English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ফিলিস্তিনে মার্কিন সহায়তা বন্ধ

আরো আগ্রাসী হবে ইসরায়েল ঝুঁকিতে পড়বে শান্তিপ্রক্রিয়া

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ছবি: ইন্টারনেট

ফিলিস্তিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা বন্ধ করার ঘটনা ইসরায়েলের আগ্রাসী তৎপরতাকে আরো উসকে দেবে। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়বে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা।

যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার ঘোষণা করে, জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত সংস্থাকে (ইউএনআরডাব্লিউএ) তারা আর কোনো সাহায্য দেবে না। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ফিলিস্তিনের আরেকটি সাহায্য সংস্থাকে দেওয়া ২০ কোটি ডলার তহবিল কাটছাঁটের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

ইসরায়েলকে তোষামোদ করে ট্রাম্প সরকারের ধারাবাহিকভাবে নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। ফিলিস্তিন এই সিদ্ধান্তকে নিষ্ঠুর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করলেও ইসরায়েল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীন দেশের প্রত্যাশা আরেকটু মেঘের আড়ালে সরে গেল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

তহবিল বন্ধের ঘোষণা এমন সময় এলো যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দারিদ্র্যপীড়িত গাজা ভূখণ্ডে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এত দিন পর্যন্ত ইউএনআরডাব্লিউএর সবচেয়ে বড় তহবিলের জোগানদাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বছরে ৩৫ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তা দিত তারা। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল সৃষ্টির সময় যে যুদ্ধ হয় সে সময় পালিয়ে আসা লোকজনকে জাতিসংঘের এই সংস্থা থেকে সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির দিকটি হচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা তাদের শরণার্থী মর্যাদা তাদের সন্তানদেরও দিচ্ছে। দেশ দুটি চায় ইউএনআরডাব্লিউএর শরণার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইএসএইডকে দেওয়া সহায়তাও বন্ধ করে দেয়। সংস্থাটিকে প্রতিবছর ২০ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তা দেওয়া হতো। গত ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় গত মে মাসে মার্কিন দূতাবাসও তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই সময় এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে কয়েক শ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

এ ছাড়া ইসরায়েলবিরোধী যেকোনো প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেবে বলে নিশ্চয়তা দিয়ে রেখেছে আরো আগে থেকেই। এক ইউরোপীয় কূটনীতিক গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থান সম্পর্কে বলেন, ইসরায়েলের সবচেয়ে ডানপন্থী সরকার হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এ ব্যবস্থায় আরো উৎসাহিত হবে। এরই মধ্যে ইসরায়েল তাদের বসতি বাড়িয়েছে এবং পশ্চিমতীরে তাদের দখলদারিত্ব বাড়ানোর পক্ষেও যুক্তি দিতে শুরু করেছে।

ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক থেকে বিশ্লেষক হয়ে ওঠা অ্যালেন বাকের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে ইসরায়েল উচ্ছ্বসিত। তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনিদের আলোচনার টেবিলে ফেরাতে তহবিল বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও অনেকেই মনে করেন এটা সম্ভব নয়। কারণ তহলিব বন্ধের অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু নিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে আপনি আর থাকছেন না। কাজেই আপনার গুরুত্ব কমছে।

তা ছাড়া এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ফিলিস্তিনের সরকারের ওপর পড়বে না। বলছিলেন ফিলিস্তিনের অর্থনীতিবিদ নাসের আবদেল কারিম। ফিলিস্তিন সরকারকে সরাসরি কোনো আর্থিক সহায়তা করে না যুক্তরাষ্ট্র। যদিও সাহায্য বন্ধে ফিলিস্তিনিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু এর চাপ সরকারের ওপর পড়বে না।

ফিলিস্তিন গবেষণা সংস্থা আল-শাবাকার সভাপতি নাদিয়া হিজাব বলেন, মধ্যস্থতা আলোচনার বিষয়টি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে খুবই অজনপ্রিয়। একই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি, যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থন পাওয়া অব্যাহত রাখতে বসতি স্থাপনও বাড়িয়ে চলবে ইসরায়েল।

সূত্র : এএফপি।

দেশে দেশে- এর আরো খবর