English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ড

সু চির নীরবতার সমর্থনে মিয়ানমার সরকার

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। তাদের মুক্তির দাবি তুলেছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এত কিছুর মধ্যেও নীরব এক সময়ের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হিসেবে পরিচিত অং সান সু চি। এখন অবশ্য তিনি মিয়ানমারের বেসামরিক নেতা। গত সোমবার রায় দেওয়ার পর দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ড নিয়ে যতটা সমালোচনা হয়েছে ঠিক ততটাই হয়েছে সু চির চুপ করে থাকা নিয়ে। সমালোচনার মুখেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে সু চির চুপ থাকা নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বলা হয়, সু চি রায়ের সমালোচনা করবেন না।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সামরিক অভিযান নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ি ও-কে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানের পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ইয়াঙ্গুনের একটি আদালত গত সোমবার এই দুই সাংবাদিককে সরকারি গোপনীয়তার আইনে দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন।

সু চি নিজে গৃহবন্দি ছিলেন প্রায় ১৫ বছর। সে সময় নিজের দুর্দশার কথা জানাতে তিনি বিদেশি গণমাধ্যমের সহায়তা নেন। তাঁর নিজ দেশে সাংবাদিকদের কারাদণ্ডের ব্যাপারে সু চির অবস্থান অন্য কিছু হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। এবারের নীরবতা তাঁর ভাবমূর্তিতে আবারও কালি ঢেলে দিল।

এই কালির রং হালকা করতেই গতকাল দেশটির উপতথ্যমন্ত্রী অং হ্লা তুন মাঠে নামেন। তিনিও একসময় রয়টার্সের সাংবাদিক ছিলেন। তুন বলেন, বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে। আমার মনে হয় না তিনি এমন কিছু করবেন।

ওই দুই সাংবাদিকের আইনজীবী আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আপিল করবেন। এই আপিল নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস লেগে যাবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট তাঁদের ক্ষমা করতে পারেন তবে তেমন সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। গত এপ্রিলে সাধারণ ক্ষমার আওতায় সাড়ে আট হাজার বন্দিকে মুক্তি দেয় মিয়ানমার সরকার। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন ছিলেন রাজনৈতিক বন্দি। এমন আরো প্রায় ২০০ জন বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকও আছেন। তবে তাঁদের ব্যাপারে সু চির মনোভাব অতীত থেকেই ইতিবাচক ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন কিছুদিন আগেও সু চির বন্ধু হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তিনি জানান, দুই সাংবাদিকের দুর্দশা নিয়ে সু চির সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল ক্ষুব্ধ। সু চি ওই সাংবাদিকদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে অভিহিত করেন। সূত্র : এএফপি।

দেশে দেশে- এর আরো খবর