English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

টুইন টাওয়ারে হামলার ১৭ বছর

নিহতদের ১১০০ জন এখনো ‘অজ্ঞাত’

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ১৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। প্রায় দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও নিহতদের প্রায় এক হাজার ১০০ জন এখনো অজ্ঞাত। হামলার পর থেকে নিহতের দেহাবশেষ নিয়ে একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারছেন না গবেষকরা।

দেহাবশেষ শনাক্তের কাজটি চলছে নিউ ইয়র্কের একটি গবেষণাগারে। সেখানে গবেষকরা প্রথমে দেহাবশেষ হিসেবে একটি হাঁড়ের টুকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেটিকে ডিএনএর সঙ্গে মেলানো যায় না। এরপর হাড়ের গুঁড়ার সঙ্গে বিশেষ দুই ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়েও ডিএনএ আলাদা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এ পদ্ধতিও যে সফল হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

নিউ ইয়র্কের চিফ মেডিক্যাল এক্সামিনার দপ্তরের ফরেনসিক বায়োলজি বিভাগের পরিচালক মার্ক ডিজায়ার বলেন, হাড়ের টুকরা নিয়ে এ ধরনের কাজ করা সবচেয়ে কঠিন। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো, ঘটনার পর এসব হাড়েরর টুকরা বিস্ফোরণের প্রচণ্ড তাপমাত্রার আগুনে পুড়েছে। সংস্পর্শে এসেছে ব্যাকটেরিয়া, ডিজেল, জেট ফুয়েল ও সূর্যের তাপের। এত কিছুর পর একটা হাড়ের টুকরায় ডিএনের নমুনা থাকার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়।

গবেষকরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে তাঁরা মোট ২২ হাজার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছিলেন। এগুলোর একেকটি এরই মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁরা জানান, নিহত দুই হাজার ৭৫৩ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৬৪২ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। বাকি এক হাজার ১০০ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে গবেষকরা ১৭ বছর পরও হাল ছাড়েননি। ডিজায়ার বলেন, ২০০১ সালে আমরা যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেছি, এখনো সেই পদ্ধতিতেই করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটেছে। এ প্রকল্পে মার্কিন সরকারের বরাদ্দ কত, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। শুধু জানিয়েছেন, তাঁদের গবেষণাগারটি উত্তর আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক।

গবেষকরা প্রায় এক বছর পর গত জুলাইয়ে সর্বশেষ একজনের পরিচয় শনাক্ত করেন। তাঁর নাম স্কট মাইকেল। ২৬ বছর বয়সী এই অর্থনীতি বিশ্লেষক কাজ করতেন সাউথ টাওয়ারের ৮৯তম ফ্লোরে।

গবেষক দলের সদস্য ভেরোনিকা ক্যানো বলেন, কাজের সময় আমাদের মনোবল শক্ত রাখার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা প্রায়ই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। কারণ ৯/১১-এর ওই ঘটনা কোনো না কোনোভাবে আমাদের স্পর্শ করে। তার পরও এ গবেষণা আমি উপভোগ করি। কারণ আমার কাছে মনে হয়, নিহত স্বজনের অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর জন্য আমি কিছু একটা করছি। সূত্র : এএফপি।

দেশে দেশে- এর আরো খবর