English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বিশ্লেষকদের অভিমত

চীনের সিল্ক রোডের ঋণের ফাঁদে বহু দেশ

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

এশিয়া-ইউরোপ-আফ্রিকায় চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড শীর্ষক মহাযজ্ঞ সম্পন্ন করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বটে, তবে অভিযোগ উঠেছে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের কাছ নেওয়া ঋণের চাপে পিষ্ট হচ্ছে অনেক দেশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০১৩ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন, যা সিল্ক রোড নামেও পরিচিত। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে শত শত কোটি ডলার ঋণ দিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীন। এর মধ্য দিয়ে চীন আসলে ঋণের ফাঁদ তৈরি করেছে এবং চীনের এ ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা অনেক দেশের নেই, এমন অভিযোগের জবাবে চিনপিং বলেন, এটা তো চায়না ক্লাব নয়। বরং চীনের এ প্রকল্প উন্মুক্ত ও সর্বব্যাপী, এমন মন্তব্য করেন চীনের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি আরো জানান, প্রকল্পভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য পাঁচ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই সব দেশে সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ ছয় হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। কিন্তু অঙ্কটা এতটা বেশি কি না, সেটা নিয়ে সমালোচকদের অনেকের সন্দেহ আছে।

মালদ্বীপের নির্বাসিত বিরোধীদলীয় নেতা মোহামেদ নাশিদ চীনের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও ঔপনিবেশিকতার অভিযোগ করেছেন। চীনের কাছ থেকে প্রচুর ঋণ নেওয়ার কারণে এরই মধ্যে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। ১৪০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্পের জন্য চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় শ্রীলঙ্কা গত বছর তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর ৯৯ বছরের জন্য চীনের কাছে ইজারা দিতে বাধ্য হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট বলছে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের আওতায় ঋণ গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে আটটি দেশের ব্যাপারে সংস্থাটি মারাত্মক উদ্বিগ্ন। এ আটটি দেশের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, জিবুতি, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, লাওস, মন্টেনিগ্রো, তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান। উদাহরণ হিসেবে সংস্থাটি ৬৭০ কোটি ডলারের চীন-লাওস রেলওয়ে প্রকল্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে। অঙ্কটা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মোট জিডিপির প্রায় অর্ধেক। জিবুতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ সংস্থা জানায়, দেশটির সরকারি ঋণ ২০১৪ সালে ছিল ৫০ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৮৫ শতাংশে দাঁড়ায়।

পশ্চিমা বিশ্লেষকদের এসব বক্তব্য মানতে নারাজ চীন। নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো থেকে অর্থ আসলে সেটাকে ভালো আর মধুর বলে প্রশংসা করা হয়, অথচ চীন থেকে আসলে সেই অর্থ ভয়ানক আর ফাঁদ হয়ে ওঠে। এটা অযৌক্তিক। ঋণ দেওয়ার নামে চীন অংশীদারদের ঘাড়ে গুরুভার চাপিয়ে দিচ্ছে, এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে দেওয়া ঋণের ব্যাপারে তাঁর দাবি, দেশ দুটির বিদেশি ঋণের খুব সামান্য একটা অংশ চীন থেকে নেওয়া।

জে ক্যাপিটাল রিসার্চের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও গবেষণা পরিচালক অ্যানি স্টিভেনসন ইয়াং জানান, চীন ডলারসংশ্লিষ্ট নীতিমালায় ঋণ দেয়। আদতে আর্থিক ঋণ না দিয়ে তারা ট্রাক্টর, কয়লা, প্রকৌশলগত সহযোগিতা আর এ রকম কিছু জিনিস দেয়। কিন্তু ঋণ পরিশোধের সময় চীন সেটা মুদ্রায় ফেরত চায়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লগার্দে চীনের মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেওয়া ঋণের ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছেন আরো আগে। গত এপ্রিলে তিনি এ বিষয়ে আরো স্বচ্ছতা আনার পক্ষে কথা বলেছিলেন। চীনের দেওয়া ঋণের ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, এটা বিনা মূল্যের খাবার নয়। এটা এমন এক জিনিস, যেখানে প্রত্যেকে পিষ্ট হয়। সূত্র : এএফপি।

দেশে দেশে- এর আরো খবর