বলেন, মা, বোন, মেয়ে ও স্ত্রী হিসেবে তিনি এক অনুকরণীয় ভূমিকা রেখেছেন।

পাকিস্তানের অন্য রাজনীতিকরাও কুলসুমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন। সূত্র : ডন, জিয়ো নিউজ।

দেশে দেশে- এর আরো খবর